#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৩১
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
রাত এগারোটা। জেনিন নুরশাদ তার রুমের বেলকনিতে বসে কিছু অফিসিয়াল কাজ করছিল। ইদানিং সে অফিসে যায় না। বলতে গেলে নোবারাকে নিজের করে পাওয়ার পর থেকে তার এ অনিয়ম শুরু হয়েছে। কিছু না কিছু বাহানা দিয়ে ভিলায় নোবারার কাছেই থাকে। হঠাৎ সে জানলার কাঁচের ওপারে তাকাল। দূরে শহরের নীল-লাল আলো দেখা যাচ্ছে। যা তার কাছে মোটেও স্বাভাবিক মনে হলো না।
“ইউজি!” জেনিন নিচু স্বরে চিৎকার করল।
এক সেকেন্ডের মধ্যে ইউজি ঘরে ঢুকল। ইউজির পরনে কালো কম্ব্যাট ড্রেস, হাতে একটি ট্যাব। “বস, কিরারা হাইজেন আমাদের ভিলার রেডিয়াস থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। নানামি স্যার তার সাথে আছেন। তারা এই ভিলার ম্যাপ পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নোবারা স্তম্ভিত হয়ে গেল। তার বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তবে কি আজই সেই দিন? আজ কি সব শেষ হয়ে যাবে?
জেনিন ইউজির দিকে না তাকিয়েই বলল, “নোবারাকে সেফ রুমে নিয়ে যাও। আর আমার মাস্কটা আনো। আজ রাতে জেনিন নূরশাদ থাকবে না, আজ রাতে শুধু ‘Z’ থাকবে।”
নোবারা জেনিনের হাতটা ধরল। “জেনিন, না! আপনি পালাবেন না!”
জেনিন নোবারার দিকে ফিরল। সে নোবারার গালটা আলতো করে টিপে দিয়ে হাসল। “পালালে তো আমি সাধারণ মানুষ হয়ে যেতাম নোবারা। আমি জেড। আর জেড কখনো পালায় না, সে শিকার করে। আপনি সেফ রুমে যান। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, সকালের আলো ফোটার আগে আমি আপনার কাছে ফিরে আসব।”
জেনিন নোবারাকে আবার জড়িয়ে ধরল। এক নিবিড়, দীর্ঘ আলিঙ্গন। যেন এই শরীরের স্পর্শ সে অমর করে নিতে চায়।
ইউজি নোবারাকে একরকম জোর করেই ঘর থেকে নিয়ে গেল। নোবারা যাওয়ার সময় শেষবারের মতো পেছনে তাকাল। সে দেখল জেনিন তার সেই ভয়ংকর কালো মাস্কটা হাতে তুলছে। বারান্দার ওপাশ থেকে ড্রোনের গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছে। কিরারা হাইজেনের ফোর্স পৌঁছে গেছে।
জেনিন তার মাস্কটা মুখে পরল। এখন সে আর সেন্ট জুড স্কুলের সেই জেনিন নয়। এখন সে এক আতঙ্ক। সে জানে নানামি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সে জানে নানামি তাকে চেনার চেষ্টা করবে। কিন্তু জেনিন আজ নিজেকে চিনতে দেবে না। সে এই রহস্যটা নিয়েই চিরতরে বিদায় হতে চায়।
এদিকে নুরশাদ ভিলার সীমানা প্রাচীরজুড়ে অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড লেজার সেন্সর এবং হাই-ডেফিনিশন থার্মাল ক্যামেরা বসানো। চারদিকে জেনিনের নিজস্ব ‘এলিট ফোর’, নিঃশব্দে টহল দিচ্ছে। ভিলার মূল ফটকে দাঁড়িয়ে আছে জেনিনের ব্যক্তিগত বাহিনীর প্রধান, যে প্রতিটি আগন্তুককে স্ক্যান না করে ভেতরে ঢুকতে দেয় না।
রাত যখন বারোটা, তখন ভিলার গেটের সামনে পুলিশের সাইরেন ছাড়াই এসে থামল দশটি কালো এসইউভি। গাড়ি থেকে দ্রুতলয়ে নেমে এল নানামি জায়দান এবং কিরারা হাইজেন। কিরারার হাতে ডিজিটাল সার্চ ওয়ারেন্ট এবং তার টিমের পিঠে ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন উইং’ লেখা জ্যাকেট।
