#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_২২
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল নাওয়াজ। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সামনে চেয়ে আছে। মাথা ফাঁকা হয়ে এলো তার। মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব কী দেখছে সে? দেখায় ভুল ভেবে নেত্র পল্লব বুজে খানিক বাদে ফের খুলল। না একই দৃশ্য। তার দেখায় কোনো ভুল নেই। কিয়ৎক্ষণ চুপচাপ মেয়েটাকে পরিলক্ষিত করে ডাকল।
এমন রূপে সে আভিরাকে দেখবে তা যেন কল্পনাতীত। কী শুরু করেছে এ মেয়ে? তাকে মেরে ফেলবে না কি? নিজেকে সামলে নড়বড়ে হাতে দরজা আটকে ধীর পায়ে মেয়েটার কাছে এগিয়ে যায়। কাছে গিয়ে আবার ডাকল। সাড়া না পেয়ে দু হাত ঝাঁকিয়ে বলল,
– এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
তাতে যেন মেয়েটার হুঁশ ফিরে। আঁতকে নিজের দিকে চাইল। গায়ে তার আঁচল নেই, ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তখন যে লাবণ্য শাড়ির কুঁচিগুলো গুঁজে বেরিয়ে গেল আর আঁচল টানা হয়নি। ভাগ্যিস, তার গায়ে ওড়না এখনও জড়ানো। তা না হলে কী লজ্জায় না পড়তে হতো। এখন যে লজ্জা পাচ্ছে না তা কিন্তু নয়। বরং অস্বস্তিতে গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে পুরো শরীর একপ্রকার পেঁচিয়ে নিয়েছে।
নাওয়াজ নিজ দায়িত্বে আঁচল তুলে দিতে গেলে আভিরা বাধা দেয়। নাওয়াজ চোখের ইশারায় জানতে চাইল,
– সমস্যা কী?
আভিরা প্রত্যুত্তরে মন্থর গলায় বলল,
– পরব না।
নাওয়াজ বুঝতে না পেরে সরু চোখে চেয়ে বলল,
– মানে?
– মানে এ শাড়ি পরব না।
নাওয়াজ কপাল সংকুচিত করে জানতে চাইল,
– তাহলে কী পরবেন?
আভিরা বিছানায় ছড়িয়ে থাকা পেস্ট রঙের শাড়িটা তুলে নিয়ে বলল,
– এই যে এইটা, এইটা পরব।
– গায়ে যেইটা আছে সেইটাতে সমস্যা কী?
আভিরা নিজেও জানে না এটাতে সমস্যা কী। সে এটা পরবে না, ব্যস। আভিরার জবাবের আশায় খানিকক্ষণ চেয়ে রইল নাওয়াজ। কোনো প্রত্যুত্তর না পেয়ে ক্লান্ত গলায় বলল,
– থাকুন ফ্রেশ হয়ে আসি।
নাওয়াজ মাত্র হসপিটাল থেকে ফিরেছে। বেশ দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে আজ। কয়েক ঘণ্টায় কেমন হাঁপিয়ে গিয়েছে। এখনই ফ্রেশ হওয়া দরকার। এসে না হয় এ নিয়ে কথা বলবে।
রুম ফাঁকা পেয়ে আভিরা শাড়িটা খুলে ফেলল। এক পলক ওয়াশরুমের দিকে চেয়ে ব্লাউজ, পেটিকোট খুলে শাড়ির সাথে ম্যাচিং পেস্ট রঙা ব্লাউজ, পেটিকোট পরে নেয়।
নাওয়াজ বেরিয়ে দেখল আভিরা ব্লাউজের হুক লাগাতে ব্যস্ত। নাওয়াজের উপস্থিতি টের পেয়ে আভিরা তড়িৎ গতিতে উল্টো দিকে ফিরে গেল। তড়িঘড়ি করে হাত চালিয়ে সবকটা হুক লাগিয়ে নেয়। সামনের দিকে হুক দেওয়াতে তার জন্যে সুবিধা হয়েছে। বুক কাঁপছে তার। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে দুটো হুক এলোমেলোভাবে লেগে গিয়েছে।
কাঁপা হাতে ফের লাগাল।
নাওয়াজের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। মেয়েটা এমন করছে কেন। একটু সময় অপেক্ষা করতে পারল না। এর মাঝে অধৈর্য হয়ে শাড়ি খুলে নিয়েছে। শাড়ি খুলে আবার শাড়ি পরারই প্রস্তুতি নিচ্ছে। শাড়ি খুলে সেলোয়ার কামিজ পরলেও না হয় সে বুঝত। কিন্তু এক শাড়ি খুলে আবার অন্য শাড়ি পরার কারণ কী। সব যেন তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
নাওয়াজ টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল,
– কী এমন হলো যে শাড়ি পাল্টে নিলেন? একটা খুলে এখন আরেকটা পরতে যাচ্ছেন। আপনি তো শাড়ি পরতে পারেন না। হেল্প লাগবে? বর্ণা বা লাবণ্যকে পাঠিয়ে দেবো?
