#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_২৮
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
বাড়ি এসে থেকে মায়ের কোলে বসে আছে তাযীম। নামার নাম নেই। আনেসা চেয়েও ছেলেকে কোল থেকে নামাতে পারছে না। ওদের আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা নেমেছে। নাস্তা করে নাওয়াজ, জিদান তোফায়েল আহমেদের সাথে নামাজ পড়তে মসজিদে গেল। রাতের রান্না করতে হবে। আর তার ছেলে কিনা কোল থেকে নামছে না।
তোফায়েল আহমেদ সকালে বাজারে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি তাজা মাছ, মাংস, শাকসবজি নিয়ে এসেছে। মেয়ের পছন্দের নদীর শিং, সরপুটি, তাযীমের জন্য গলদা চিংড়ি আর নাওয়াজের জন্য বড়ো বড়ো রুই, কাতলা, পাবদা, ইলিশ এনেছেন। আভিরার শিং, সরপুটি আর পাঙ্গাশ মাছের পেটি বেশ পছন্দের। অনেকে তো পাঙ্গাশ দেখলে এমনভাবে নাক সিঁটকায় যেন কোনো অখাদ্য। অথচ এ মাছের ভাজা পেটি দিয়ে আভিরা পেট পুরে এক প্লেট ভাত অনায়াসে খেতে পারে। দুটো শুকনো মরিচ, ভাজা মাছের পেটি আর একটু তেল। ব্যস, আর কী লাগে!
দুপুরে আভিরা কল দিয়ে জানিয়েছে তাদের আসতে দেরি হবে। তাই আনেসা মাছ, মাংস কেটে ফ্রিজে রেখে দিয়েছে। দুপুরে শুধু নিজেদের খাওয়ার মতো ভাত আর এক পদের তরকারি রেঁধে ছিল। এখন রাতের রান্না চড়াতে হবে। সবজি কাটাকুটি করতে হবে, ফ্রিজ থেকে মাছ, মাংসও বের করা হয়নি। ছেলেকে চেয়েও ধমকাতে পারছে না। অপেক্ষায় আছে ছেলের ঘুমানোর। ছেলেটা ঘুমালে তিনি রান্নাঘরে যাবেন।
তাযীম ঘুমিয়ে পড়েছে। আনেসা ছেলেকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে রান্নাঘরে পা বাড়ায়। রান্নাঘরে ঢুকে তিনি কিছুটা অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলেন,
– ছোটো কী হচ্ছে এসব?
– দেখছ না তোমার মেয়ে রাঁধছে।
– তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
আভিরাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
– কী রাঁধছিস? দেখি সর।
আভিরা মাকে দেখে একগাল হেসে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,
– দেখো সর্ষে ইলিশ রান্না করছি। কাকি মণি শিখিয়ে দিয়েছে। চেখে দেখো তো কেমন হয়েছে?
আনেসা একটু মুখে দিয়ে দেখল, না খারাপ হয়নি।
– তোরা আমায় না ডেকে এসব কেন করছিস?
– আমার দোষ নেই আপা। তোমার মেয়ে আমায় টেনে নিয়ে এলো। সে আজ রাঁধবে, আমি যেন শিখিয়ে দেই।
মুখে বেজায় বিরক্তিভাব এঁটে বললেন,
– তাই বলে তুই চলে আসবি?
– কী করতাম বলো?
– আমায় ডাকলেই হতো। সরিষা বেঁটেছে কে?
– আজ সব তোমার মেয়ে করেছে। আমি শুধু দেখিয়ে দিয়েছি।
আনেসা হতভম্ব হয়ে মেয়েকে জিজ্ঞেস করল,
– তুই পাটায় সর্ষে বেটেছিস?