কিরারা গেটের কাছে গিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “আমরা পুলিস ডিপার্টমেন্ট থেকে আসছি। মিস্টার জেনিন নূরশাদের সাথে কথা বলা জরুরি। আমাদের কাছে ইনফরমেশন আছে এই এলাকাতেই কোনো এক সন্দেহভাজন লুকিয়ে আছে।”
গেটের সিকিউরিটি ইন-চার্জ খুব শান্তভাবে কিরারার ওয়ারেন্ট চেক করল। সে একটুও বিচলিত হলো না। “ম্যাম, মিস্টার নূরশাদ একজন সম্মানিত নাগরিক। আপনি ভেতরে আসতে পারেন, কিন্তু আপনার সশস্ত্র ফোর্স বাইরে থাকবে। কেবল আপনি এবং এসি নানামি প্রবেশ করতে পারেন।”
কিরারা রাগে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু নানামি তার কাঁধে হাত রাখল। “ঠিক আছে। আমরা দুজনই যাব। কিরারা, এখানে ঝামেলা করলে আইনি জটিলতা বাড়বে।”
যখন নানামি আর কিরারা ভিলার বিশাল লিভিং রুমে ঢুকল, তারা স্তব্ধ হয়ে গেল। ঘরটি কোনো অপরাধীর আস্তানা নয়, বরং এটি একটি মিউজিয়ামের মতো আভিজাত্যে ভরা। দেয়ালে দামী অরিজিনাল পেন্টিং, মেঝেতে পারস্যের গালিচা।
সোফায় বসে আছে জেনিন নূরশাদ। সে হঠাৎই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জেড সত্ত্বাটা আড়াল করেছে এবং সেই মাস্ক না পরে এখন স্বাভাবিক মানুষের মতো বসে আছে। তার চোখে এক্সপেনসিভ রিমন সানগ্লাস। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইউজি, যে এখন জেনিনের একান্ত সচিবের মতো আচরণ করছে। আর ঘরের চার কোণে রোবটের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জেনিনের সেই ‘এলিট ফোর’ বডিগার্ড। তাদের উপস্থিতিতেই রুমের বাতাস ভারী হয়ে আছে।
জেনিন ধীর পায়ে উঠে দাঁড়ালো। তার মুখে এক অমায়িক কিন্তু তীক্ষ্ণ হাসি। “জায়দান! তুই এই রাতে আমার বাড়িতে?”
নানামি জেনিনকে দেখে একটু থমকে গেল। সে জানতো জেনিন লন্ডন থেকে ফিরে এসেছে। নুরশাদ ইন্ড্রাস্ট্রির সিইও হিসেবে। তবুও নানামি জেনিনের সাথে দেখা করেনি। পনেরোটা বছর সে কত চেষ্টা করেছে জেনিনের খোঁজ পাওয়ার, জেনিনের গলায় তার জায়দান নাম শুনার। অথচ আজ যখন জেনিন জায়দান বলে তাকে ডাকছে, নানামির যেন কোন টানই অনুভূত হচ্ছে না। সে তার ইউনিফর্ম এর নিচে নিজের সকল আবেগ চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে। নয়তো এই মুহূর্তে তার কেবল জেনিনকে সজোরে জাপটে ধরতেই ইচ্ছে করছে।
নানামি তৎক্ষণাৎ নিজের পেশাদারিত্ব মনে করলো এবং গলার স্বর খাদে নামিয়ে বললো,
“দুঃখিত এভাবে আসার জন্য। কিন্তু মিস কিরারার ট্র্যাকার বলছে ‘জেড’ বা তার কোনো লোক এই ভিলার রেডিয়াসে আছে। আমরা সেটাই চেক করতে এসেছি মি: নুরশাদ।”
কিরারা জেনিনের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল। সে জেনিনকে চেনে না, কিন্তু তার সিক্সথ সেন্স বলছে এই লোকটির মধ্যে এক অসীম গভীরতা আছে। জেনিনের এই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং প্রগাঢ় উপস্থিতি কিরারাকে ভাবিয়ে তুলছে। কিরারা তার ট্র্যাকারটা টেবিলের ওপর রাখল।
“মি: নূরশাদ, আমার ট্র্যাকার সিগন্যাল আপনার পেছনের বাগানে গিয়ে শেষ হয়েছে। আমাদের তল্লাশি করতে হবে।”
জেনিন উচ্চস্বরে হেসে উঠল। “অবশ্যই অফিসার! ইউজি, অফিসারদের বাগানে নিয়ে যাও। আমার বাগান খুব শখের, আশা করি গাছগুলোর ক্ষতি করবেন না।”