লাবণ্যর নাম শুনে লাবণ্যর বলা কথাটা মনে পড়ে গেল। তখন লাবণ্যর বলা কথাটা ভালো লাগেনি আভিরার।
তার জানা মতে নাওয়াজ লাবণ্যর বছর চারেক বড়ো। সেই সুবাদে ভাই ডাকা উচিত। আর সে কিনা নাম ধরে বলছে।
আবার কেমন অপকটে অদ্ভুত প্রশ্ন ছুঁড়ে মারল। লাবণ্যর ইঙ্গিত বুঝতে মোটেও অসুবিধা হলো না আভিরার। কাল রাতে তাদের মধ্যে তো তেমন কিছু হয়নি। আর তাছাড়া হলেও বা কী, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তা নিয়ে কেন এমনভাবে কথা বলা হবে। কথাটা মজার ছলে বলা হলে হয়তো আভিরা লাজে রাঙা হয়ে মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজত। কিন্তু লাবণ্য মোটেও কথাটা মজার ছলে বলেনি। কিছু একটা ছিল তার কথায়, যা ক্রমে আভিরাকে ভাবিয়ে তুলছে।
আভিরা থমথমে গলায় বলল,
– লাগবে না।
– পাগলামি কেন করলেন আঞ্জুম? সেই তো এখন শাড়ি পরবেন। তাহলে আগেরটা কেন খুললেন? এখন ঝামেলায় পড়ল কে? নিজেও পরতে পারেন না আবার কাউকে ডাকতেও দিচ্ছেন না। শাড়ি যে হাতে নিয়ে বসে আছেন তা পরিয়ে দেবে কে?
– কেন আপনি আছেন না, আপনি দিবেন।
আভিরার অপকটে বলা কথায় নাওয়াজ বিভ্রান্ত হয়ে চায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কত কী দেখতে হবে তাকে। কী হয়েছে এ মেয়ের। প্রথমে এসে কেমন বিব্রতকর অবস্থায় দেখল। এখন বলছে তাকে শাড়ি পরিয়ে দিতে। হায় লাজ সব খুইয়ে বসে আছে নাকি!
নাওয়াজ অস্ফুটে বলল,
– আমি?
– হু। কেন কোন সমস্যা?
আভিরাও নাওয়াজের ন্যায় একই স্বরে বলল। নাওয়াজ যেন আভিরার এমন অবলিলায় বলা কথাগুলো ঠিক নিতে পারছে না। এ মেয়ের নিশ্চয় মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। নয়তো এ মেয়ে কেমন তা তো সে জানে। কোনো দ্বিধা ছাড়া এমন অপকটে কথা বলার মেয়ে তার আঞ্জুম না। নিশ্চয় কিছু একটা হয়েছে। সেজন্যই এমন করছে মেয়েটা।
নিজের হতভম্বতা কাটিয়ে নাওয়াজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
– কিন্তু আমি শাড়ি পরাতে পারি না আঞ্জুম। আপনাকে আশাহত করার জন্য দুঃখিত।
আভিরা বিড়বিড় করে বলল,
– তাহলে বিয়ে করলেন কেন?
নিস্তব্ধতায় ঘেরা কামরায় আভিরার বলা কথা কর্ণগোচর হতে খুব একটা অসুবিধা হলো না। নাওয়াজের ঠোঁট জোড়া কিঞ্চিত ফাঁকা হয়ে গেল। অবাক হয়ে শুধাল,
– বিয়ে করতে হলে শাড়ি পরানো জানতে হবে বুঝি?
আভিরা গলার স্বর খানিকটা বাড়িয়ে বলল,
– আমার মতো মেয়েকে বিয়ে করলে অবশ্যই জানতে হবে।
নাওয়াজ পকেটে হাত গুঁজে দায়সারাভাবে বলল,
– কিন্তু আপনি জানলে হয়তো আমার জানার প্রয়োজন ছিল না।
আভিরা থামে না। অন্য সময় হলে নাওয়াজের দশটা কথার প্রত্যুত্তরে বড়োজোর একটা দুটো কথার জবাব দিত। হঠাৎ যেন কালকে রাতের রাগটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। তাছাড়া আজ সারাদিনও তো তাকে কম ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে মেজাজ বেশ চটে আছে মেয়েটার।
– এত তাড়াতাড়ি বাবা বিয়ে দিয়ে দিবে জানলে ঠিকই শিখে নিতাম। আগে তো জানতাম না আপনার মতো অকর্মা লোকের সাথে বিয়ে হবে।
নিজের কথাতে আভিরা নিজেই থমকায়। এসব কী বলছে সে। সব ঠিক আছে। কিন্তু শেষ কথাটা কী বলল।
নাওয়াজ নিশ্চিত হতে পুনরায় শুধাল,
– কী বললেন?