– হ্যাঁ।
আনেসা চুলোয় নতুন করে কড়াই বসিয়ে তাতে তেল, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ দিয়ে বলল,
– এখন ঘরে যা। বাকিটা আমি দেখছি।
– আমি থাকি না আম্মু।
– না আর থাকতে হবে না। একটু পরে ছেলেটা নামাজ পড়ে এসে তোকে না পেলে খুঁজে বেড়াবে।
মায়ের কথায় আভিরা না খোশ হয়ে বলল,
– তোমাদের জামাই মোটেও আমায় খুঁজবে না।
আনেসা মেয়ের দিকে আড়চোখে চেয়ে বলল,
– বেশি কথা না বলে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে শরবত বানা। তোর বাবা, জিদান এলে ওদের দিতে হবে।
আভিরা ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি, একটা লেবু বের করল।
ট্যাং এর দুটো প্যাকেট ছিঁড়ে পানিতে গুলিয়ে, হালকা লেবু চিপে, চিনি দিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগল চিনির দানা গলা না অবধি। সাথে বরফ কুচিও দিয়ে নিয়েছে। মোহনা একটা ঝুড়ি থেকে গাজর, পেঁপে, কুমড়ো, লাউ, শিম, টমেটো, আলু সব নামিয়ে কাটতে বসেছে। আভিরা শরবতের জগ ফ্রিজে রেখে মোহনার সাথে হাত লাগায়। মোহনা একা সব সবজি কাটতে গেলে অনেক সময় লাগবে। সে সাহায্য করলে যদি কিছুটা তাড়াতাড়ি হয়।
আনেসা মেয়ের এমন আগ্রহ দেখে অবাক হলেও মনে মনে খুশি হলো। মেয়ে আগে তাকে টুকটাক সাহায্য করলেও এমন আগ্রহ নিয়ে কখনো এত কাজ করেনি।
_
গরম গরম ধোঁয়া উঠা ভাতের সাথে সর্ষে ইলিশ, বেশি করে কাঁচা মরিচ দিয়ে শিং মাছের ঝোল। কালোজিরা, ভাজা জিরা ফোড়ন দিয়ে সবজি, আলু দিয়ে ঢেঁড়স ভাজি, ছোটো আলুর ভর্তা সাথে বেগুন ভাজা। সবাই খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলল। সকলে রান্নার বেশ প্রশংসাও করেছে। আভিরার দাদি একটু খুঁত ধরলেও মেয়ের কথায় দমে গেল।
– মা রান্নায় এতটাও লবণ হয়নি যে তুমি খেতে পারবে না।
সর্ষে ইলিশ, তার মধ্যে লবণ পরিমাণের চেয়ে বেশি হলে খাবারের স্বাদ কেমন পাল্টে যায়। না নোনতা লাগে আর না সর্ষের স্বাদ বুঝা যায় তেমন।
রান্না ভালো হয়েছে। তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবুও তিনি খুঁত ধরতে ছাড়লেন না। মায়ের কাজে তাহমিদা বিরক্ত হলো। সকলে খাচ্ছে। স্বাদে ভিন্নতা হলে নিশ্চয় অন্যরাও মুখ খুলত। কিন্তু কেউ তেমন কিছু বলেনি।