ইউজি কিরারাকে নিয়ে বাগানে গেল। সেখানে জেনিনের এলিট ফোর্সের কর্মীরা কুকুর নিয়ে টহল দিচ্ছে। কিরারা দেখল সিগন্যালটা একটি ড্রেন পাইপের ভেতরে গিয়ে আটকে আছে। সে পাইপ থেকে একটা ছোট চিপ উদ্ধার করল।
“এটা কি আপনার, মিস্টার নূরশাদ?” কিরারা চিপটা জেনিনের দিকে ছুড়ে দিল।
জেনিন চিপটা হাতে নিয়ে একটু ভাবল। অতঃপর খুব কৌশলে উত্তর দিল,
“দেখুন অফিসার, কেউ হয়তো আমার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। নাহলে এটা আমার নয়। বিকজ জেনিন নুরশাদের চিপ যেখানে সেখানে পড়ে থাকে না। ইটস টু মাচ রেয়ার।”
কিরারা বুঝতে পারল সে এক চরম চতুর মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। জেনিন নিজেই ভিকটিম সেজে বসে আছে। অপরদিকে নানামি অসহায় বোধ করছিল। কিন্তু কিরারার সামনে সে প্রকাশ করলো না।
কিরারা আর নানামি যখন ভিলা থেকে বের হয়ে এল, তারা সম্পূর্ণ শূন্য হাতে ফিরল। জেনিন তার এলিট ফোরকে দিয়ে এমন এক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল যে পুলিশ সেখানে কোনো ত্রুটি খুঁজে পায়নি। নানামি বারবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছিল জেনিনের দিকে। তার আন্দাজ সত্যি হওয়ার পথেই। জেড আর জেনিনের চোখ দুটোই আজ মেলাতে পেরেছে সে। এবার প্রমাণ করার পালা। হয়তো নিজ হাতেই নিজের আত্মার বন্ধুর হাতে হাতকড়া পরাতে হবে তার! এই ভেবে নানামির বুকটা ধক করে উঠল যেন!
পুলিশ যাওয়ার পর জেনিন তার ড্রয়িংরুমের লাইটগুলো নিভিয়ে দিল। সে গ্লাসে রেড ওয়াইন ঢালল। ইউজি তার সামনে এসে দাঁড়ালো।
“বস, কিরারা হাইজেন মেয়েটা কিন্তু বিপজ্জনক। ও চিপটা পেয়েছে,” ইউজি বলল।
“জানি। ওটা আমিই ওখানে রেখেছিলাম। ওকে একটা হাড় দিয়েছি যাতে ও সেটা নিয়ে কামড়াক আর আসল খেলাটা ভুলে যায়। নানামি আমার বন্ধু হতে পারে, কিন্তু আইনের ড্রেসে সে আমার শত্রু। ওদের এখন বিভ্রান্ত করাই আমাদের কাজ,”
জেনিনের কণ্ঠস্বর এখন পাথরের মতো শক্ত। সে নানামির উপস্থিতিতে দুর্বল হলেও নিজের আবেগের উপর তার সম্পূর্ণ দখল আছে। তাই তো আজ নুরশাদ হয়ে তার জায়দানকে সামনাসামনি দেখার পরও সে এতো শান্ত হয়ে বসে আছে!
জেনিন এবার সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। তার নূরাকে খুব মনে পড়ছে, যেন কতকাল দেখেনি তার বউটা কে! জেনিনের দীর্ঘদেহী অবয়বটা ভিলার ঝাড়লণ্ঠনের আলোয় এক দীর্ঘ ছায়া ফেলল মেঝেতে। সে অনুভব করেছে, দোতলার অন্ধকার বারান্দার কোণে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। কেউ একজন, যার নিঃশ্বাসের শব্দ সে শত ভিড়ের মাঝেও চিনতে পারে।
নোবারা যখন সেফ রুম থেকে বেরিয়ে এল, তার বুকটা অপমানে আর এক অজানা আশঙ্কায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। সে দূর থেকে দেখেছে, জেনিন নূরশাদ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন নারী অফিসার কিরারা হাইজেনের দিকে তাকিয়ে কীভাবে বাঁকা হেসে কথা বলছিল। যদিও সেই হাসি ছিল তাচ্ছিল্যের, জেনিনের পরিচিত অহংকারের প্রতিফলন, কিন্তু নোবারার চোখে সেটা বিষের মতো বিঁধল। কেন জেনিন অতটা সময় নিয়ে তার সাথে কথা বলল? কেন তার দৃষ্টিতে ওই মেয়েটির জন্য এক মুহূর্তের জন্যও হলেও কৌতূহল ছিল?
