#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_২১
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেলেও মাহিরা জায়গা থেকে নড়ল না।
পরে দেখা হবে। ব্যস্ত হাতে মেসেজটা পাঠিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দিল মেয়েটা। নয়তো ও না যাওয়া অবধি সে ব্যক্তি ক্ষ্যান্ত হতো বলে মনে হয় না। মোবাইল খোলা পেলে আরও পেয়ে বসবে। তাকে এক্ষুনি নিচে নামিয়ে তবেই ছাড়বে। তাই আগেভাগেই মোবাইল বন্ধ করে দিল।
মাহিরা হাতের মোবাইলটা রেখে লাবণ্যকে বলল,
– যাবি?
– কোথায়?
– বিকেলে আমার সাথে।
– তোরা দেখা করবি আমার যেয়ে কাজ কী?
– এখানে থাকার চেয়ে বাইরে যাওয়া ভালো।
– কোথায় যাওয়ার কথা হচ্ছে?
বর্ণাকে দেখে লাবণ্য থেমে গেল। মাহিরা বলল,
– সামু কল দিয়েছে ভাবি। বলল ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে। বিকেলে যেন দেখা করি।
– ওরা না সিলেট গেল। চলে এসেছে?
– হ্যাঁ আজই এলো।
– একদিন আগে এলে বিয়েটা খেতে পারত। যাক ব্যাপার না।আজ তো বউভাত। আন্টি, আঙ্কেলকে নিয়ে চলে আসতে বলে দাও।
– আন্টি, আঙ্কেল আসেনি। সামিহা আর সামাদ এসেছে।
– তাহলে ওদের আসতে বলো।
– বলেছিলাম, আসবে না। সামু জার্নি করে কাহিল। এ শরীর বয়ে অনুষ্ঠানে আসা সম্ভব না। আর সামাদ ভাই নাকি এসেই বেরিয়েছে। বাড়িতে সামু একা। তাই যেতে বলল।
– ওকে বলো কালকে যাবে।
– কেন? আজ গেলে কী হবে?
– অনুষ্ঠান বাড়ি ছেড়ে তুমি ওর সাথে দেখা করতে যাবে।
মাহিরা কিছু বলল না। হোক গে অনুষ্ঠান, বিকেলে সে যাবেই। আর সে তো সামুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছে না।
সামিহারা এখনও সিলেটে। রাতের ট্রেনে আসবে। সামাদ সকালে এসে পৌঁছেছে। এসে থেকেই তাড়া দিচ্ছে দেখা করার জন্য। আসলে দোষটা মাহিরারই। কয়েক দিন ধরে সামাদের সাথে ঠিকমতো কথা বলছে না। সে তো কল দেয় না, সামাদ দিলেও মেয়েটা ভালো মতন পাঁচ মিনিট কথা বলে না। এদিকের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েটা এমন করছে তা তো আর সামাদের জানা নেই। তাই ছেলেটা এমন এড়িয়ে চলাতে ক্ষেপে আছে। বিকেলে না গেলে সামাদ ওকে খুন করবে। তাছাড়া এখানে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই ওর।
বর্ণা হাতে থাকা খাবারের প্লেট লাবণ্যর হাতে দিয়ে বলল,
– দেখি লাবণ্য খেয়ে নাও তো। আমার সামনে সব শেষ করবে।
খাবার দেখে লাবণ্যর মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। মনে হলো সে আবার জ্ঞান হারাবে। এবার ডাক্তার ফাক্তার আনলেও খুব একটা লাভ হবে না।
লাবণ্য চোখ বড়ো বড়ো করে বলল,
– এত সব কে খাবে? আমি পারব না।
– পারতে হবে। খাওয়া শুরু করো।
– খালা কই?
– নিচে মেহমানদের সাথে কথা বলছে।
– খালা পাঠিয়েছে এত সব তাই না?
– হুম।
– খালা নিজে এলো না যে?