নাওয়াজের গম্ভীর কণ্ঠ শুনে আভিরাকে খানিকটা বিচলিত হতে দেখা গেল। নাওয়াজ দূরত্ব কমিয়ে আভিরার অনেকটা সন্নিকটে চলে এসেছে ইতোমধ্যে। আভিরা কিছু বলতে চাইল। কিন্তু নাওয়াজের এমন চাহনিতে কোনো কথা বের হলো না। নাওয়াজ তীক্ষ্ণ চোখে মেয়েটাকে আপাদমস্তক এক নজর দেখে নিল। আভিরা কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। নাওয়াজ আরেকটু এগিয়ে গেল। আভিরা আবার পিছিয়ে যেতে চাইলে কোমর চেপে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। কিঞ্চিত পরিমাণ দূরত্ব নেই তাদের মাঝে। একজন আরেকজনের সাথে মিশে গিয়েছে একেবারে। নাওয়াজের শ্বাস প্রশ্বাস আভিরার মুখাবয়বে আছড়ে পড়ছে।
আভিরা তুতলিয়ে বলতে চাইল,
– ক্…কি…করছে…
– হুশ!
নাওয়াজ আভিরার ঠোঁটে আঙুল ছুঁয়ে চুপ করিয়ে দেয়।
কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
– আমি কতটা কাজের দেখতে চান?
– না।
– কেন? একটু আগে না বলেছিলেন অকর্মা লোকের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা যে ভুল তার প্রমাণ দিতে হবে না।
– লাগবে না, দূরে সরুন।
– কেন?
– আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, প্লিজ দূরে সরুন।
– এ কথা আগে মনে ছিল না?
– ভুল হয়ে গিয়েছে। আর বলব না।
আভিরা কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল। নাওয়াজ ছেড়ে দিল মেয়েটাকে। অনেক দেরি হয়ে গেছে। প্রায় দেড়টা বাজতে চলল। খানিক বাদে হয়তো তাদের ডাকতে লোক চলে আসবে। জোরে জোরে শ্বাস ফেলে আভিরার দিকে ফিরে চাইল।
– এখন কী করবেন? এ শাড়ি নিয়ে ঝামেলা হয়ে গেল না আঞ্জুম। খুলতে কেন গেলেন? দেখেন হাতে একদম সময় নেই। কিছুক্ষণ পরে বোধহয় ডাকাডাকি শুরু হয়ে যাবে। আপনার এমন জেদি রূপ আছে জানা ছিল না আমার।
সবসময় জেদ দেখাতে নেই।
এমন রুক্ষ স্বরে আভিরা ছলছল চোখে চেয়ে ফের দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। নাওয়াজ সে চোখে তাকিয়ে কয়েক পলের জন্য থমকায়। সে কী কান্না করার মতো কিছু বলেছে নাকি। অসময়ে, কারণ ছাড়া জেদ করবে আবার কিছু বলাও যাবে না। একদিনও হয়নি মেয়েটা এসেছে। এ নিয়ে দু দুবার এমন করল। মেয়েটার এমন স্বভাবের সাথে সে মোটেও পরিচিত নয়। কথা না বাড়িয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করে সার্চ অপশনে কিছু টাইপ করে সার্চ দিল। নাওয়াজের জীবনে এমন দিনও আসবে তা কী সে জানত। শেষে কিনা ইউটিউব ঘেঁটে মেয়েদের শাড়ি পরানোর টিউটোরিয়াল দেখতে হচ্ছে।
নাওয়াজ সাইট টেবিলে মোবাইল সেট করে হতাশার শ্বাস ফেলে বলল,
– দেখি, এদিকে আসুন।
আভিরা ধীর পায়ে এগিয়ে গেল। শাড়ির আঁচল কোনটা তাই ধরতে পারছে না নাওয়াজ। উল্টে পাল্টে বুঝার চেষ্টা করল।
আভিরা আমতা আমতা করে বলল,
– এই যে এই দিকটা কোমরে গুঁজতে হয়। আর ভারী কাজ করা দিকটা আঁচল হবে।
পুরো শাড়িতে প্রায় একই কাজ করাতে নাওয়াজের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। মেয়েটা বলাতে সুবিধা হলো বৈ কি।