জেনিন সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আসছে। প্রতিটি ধাপের শব্দ নোবারার কানে হাতুড়ির মতো বাজছে। জেনিন যখন করিডোরে এসে দাঁড়ালো, দেখল নোবারা দেয়ালের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখটা অভিমানে গোল হয়ে ফুলে আছে, নাকটা লাল হয়ে গিয়েছে এবং চোখ দুটো ছলছল করছে। জেনিন যখনই নোবারাকে দেখে তখন ঠিক এভাবেই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করেই দেখে। যেন সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং নিখুঁত সৃষ্ট কিছু দেখছে!
“নূরা? এখনো জেগে আছেন?” জেনিন খুব শান্ত গলায় প্রশ্ন করল। সে এগুতে চাইল নোবারার দিকে, কিন্তু নোবারা এক পা পিছিয়ে গেল।
জেনিনের কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ল। সে বুঝতে পারছে কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। “কী হলো আমার বউয়ের!”
নোবারা কোনো কথা বলল না। সে জেনিনকে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমের দিকে প্রায় দৌড়ে চলে গেল। জেনিন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল এক মুহূর্ত। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে জানে, এই মেয়েটি তাকে ধ্বংস করার ড্রাইভ নিয়ে ঘোরে, অথচ এখন তার এই আচরণ একদমই অন্যরকম। এটা কি অভিনয়, নাকি হৃদয়ের কোনো অবাধ্য টান?
জেনিন ধীর পায়ে তাদের রুমে ঢুকল। নোবারা তখন জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে। জেনিন পেছন থেকে গিয়ে তার কাঁধে হাত রাখল।
“হাত সরান!” নোবারার কণ্ঠস্বর তীক্ষ্ণ শোনাল।
জেনিন অবাক হওয়ার ভান করল। “আরে! আমার ওপর রাগ? কেন? আমি কি করেছি?”
নোবারা ঘুরে দাঁড়ালো। তার চোখে আগুন। “আপনি ওই ফিমেইল অফিসারের সাথে অত হেসে হেসে কথা বলছিলেন কেন? খুব কি ভালো লাগছিল তার চতুরতা দেখতে? তাই না?”
জেনিন চোখ বড় বড় করে নোবারার দিকে তাকিয়ে রইল। এসব কি বলছে মেয়েটা! সে কখন কিরারা না ফিরারা মেয়েটার সাথে হেসে কথা বলেছে? সে তো পারেনি মেয়েটাকে গুলি মেরে উড়িয়ে দিতে।
জেনিন কিছু না বলায় নোবারা মুখ ভেংচি কেটে আবারো ঘাড় ঘুরিয়ে নিল। জেনিনের অবশ্য এতোক্ষণে মাথায় ঢুকেছে যে, তার বউ আর পাঁচটা বাঙালি বউয়ের মতো নিজের স্বামী নিয়ে সংবেদনশীল। তাতে কি জেনিনের ভালো লাগলো? হয়তো! নোবারা তো এতোদিন ইউজি কে ঈর্ষা করতো, আজ তাহলে পরনারী কেও!
জেনিন বাঁকা হেসে নোবারাকে জোর করে নিজের দিকে ঘুরালো। আপাদমস্তক মেয়েটাকে দেখল। এখনো চোখ দুটো ছলছল করছে। যেন একটু ফাঁকা পেলেই বাঁধ ভেঙে পানি গড়িয়ে পড়বে! জেনিন নোবারার চিবুক আলতো করে তুলে বললো,
“So my bloodrose is jealous! আপনি কি ওই কিরারা হাইজেনের কথা বলছেন? যে আমাকে হাতকড়া পরাতে এসে এক টুকরো খেলনা চিপ নিয়ে ফিরে গেল?”