– বললাম না কথা বলছে।
ইয়াজমীন যে ইচ্ছে করে আসেনি তা অজানা নয় লাবণ্যর।
তার উপর রেগে আছে নিশ্চয়। আর এ রাগ গলতে বহুদিন লাগবে। এত রাগের কারণ ভেবে পায় না লাবণ্য। সে তো তার আপন কেউ না। পর মানুষের জন্য এত চিন্তা। রাগ করে তার সামনে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। সামান্য না খেয়ে জ্ঞান হারানোর জন্য এমন করছে। মানুষটা যখন লাবণ্যর এ অবস্থার কারণ জানবে তখন কী করবে।
– নাও শুরু করো।
বর্ণা খাওয়ার জন্য তাড়া দিল। লাবণ্য ক্লান্ত স্বরে বলল,
– খেতে ইচ্ছে করছে না, পরে খাবো।
– তা বললে হবে না। এই মুহূর্তে খেতে হবে। তাও আমার সামনে। তোমার খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে নড়া নিষেধ। আন্টি আমাকে বারবার বলে দিয়েছে তোমার খাওয়া শেষ না হওয়া অবধি যেন এখান থেকে না যাই। শুরু করো।
লাবণ্য অসহায় চোখে তাকাল। তবে তার তাকানোতে খুব একটা সুবিধা হলো না।
_
আভিরা চুপচাপ খাটে বসে আছে। তাযীম এখনও ঘুমে। ছেলেটার কখন ঘুম ভাঙবে কে জানে। বারোটা বাজতে চলল। সেই এক ঘণ্টা আগে ঘুম ভাঙার পর চিরুনি তালাশ করে যখন কোনো উপায় পায়নি সেই থেকে ঠায় বসে আছে খাটের এক কোণায়। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ কানে এলো। হয়তো কেউ এসেছে।
বর্ণা বাহির থেকে আওয়াজ করে ডাকল,
– আভিরা উঠেছ?
– আপু ভিতরে এসো।
যদিও তার ভাবি ডাকার কথা। তবুও সে বর্ণাকে আপু ডাকবে বলে মনঃস্থির করে নিয়েছে।
– উঠেছ কখন?
আভিরা লজ্জিত ভঙ্গিতে মাথা নত করে বলল,
– ঘণ্টাখানেক আগে।
– আরে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। তোমার বর হসপিটালে যাওয়ার আগে বলে গিয়েছে তোমায় যেন ডাকা না হয়। কাল রাতে নাকি ঘুমাতে পারোনি। তাই একপ্রকার ইচ্ছে করেই আসা হয়নি।
– ঐ আরকি।
লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে প্রত্যুত্তর করল আভিরা। ঐ লোক নিজে ডেকে যায়নি। আবার সকলকে জানিয়ে গিয়েছে যেন না তোলে। এ জন্য সকাল থেকে তার রুমের ধারের কাছে কারো দেখা নেই। নতুন বউ এভাবে এত সময় ধরে ঘুমে থাকে। ঐ লোকের সামান্য সেন্স নেই। কেউ ডাকতে এলে সে নিশ্চয় এতক্ষণ বিছানায় পড়ে থাকত না। না জানি বাড়ির সকলে কী ভাবছে।
– তবে একটু বেশি দেরি করে ফেললাম। এতক্ষণ উঠে বসে আছো।
– সমস্যা নেই আপু।
– আগেই আসতাম। কিন্তু ঝামেলার জন্য আসতে পারলাম না।
– কীসের ঝামেলা? কিছু হয়েছে কী?
– আর বলো না। সকাল থেকে সকলে রান্নাঘরে। যদিও ঘরের কাউকে রান্নার কাজে হাত লাগাতে হয়নি। অনুষ্ঠানের কাজ করার জন্য আন্টি দুজন লোক রেখেছে। তারাই রান্নার দিকটা দেখছে। আমি আর আন্টি দাঁড়িয়ে দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে মাহিরার চিৎকার কানে এলো। ভাবলাম মেয়েটার কিছু হলো কিনা। কিন্তু উপরে গিয়ে দেখি আরেক কাণ্ড। লাবণ্য জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে।
– কী করে? কখন হলো এসব?