তখন বয়স অল্প ছিল। না বুঝে ভাবির সাথে দুর্ব্যবহার করত। বিয়ের আগে করা কর্মকাণ্ডে তাহমিদা অনুতপ্ত, লজ্জিত। কিন্তু তার মা যেন আগের মতোই রয়ে গেছে। তার মাঝে পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই। ভাই, ভাবির বিষয়টা না হয় মানা যায়। তাই বলে নাতনির সাথেও এমন খাপছাড়া মনোভাব। নাতনির ব্যাপারে সর্বদা তিনি অনিহা দেখিয়ে এসেছেন। বড়ো ছেলের পরিবারের কাউকে নিয়েই তার তেমন মাথা ব্যথা নেই। তার বংশের প্রথম মেয়ে আভিরা। তাও মেয়েটাকে কখনো মমতা ভালোবাসা দেখিয়ে কাছে টেনে নেয়নি। বরং বরাবর দূরে সরিয়ে রেখেছে। দাদির সাথে আভিরার সম্পর্কও যেন তেমন। ঐ কুশল বিনিময় অবধি এসে থেমে যায়।
তোফায়েল আহমেদ পাতে আরেকটা ইলিশের পিস তুলে নিলেন। মেয়েটা রান্না করেছে শুনে আজ তিনি দু প্লেট ভাত বেশি খেয়েছেন। মেয়েকে সারাক্ষণ পড়ার টেবিলে দেখে অভ্যস্ত তিনি। কখনো খুন্তি হাতে রান্নাঘরে যেতে দেখেননি। মাঝেমধ্যে মায়ের কাজে সাহায্য করা, রোজ তার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজে হাত লাগায়নি। আজ সে মেয়ে কিনা দু দুটো পদ রান্না করেছে।
তোফায়েল আহমেদ যেমন খুশি হলেন তেমন ভাবনায়ও পড়ে গেলেন। এমন চলতে থাকলে মেয়ের মনোযোগ পড়ালেখা থেকে ছিটকে যেতে বেশি সময় লাগবে না। মেয়ে পড়ালেখা ছেড়ে এখনই পুরোদস্তুর গৃহিণী হয়ে যাক তা তিনি চান না। এক ঝামেলা থেকে বাঁচতে বিয়ে দিল, এখন মনে হচ্ছে অন্য ঝামেলা এসে আঁকড়ে ধরছে। খেতে খেতে উনি ভাবলেন নাওয়াজের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে।
_
আভিরা হাঁটু মুড়ে ফ্লোরে বসে আছে। আনেসা মেয়ের মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটা একেবারে চুলে তেল দিতে চায় না। বকেও কোনো লাভ হয় না। চুলে তেল দিলে নাকি কেমন তেল চিটচিটে লাগে। এখন অনেক বলে তেল দিতে বসেছে।
আভিরা আজ তালবাহানা করেনি। তার চুল কেমন জটলা বেঁধে আছে, আঁচড়াতে গেলে মাথায় টান লাগে। জোরে আঁচড় দেওয়ায় কতগুলো চুল ছিঁড়ে গেছে। তেল দিয়ে কাল সকাল সকাল শ্যাম্পু করে নিবে। শ্যাম্পু করার আগের রাতে চুলে তেল দিলে পরদিন চুল ধোয়ার পর ঝলমলে দেখায়।
শ্বশুর জামাই মিলে বদ্ধ ঘরে কী নিয়ে গোপন বৈঠক এ বসেছে তা মা মেয়ের জানা নেই। আভিরার সেদিকে আগ্রহ না থাকলেও আনেসাকে একটু চিন্তিত দেখাল। অন্যমনস্ক হয়ে একটু বেশি তেল ঢেলে ফেলেছেন। কপাল বেয়ে তেল গড়াতে আভিরা নাক মুখ কুঁচকে বলল,
– এ জন্যই আমি তেল দিতে চাই না।
মেয়ের কথা বুঝতে না পেরে আনেসা বলল,
– কী হয়েছে?
– কী হয়েছে জিজ্ঞেস করছ? দেখো কী করলে?