খানিকটা স্বস্তি বোধ করলেও মুখে তার লেশ নেই। থমথমে মুখ করে শক্ত হাতে কোমরে শেষ দিকটা গুঁজে দিল। শক্ত হাতের স্পর্শে আভিরা খানিকটা ব্যথা পেলেও টু শব্দ করল না। এমনিতেও তার বোকামির জন্য নাওয়াজকে ঝামেলায় পড়তে হলো। এখন কথা বলা মানে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। দেখে বুঝা যাচ্ছে লোকটা কত রেগে আছে। অযথা আরও রাগিয়ে দেওয়ার মতো নির্বোধ না সে।
কুঁচি করতে গিয়ে বাঁধল আরেক বিপত্তি। নাওয়াজ শত চেষ্টার পরেও হাতের মুঠোয় আটকাতে পারছে না। একদিক দিয়ে মুঠোয় থাকলেও অন্যদিক দিয়ে লাগামহীনভাবে খুলে পড়ছে। নাওয়াজের ধৈর্যের বাঁধ যেন ভেঙে যাবে।
নাওয়াজের মনে হলো শাড়ি পরানোর মতো ভেজাল আর দুটো নেই। এর থেকে মানুষ কেটে দু ভাগ করাও যেন অনেক সহজ। তবে নাওয়াজ তো হার মানার ব্যক্তি নয়। যে কাজে হাত দেয় তা শেষ না হওয়া অবধি হাল ছাড়বে না। নাওয়াজ অনেক কসরত করে কুঁচিগুলো গুঁজে দিতে আভিরা নড়েচড়ে দাঁড়ায়। মেয়েটা এমন নড়ে যে তার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে সে খেয়াল কী আছে। খানিক বাদে বাদে এমন নড়াচড়াতে নাওয়াজ বিরক্ত হলো। মেয়েটাকে বলার পরও দেখো কেমন কেঁপে কেঁপে উঠছে। নাওয়াজ ধমক দিতে গিয়েও থেমে গেল। এই মেয়ে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তার কাছে শাড়ি পরতে চেয়েছে। এখন ধমক দেওয়াটা বেমানান।
নাওয়াজ থমথমে গলায় বলল,
– স্থির হয়ে দাঁড়ান।
আবার একই কথা। সে কি ইচ্ছে করে এমন করছে।
স্পর্শকাতর স্থানে ছোঁয়া লাগলে নড়েচড়ে তো উঠবে।
এটাই তো স্বাভাবিক।
নাওয়াজ হাঁটু গেড়ে সবগুলো কুঁচি সমান করে ছোটো একটা পিন দিয়ে আটকে দিল যাতে কুঁচি খুলে যাওয়ার চান্স না থাকে। কয়েক মুহূর্তে তার ঘাম ছুটে গেছে। কী কঠিন কাজ খোদা। নাওয়াজ ফোঁস করে দম ফেলে। বহু কষ্টে অসাধ্য সাধন করায় নিজেকে বাহবা দিতে ভুলল না। মাথা তুলে আভিরার দিকে চাইতে তার অবাধ্য চোখ আটকে গেল যেন। নাওয়াজ ঢোক গিলে। কী হচ্ছে এসব? এখন বাহিরে যেতে হবে তাদের। এমন সময় বেহায়া ইচ্ছে পোষণ করার জন্য মনে মনে নিজেকে ধিক্কার জানাল। মাথা চাড়া দেওয়া বেহায়া ইচ্ছেগুলোকে দমিয়ে আভিরাকে উল্টো ঘুরিয়ে সোজা আয়নার সামনে দাঁড় করায়। আভিরার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে মেয়েটার চোখে চোখ রাখে। আভিরার চোখও তার দিকে নিবদ্ধ। আলতো হাতে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। আভিরা নিজেকে মুগ্ধ নয়নে দেখে চলেছে। নিজের মধ্যে অন্যরকম সৌন্দর্য খুঁজে পেল যেন। ঘটা করে রূপের বিবরণ দেওয়ার মতো আগুন সুন্দরী তো সে নয়। তবে এমন অদ্ভুত সৌন্দর্যের কারণ? চোখে মুখে আলাদা আভায় বা ছেয়ে আছে কেন?
নাওয়াজ কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
– বউ আমার দেখলেন তো, আপনার বাবা অকর্মা লোকের সাথে আপনার বিয়ে দেয়নি। অসম্ভব সুন্দর লাগছে। এ সৌন্দর্য বর্ণনা করার মতো শব্দ আপাতত আমার জানা নেই। তবে সময় পেলে গভীর থেকে গভীর হয়ে আপনাকে এ সৌন্দর্যের বর্ণনা দিব। এখন শুধু আমার চোখে তাকিয়ে দেখেন। মুগ্ধতা নিয়ে চেয়ে থাকা বেহায়া চোখ দুটো বলে দিবে এ মুহূর্তে আপনাকে ঠিক কতটা আবেদনময়ী লাগছে।