– আরে ব্যস্ত হচ্ছো কেন? তেমন কিছু হয়নি। খাবারে অনিয়মের কারণে মূলত জ্ঞান হারিয়ে ছিল।
– এখন কী অবস্থা? ঠিক আছে?
– ঠিক আছে। ডাক্তার এসে দেখে গেল। বলল দুদিন ধরে না খাওয়াতে শরীর দুর্বল। আর তারই প্রভাব পড়েছে। ঠিকমতো খাবার খেলে আবার আগের মতো হয়ে যাবে। মেয়েটা যে কেন হুট করে খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম করে বসে আছে বুঝে উঠতে পারলাম না। এখনও খেতে বলাতে বলে পরে খাবে। তাই জোর করেই খাইয়ে দিয়ে এলাম।
– আমার তো যাওয়া উচিত। আপুকে দেখে আসব।
– তা না হয় যাবে। তার আগে তো খেতে হবে। নাকি না খেলেও চলবে। পরে দেখা যাবে লাবণ্যর মতো তুমিও জ্ঞান হারিয়ে বসে আছো। নতুন বউ জ্ঞান হারিয়েছে। পুরো এলাকার জন্য এর থেকে বেশি মুখরোচক খবর আর কী হতে পারে। তবে যাই বলো এ খবর তোমার ওনার কানে গেলে আমার রক্ষে নেই। সে আমায় শুলে চড়াবে। বারবার বলে গিয়েছে ঘুম থেকে উঠার পর যেন কারো আশায় বসে না থেকে সবার আগে নিজ দায়িত্বে আপনার খাওয়ার ব্যবস্থা করি। সে দেরি তো হয়েই গেল। সকালের নাস্তা দুপুরে খাবে। তার কানে গেলে আমায় দু চারটা কথা না শুনিয়ে ছাড়বে না। তা রুমে খাবার দিয়ে যাব না কি নিচে যাবে?
আভিরা কী বলবে ভেবে পেল না। নিচে গিয়ে খাওয়া উচিত। তবে এত মানুষের ভিড়ে যেতে কেমন যেন লাগছে। তাছাড়া তার পরনে শাড়িও নেই। রাতের শাড়িটা পাল্টে সেলোয়ার কামিজ পরে বসে আছে মেয়েটা। এ পোশাক পরে গেলে নিশ্চয় কেউ না কেউ কিছু বলবে। না জানি বাড়ি ভর্তি কত মানুষ।
বর্ণা আভিরার চিন্তা খানিকটা আন্দাজ করতে পেরে বলল,
– বাড়িতে এখন তেমন কেউ নেই। হয়তো ঘণ্টাখানেক পরে মানুষজন আসা শুরু করবে। যারা আছেন তারা সবাই চেনা পরিচিত। এই পোশাকে তাদের সামনে যেতে পারবে। কোনো সমস্যা হবে না তাতে। তাছাড়া এ ভরদুপুরে কেউ ড্রয়িংরুমে বসে থাকবে না। গিয়ে দেখবে কেউ নেই, যে যার রুমে। তুমি চাইলে নিচে আসতে পারো। তাও যদি অস্বস্তি হয় তবে আমি এখানে দিয়ে যাব।
– না নিচে যাব।
– চলো তাহলে।
_
তাযীম গোল গোল চোখে চারপাশ অবলোকন করছে।
অচেনা জায়গা, অচেনা মানুষের আনাগোনা। ছেলেটা মানসপটে সবটা অভিজ্ঞ চোখে এঁটে নিল। ঘুম ভাঙার পর নিজেকে অচেনা রুমে আবিষ্কার করে। তাতেই যেন ভয় ঘিরে ধরে ছেলেটাকে। সে কোথায়? আব্বু, আম্মু আর আপুই বা কোথায়? কাউকে না পেয়ে ভয়ে একপ্রকার কান্না করে দেয়। আভিরা যাই দু লোকমা মুখে দিয়েছিল ভাইয়ের কান্নায় দৌড়ে রুমে চলে এসেছে। মেয়েটার আর খাওয়া হলো না। এঁটো ভাত পড়ে রইল প্লেটে। বোনকে দেখে ছেলেটা কান্না থামিয়ে দেয়। মুখে ফুটিয়ে তুলে বিরক্তিভাব। কে বলবে একটু আগে হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসেছিল কাউকে না দেখে। এখন চোখ মুখে তার রাজ্যের বিরক্তি এসে ভিড় করেছে। বোনকে এখানে আশা করেনি। সে তো বোনের সাথে কথা বলে না। তাহলে বোন কেন এসেছে? মা কোথায়?