“আমি জানি না সে কী নিয়ে গেছে!” নোবারার গলা ধরে এল। “কিন্তু আপনার দৃষ্টি… আপনার কথা বলার ধরন… আমার সহ্য হচ্ছিল না। মেয়েটার সাথে এতো কথা না বললেই পারতেন!”
জেনিন এক ঝটকায় নোবারাকে নিজের খুব কাছে টেনে নিল। নোবারার পিঠ গিয়ে ঠেকল আলমারির গায়ে। জেনিন তার দুহাত নোবারার দুপাশে রেখে তাকে বন্দি করে ফেলল। তাদের নিশ্বাস এখন একে অপরের মুখে লাগছে।
“শুনুন নোবারা” জেনিন নিচু স্বরে বলল, যা নোবারার কানে শিহরণ ধরিয়ে দিল। “জেনিন নূরশাদ যখন হাসে, তখন তার পেছনে হাজারো মানে থাকে। কিরারার সাথে আমার সেই হাসিটা ছিল যুদ্ধের। আমি তাকে দেখাচ্ছিলাম যে সে কতটা নগণ্য। কিন্তু আপনার সামনে আমি যখন হাসি, তখন আমার ভেতরে কোনো দেয়াল থাকে না। আপনি কি সত্যিই মনে করেন ওই সাধারণ এক পুলিশ অফিসারের সাথে আমার নূরপরীর তুলনা হয়?”
নোবারা জেনিনের চোখের দিকে তাকালো। সেই উগ্র ভালোবাসা আর অধিকারবোধে ঠাসা দৃষ্টি। নোবারার ভেতরের সব প্রতিরোধ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। সে চেয়েছিল জেনিনকে ঘৃণা করতে, চেয়েছিল তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে। কিন্তু এই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছে, জেনিন অন্য কারোর দিকে তাকালে তার পৃথিবীটা ছাই হয়ে যাবে। এমনটা কেন হচ্ছে তার সাথে? নোবারার নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হলো। কিন্তু জেনিনের সাথে তো তার অন্য কোন মেয়েকে সহ্যই হচ্ছিল না। একদিকে তার পেশা, অন্যদিকে তার সংসার। সে নিজেকে জোর করে বুঝাতে চেয়েও পারলো না যে সে যা করছে তা খারাপ। তার এভাবে জেলাস হওয়া মানায় না। কিন্তু নোবারা পারলো না। আজ তার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না নোবারা আকারি।
সাথে সাথেই নোবারার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল ও গড়িয়ে পড়ল। সে অস্ফুট স্বরে, প্রায় নিজের অজান্তেই বলে উঠল,
“আস্তাগফিরুল্লাহ! আমি… আমি আপনার প্রেমে পড়ে গেছি মি: নূরশাদ!”
কথাটা বলার সাথে সাথেই নোবারা নিজের মুখ চেপে ধরল। সে কী বলল এটা? সে কি তার লক্ষ্য ভুলে গেল? সে কি সেই খুনি, সেই মাফিয়া ডনের প্রেমে পড়ার স্বীকারোক্তি দিল যাকে সে ধ্বংস করতে চায়?
অপরদিকে নোবারার মুখ থেকে ওই একটা বাক্য বের হওয়া মাত্রই যেন ভিলার চারপাশের সময় থমকে গেল। জেনিনের কানে শব্দগুলো কোনো দৈববাণীর মতো প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
জেনিন প্রথমে কয়েক সেকেন্ডের জন্য পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে রইল। তার চোখের মণি দুটো বড় হয়ে গেল, সেখানে বিস্ময় আর এক তীব্র ঘোরের খেলা। পরক্ষণেই তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটল, যা ধীরে ধীরে এক পাগলাটে অট্টহাসিতে রূপ নিল।
জেনিন হাসছে, অথচ তার চোখে জল। পনেরো বছরের সেই একাকীত্ব, লন্ডনের সেই কনকনে ঠান্ডা রাতগুলোর হাহাকার, আর মাফিয়া সাম্রাজ্যের এই রক্তমাখা সিংহাসন—সবই যেন এই এক মুহূর্তে ধুয়ে মুছে গেল।
“নূরা… আপনি কি আরেকবার বলবেন? প্লিজ নূরা!” জেনিনের কণ্ঠস্বর কাঁপছে, যা তার ইতিহাসে এই প্রথম।
নোবারা মাথা নাড়ল, সে কাঁদছে। “না, এটা ভুল। এটা হওয়া উচিত ছিল না। আপনি একজন অপরাধী, আপনি অন্ধকার জগতের মানুষ! আর আমি… আমি কেন আপনার জন্য কষ্ট পাচ্ছি?”