আভিরা কথা বলার চেষ্টা করল। কিন্তু ছেলেটা যে সেই মুখ ঘুরিয়েছে আর ফিরেও তাকায়নি। অথচ তার জন্য কিনা বোন না খেয়ে ছুটে এসেছে। বর্ণা উপায়ান্তর না পেয়ে বর্ণকে কল লাগাল। জিদানকে যেন নাওয়াজের রুমে পাঠিয়ে দেয় বলে কল কেটে দেয়। বোনের কল পেয়ে বর্ণ জিদানকে নিয়ে রুমে এলো। ওরা আসতে বর্ণা বলে যেন তাযীমকে নিয়ে যায়। যেই থেকে জিদান আর বর্ণ বাইরে এনে বসিয়েছে সেই থেকে ছেলেটা ঘুরেফিরে চারদিক দেখে চলেছে। এই যে তার মাথার উপর রঙিন পর্দা টানানো। তাদের বাড়িতেও এমন পর্দা দেখেছে সে। তবে এটা তো তাদের বাড়ি না। এখানে সে আগে কখনো আসেনি। এখানে কেন এলো। আর কখনই বা এসেছে। আপুর তো বিয়ে ছিল। বিয়ে হয়েছে গিয়েছে নাকি।
বিয়ে হলে তার কিছু মনে নেই কেন? তাকে ছাড়াই কি বিয়ে দিয়ে দিল। এমন হলে আর জীবনেও সে আপুর সাথে কথা বলবে না। শুধু আপুর সাথে কেন বাবা মা কারোর সাথেই কথা বলবে না সে।
জিদান, বর্ণ আরও কয়েকজন মিলে টেবিল চেয়ারগুলো সেট করছে। নামাজের পরপরই খাওয়া দাওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে পাড়ার লোকজনদের খাইয়ে পরে আস্তে ধীরে বাহিরের লোকদের খাওয়াবে। নামাজের আগে বাড়ির মহিলাদের পালা শেষ করে ফেলতে হবে। নয়তো পরে ভিড় লেগে যাবে। বাহির থেকে লোক এসে টেবিল ফাঁকা পাবে না। দূরের আত্মীয় স্বজন এখনও আসা বাকি। তাছাড়া আভিরাদের বাড়ির লোকেরাও এসে পৌঁছায়নি।
_
– দেখো কোন শাড়িটা পরবে।
আভিরার সামনে তিন, চারটা শাড়ি মেলে ধরে জানতে চাইল বর্ণা। হালকা গোলাপি, পেস্ট, শ্যাওলা আর কলিজা রঙের শাড়ির মধ্যে আভিরা কলিজা কালারটাই বেছে নিল আজকে পরার জন্য।
বর্ণা আভিরার হাতে ব্লাউজ, পেটিকোট ধরিয়ে দিয়ে বলল,
– যাও পরে এসো।
খাটের এক কোণায় মাহিরা বসে ফোন টিপছে। তার যত ধ্যান ফোনে। এদিকে কোনো খেয়াল নেই। মুখে বিরক্তিভাব এঁটে বসে আছে মেয়েটা। অন্যদিকে লাবণ্য এসে থেকে আভিরাকে দেখে চলেছে।
আভিরা ওয়াশরুম থেকে ব্লাউজ, পেটিকোট পরে এলো।
উপরে একটা ওড়না পেঁচিয়ে রেখেছে মেয়েটা। মেয়েদের সামনেও এত লজ্জা। আভিরার অবস্থা দেখে বর্ণা মুখ টিপে হাসল। ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল,
– আমাদের সামনে এত লজ্জা পাচ্ছ? না জানি তার সামনে কী করো।
আভিরার গাল দুটো রক্তিম হয়ে এলো, নত মুখ আরও নত হলো। মেয়েটা আর মুখ তুলে উপরে তাকাল না।