জেনিন নোবারার চোখের জল নিজের ঠোঁট দিয়ে মুছে দিল। তার স্পর্শ আজ অবিশ্বাস্য রকমের কোমল। “অপরাধী কি ভালোবাসতে পারে না নূরা? আমি অন্ধকার জগতের মানুষ বলেই তো আলোর মূল্য আপনার কাছে বেশি।”
জেনিন এবার চরম খুশিতে নোবারাকে এক ঝটকায় নিজের পাজাকোলে তুলে নিল। নোবারা অপ্রস্তুত হয়ে জেনিনের গলা জড়িয়ে ধরল। জেনিন তাকে নিয়ে রুমের মাঝখানে বনবন করে ঘুরতে শুরু করল। তার এই উন্মাদনা দেখে মনেই হচ্ছে না সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই ত্রাস ‘Z’। সে এখন কেবল এক কিশোর, যে তার আজন্মের কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারটি হাতে পেয়েছে।
“জেনিন! ছাড়ুন! মাথা ঘুরছে আমার!” নোবারা হাসছে আর কাঁদছে একসাথে।
জেনিন তাকে নামাল না। বরং তাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে পিষে ফেলল। সে নোবারার কপালে, গালে, চোখে পাগলের মতো চুমু খেতে লাগল। তার প্রতিটি আদরে ছিল এক ধরণের অধিকারবোধ আর সীমাহীন কৃতজ্ঞতা।
“আপনি জানেন না আপনি আমাকে কী দিলেন নূরা!” জেনিন নোবারার কানের কাছে মুখ নিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাসে ফিসফিস করে বলল। “আজ থেকে এই জেনিন নূরশাদ আপনার দাস। আপনি যদি বলেন এই মুহূর্তে পুরো সাম্রাজ্য জ্বালিয়ে দিতে, আমি এক সেকেন্ডও ভাবব না। আপনি আমার অন্ধকার জীবনে পূর্ণিমা নিয়ে এসেছেন।”
জেনিন নোবারাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার ওপর ঝুঁকে এল। তার চোখের দৃষ্টিতে আজ এক উগ্র নেশা। সে নোবারার হাতের তালুতে নিজের মুখ ঘষতে ঘষতে বলতে লাগল,
“আমি জানতাম! আমার সিক্সথ সেন্স বলছিল আপনি আমায় ঘৃণা করতে পারবেন না। এই যে আপনি আমাকে ধ্বংস করার জন্য ওই ড্রাইভটা নিয়ে ঘুরছেন, ওই যে পুলিশের সাথে হাত মিলিয়েছেন, সবই তুচ্ছ হয়ে গেল এই এক স্বীকারোক্তিতে। আপনি কি জানেন? আপনি এখন চাইলেও আমাকে পুলিশে দিতে পারবেন না। কারণ আপনার হৃদয় এখন আমার জিম্মি।”
নোবারা চমকে উঠল। জেনিন তবে জানে? সে সব জেনেও এতদিন চুপ ছিল? নোবারার অপরাধবোধ আর প্রেম যেন একাকার হয়ে গেল। সে জেনিনের মুখটা নিজের দুহাতে ধরল।
“আপনি জানতেন? তবুও আমাকে এত আদর করছেন? কেন জেনিন?”
জেনিন নোবারার ঠোঁটের খুব কাছে গিয়ে থামল। তার ঠোঁট কাঁপছে এক অব্যক্ত আবেগে। “কারণ আমি জেনিন নূরশাদ। আমি বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করি না, কিন্তু আপনার করা বিশ্বাসঘাতকতাও আমার কাছে প্রেমের এক একটা ধাপ মনে হয়। আপনি আমাকে মারতে চেয়েছিলেন? মারুন। কিন্তু ওই প্রেমের কথাটা মিথ্যে বলবেন না, প্লিজ!”
নোবার হালকা হেসে জেনিনের বুকে কিল বসিয়ে দিল! জেনিন এআর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে নোবারার গলায় নিজের মুখ ডোবাল। তার দীর্ঘদিনের জমানো সব তৃষ্ণা যেন আজ বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এল। সে নোবারার কানের লতিতে কামড় দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“Zindagi toh sirf ek saans thi ab tak,
Tumne ishq keh kar ise rooh de di!”
জেনিনের এই উন্মাদনা নোবারাকে এক অন্য জগতে নিয়ে গেল। সে অনুভব করল, জেনিন তাকে কতটা তীব্রভাবে চায়। জেনিন তার সারা শরীরে নিজের প্রেমের ছাপ এঁকে দিতে চাইল। সে নোবারার আঙুলের ডগা থেকে শুরু করে তার প্রতিটি চুলে নিজের স্পর্শ রেখে যেতে লাগল। জেনিন যেন আজ এক দাতা, যে তার সবটুকু সাম্রাজ্য নোবারার পায়ের কাছে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত।
নোবারা জেনিনের বুকে মাথা রাখল। সে বুঝতে পারছে, জেনিন আজ খুশিতে আত্মহারা। জেনিন তাকে এত বেশি ভালোবেসে ফেলেছে যে নোবারার সব ভুল, সব ষড়যন্ত্র সে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে।
জেনিন নোবারার চুলে মুখ গুঁজে দিয়ে বিড়বিড় করল, “ধন্যবাদ নূরা। এই অন্ধকার মানুষটাকে ভালোবাসার সাহস দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। আপনি আজ জেনিন নূরশাদকে জিতে নিয়েছেন।”
রাতভর জেনিন নোবারাকে এক মুহূর্তের জন্যও কাছছাড়া করল না। সে যেন ভয় পাচ্ছিল, যদি চোখ সরালে এই সুন্দর মুহূর্তটা হারিয়ে যায়। তার সেই খুশির উন্মাদনা ভিলার দেয়াল ছাপিয়ে বাইরের ওই অন্ধকার আকাশকেও যেন হার মানাচ্ছিল। জেনিন নূরশাদ আজ মাফিয়া ডন নয়, সে আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাগ্যবান প্রেমিক।
ওদিকে নোবারা যখন জেনিনের বাহুবন্দি হয়ে তার হৃদস্পন্দন শুনছিল, তখন তার নিজের ভেতরের পৃথিবীটা তাসের ঘরের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল। সে এতদিন নিজেকে শিখিয়েছিল যে জেনিন নূরশাদ একজন দানব, এক মূর্তমান আতঙ্ক। কিন্তু আজ সেই দানবের চোখের কোণে আনন্দের লোনা জল দেখে নোবারার সব যুক্তি, সব আদর্শ ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
নোবারার মনে হলো, সে এক গভীর চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, যতই সে বাঁচার চেষ্টা করছে, ততই জেনিনের এই উগ্র ভালোবাসা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে। তার পকেটে রাখা গোপন ডিভাইস, তার মিশন, তার দেশপ্রেমহ, সবই এখন জেনিনের এই হাসির সামনে অর্থহীন মনে হচ্ছে।
“আমি কি অপরাধ করলাম?” নোবারা নিজের অবাধ্য মনকে প্রশ্ন করল। “একজন খুনিকে ভালোবেসে আমি কি নিজের আত্মার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছি?”
কিন্তু জেনিন যখন তাকে আবারো পাজাকোলে তুলে নিয়ে ঝড়ের মতো ঘুরতে শুরু করল, তখন নোবারার আর কোনো প্রশ্ন রইল না। জেনিনের এই বন্য খুশি, তার এই শিশুর মতো সরল উন্মাদনা নোবারাকে এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতায় ডুবিয়ে দিল। সে জেনিনের কাঁধে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। এই কান্না দুঃখের নয়, এই কান্না এক চরম আত্মসমর্পণের। সে বুঝতে পারল, সে জেনিন নূরশাদকে ঘৃণা করতে চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ভালবেসে ফেলেছে তার ভেতরের সেই একা কিশোরটিকে, যে বছরের পর বছর একটু আশ্রয়ের জন্য হাহাকার করছিল।
জেনিন নোবারাকে বিছানায় বসিয়ে তার পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসল। মাফিয়া জগতের সম্রাট আজ তার প্রেয়সীর সামনে নতজানু। জেনিনের চোখে এখন এক আশ্চর্য জ্যোতি। সে নোবারার দুহাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে চুমু খেল।
জেনিন নোবারার চিবুক ধরে তাকে নিজের দিকে ফেরালো। “মান ভেঙেছে এবার? নাকি ওই কিরারা হাইজেনকে শহর থেকে বের করে দেওয়ার অর্ডার দেব?”