– আরে তুমি দেখি পেটিকোট ভিজিয়ে ফেলেছ।
আভিরা দেখল পেটিকোটের নিচের অংশ অনেকটা ভিজে গেছে। ফ্লোরে থাকা পানিতে হয়তো ভিজেছে। এ প্রথম নয়। আভিরা গোসল করতে বা হাত পা ধুতে গিয়েও সেলোয়ার ভিজিয়ে আসে। এ নিয়ে মায়ের হাতে কম বকা তো খায়নি। সে খেয়াল রাখে। তবুও কেমন করে যেন ভিজে যায়।
– ফ্লোরের পানিতে ভিজে গিয়েছে, খেয়াল করিনি।
– পরেরবার থেকে খেয়াল রাখবে যেন ভিজে না যায়। নয়তো রুমে পাল্টাবে।
– আচ্ছা।
বর্ণা শাড়ির ভাঁজ খুলতে নিচ থেকে ডাক এলো। কাজের সময় ডাক আসাতে মেয়েটা একটু বিরক্ত হলো বৈ কি।
মেজাজ দেখিয়ে বলল,
– কী হলো বুশু, ডাকছিস কেন? দেখছিস না কাজ করছি।
– ভাইয়া এসেছে। তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছে। জলদি যাও। তার নাকি কী দরকার, খুঁজে পাচ্ছে না।
– খুঁজে পাচ্ছে না ছাই। ইচ্ছে করে এমন করছে। ওসব কী আমি বুঝি না। যাব না বলে দে।
আভিরা বলল,
– আপু তুমি যাও। দেখো হয়তো সত্যি কোনো দরকার।
– আরে কোনো দরকার নেই। বউ কাছে নেই যে, তাই এমন করছে। এসব ধান্দাবাজি আমার বুঝা শেষ। সবে তো বউ হয়ে এলে। আস্তে ধীরে সব বুঝে যাবে। নাওয়াজও দেখবে শুধু শুধু তোমায় কাজে অকাজে ডেকে পাঠাবে। সব বাহানা মাত্র। বউকে কাছে পাওয়ার ছুতো।
– তাহলে বলতে হবে ভাইয়া তোমাকে চোখে হারায়।
বুশরার কথায় বর্ণা চোখ পাকিয়ে তাকাল।
– চোখ পাকিয়ে লাভ নেই। দ্রুত যাও। নয়তো ভাইয়া চলে আসবে।
– সে এলে আসবে। এখন যাওয়া যাবে না। আভিরাকে শাড়ি পরাতে হবে।
– মাহিরা আপু পারে না?
– না, ও পারে না।
– লাবণ্য আপু, আপু তুমি পারো না?
বলে লাবণ্যর দিকে তাকাল।
– পারি।
– তাহলে তো হলোই। তুমি যাও লাবণ্য আপু পরিয়ে দিবে। নয়তো ভাইয়া চলে এলো বলে…
নিচ থেকে আবার ডাক এলো। সত্যি সত্যি সৌভিক চলে এসেছে।
– দেখেছ, বললাম না। চলে এসেছে, যাও।
– যাচ্ছি।
বলে বর্ণা বেরিয়ে গেল। আভিরার মনে হলো এবার শাড়ি পরাটা শিখে নিতে হবে। নয়তো এ নিয়ে ভবিষ্যৎ এ বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে তাকে।
লাবণ্য কুঁচিগুলো গেঁথে দিতে দিতে চাপা স্বরে বলল,
– এত নড়াচড়া করছ কেন? নাওয়াজ ছুঁলেও বুঝি এমন করো?
মুহূর্তে যেন আভিরা জমে গেল। মেয়েটা লজ্জা পেল কিনা বুঝা গেল না। তবে তার চেহারার রঙ পাল্টেছে।