নোবারা এবার একটু হাসল, চোখের জলের আড়ালে সেই দুষ্টুমি ভরা হাসি। “না, থাক। তাকে থাকতে দিন। সে অন্তত আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে আমি আপনাকে কতটা ভালোবাসি।”
জেনিন নোবারার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালো। এক দীর্ঘ, গভীর চুম্বন। এই চুম্বনে ছিল জেনিনের আজন্মের তৃষ্ণা আর নোবারার নতুন করে জেগে ওঠা এক অনবদ্য টান। জেনিন ভাবছিল, নোবারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে করুক, সে যদি এই ঈর্ষার মধ্য দিয়েও জেনিনকে ভালোবেসে ফেলে, তবে সেই বিশ্বাসঘাতকতাও জেনিনের কাছে পবিত্র। সে নোবারাকে সামলাতে জানে, সে নোবারার এই ছোটখাটো রাগ আর অভিমানকে আগলে রাখতে জানে।
কতবছর পর জেনিন নুরশাদ যেন মন খুলে হাসল। তার সেই হাসি যেন অন্ধকার রাতের আকাশ চিরে বেরিয়ে আসা ধ্রুবতারা। সে উঠে গিয়ে ঘরের কোণে রাখা ভিনটেজ গ্রামোফোন রেকর্ড প্লেয়ারটির কাছে গেল। সুইচের এক ক্লিকেই ঘরটি ভরে উঠল এক মায়াবী সুরের মূর্ছনায়। বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর ড্রোনের গুঞ্জন থেমে গেছে, কেবল ঘরের ভেতরে জেনিন আর নোবারার নিঃশ্বাসের শব্দ।
জেনিন ফিরে এসে নোবারার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। “নাচবেন আমার সাথে? চলুন!”
নোবারা হাত বাড়িয়ে দিল। জেনিন তাকে নিজের একদম কাছে টেনে নিল। এক হাত নোবারার কোমরে, অন্য হাত নোবারার হাতের তালুতে বন্দি। জেনিন খুব ধীর লয়ে নোবারার সাথে পা মেলাতে শুরু করল। তারা যেন এক কক্ষপথের দুই গ্রহ, যারা একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
অতঃপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর শেষে জেনিন নুরশাদ জানতে পারলো তার প্রেয়সী তাকে ধ্বংস করতে এসে প্রেমে পড়ে গিয়েছে! জেনিন নোবারার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে খুব নিচু স্বরে গাইতে শুরু করল; যে গানে ছিল হারের আনন্দ আর জয়ের বিষাদ, কারণ সে বুঝে গেছে, তাকে শেষ করতে আসা শত্রুই এখন তার অস্তিত্বের একমাত্র আশ্রয়।
“কষ্টগুলোর শিকড় ছড়িয়ে
ঐ ভয়ানক একা চাঁদটার সাথে
স্বপ্নের আলোতে, যাবো বলে!
যখন চোখ ভিজে যায় রাতে….
ভালবাসা তারপর দিতে পারে,
গত বর্ষার সুবাস!
বহুদিন আগে তারাদের আলো,
শূন্য আঁধার আকাশ!
গানের সুরের সাথে সাথে জেনিনের বাহু নোবারাকে আরও শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। নোবারা আর কথা বলতে পারল না। সে কেবল জেনিনের বুকে মাথা রেখে এই মায়াবী সুরের ভেতর হারিয়ে যেতে চাইল।
রাত আরও গভীর হলো। ভিলার চারপাশের নিরাপত্তা কর্মীরা জানে না যে ভেতরে তাদের ‘নিষ্ঠুর’ বস আজ এক প্রেমিকের মতো তার প্রেয়সীর মান ভাঙাতে ব্যস্ত। জেনিন নূরশাদ আজ সার্থক। সে কেবল নূরশাদ সাম্রাজ্যের অধিপতি নয়, সে আজ নোবারার হৃদয়েরও একমাত্র সম্রাট।
চলবে ইংশাআল্লাহ…..