আভিরা একটু বাঁকা হয়ে মাকে দেখায় তার কপাল থেকে তেল গড়িয়ে পড়ছে। আনেসা চুলের আগায় তেলটুকু লাগিয়ে বলল,
– ইশ্! খেয়াল করিনি।
আভিরা গাল ফুলিয়ে সামনে ঘুরে বসল। আনেসা চিরুনি চালিয়ে চুল আঁচড়ে বেণী করে দেয়। ও ঘরে যেতে পারবে না। তাই আপাতত মেয়ের ঘরেই বসে রইল। নাওয়াজ এলো আধ ঘণ্টা পর। তার মুখ কেমন থমথমে। আনেসা বুঝল না কিছু। কী এমন কথা হলো যে নাওয়াজের মুখের এমন হাল। নাওয়াজকে রুমে আসতে দেখে তিনি আগেই বেরিয়ে গেলেন, রওনা দিলেন নিজের ঘরের দিকে।
_
নাওয়াজ দরজায় দাঁড়িয়ে আভিরাকে দেখে চলেছে। এ মেয়ের সে খেয়াল থাকলে তো। সে তো চিপস খেতে ব্যস্ত। তোফায়েল আহমেদ নামাজ পড়ে এসে মেয়ের হাতে লেইস আর কুড়কুড়ে চিপসের সবকটা ফ্লেভার ধরিয়ে দিয়েছে। যদিও কুড়কুড়ে আর লেইস চিপসের সবকটা ফ্লেভার আভিরার পছন্দ না তবুও তোফায়েল আহমেদ সবকটাই এনেছেন। মাসালা মাঞ্চ, চিলি চাটকা, স্পাইসি চিকেন আর লেইসের মধ্যে শুধু অনিয়ন ফ্লেভার আর ক্লাসিক সল্টেড আভিরার ভীষণ পছন্দের। চিপসের সাথে একটা স্পিডের ক্যান। মেয়েটা আগে স্পিডের গন্ধই সহ্য করতে পারত না। কেমন গা গুলিয়ে আসত, অসহ্য ঠেকত। আর এখন একাই একটা ক্যান সাবাড় করে দিতে পারে। তিন চারটা চিপস মুখে পুরে একটু পরপর ক্যানে চুমুক দিচ্ছে।
আভিরার গায়ে প্লাজু আর হোয়াইট লেডিস টি-শার্ট। সাদা রঙের টি-শার্টে ধুমকেতু, গ্রহ, উপগ্রহের চিত্রছাপা। হাঁটু মুড়ে বসাতে প্লাজু অনেকটা উঁচুতে উঠে গেছে। দুই বেণী করার পরও মুখের সামনে কিছু চুল পড়ে আছে। মেয়েটাকে স্কুল পড়ুয়া একটা বাচ্চার থেকে কম কিছু লাগছে না।
নাওয়াজ একটু কেশে আভিরার মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করল। সক্ষমও হলো। নাওয়াজকে দেখে মেয়েটা লজ্জায় গুটিয়ে গেল কেমন। ফ্লোরে পড়ে থাকা ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে তড়িঘড়ি করে জামা নিয়ে ওয়াশরুমে ছুটে যায়। গরম লাগছিল বিধায় পরনের কামিজটা খুলে টি-শার্ট পরেছিল। নাওয়াজের কথা ওর মাথায় আসেনি। এলে এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। আভিরা ইচ্ছে করে দেরি করেই ওয়াশরুম থেকে বের হলো। বের না হয়েই বা উপায় কী? সারা রাত তো আর ওয়াশরুমে পার করা সম্ভব নয়। বের হওয়ার আগে গলা ঘাড়ে পানি ছিটিয়ে বের হলো।
– আঞ্জুম আপনি আমার সামনে আনকমফোর্টেবল ফিল করছেন?
বের হতেই নাওয়াজের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হলো আভিরাকে। আভিরা মাথ নত করে মিনমিনিয়ে বলল,
– তেমন কিছু না।
– তাহলে আবার কামিজ পরতে গেলেন কেন? আমি কোনো বাহিরের পুরুষ না, আপনার হাজব্যান্ড। আমার সামনে এত লজ্জার কিছু নেই। জামা পাল্টানোর কোনো দরকার ছিল না।
আভিরা কী বলবে বুঝতে পারল না। যতই হাজব্যান্ড হোক। স্বল্প পরিচয়ের মানুষটার সামনে এভাবে টি-শার্ট পরে ঘুরতে তার অস্বস্তি হবে। আভিরার অবস্থা দেখে নাওয়াজ মনে মনে হাসল। এ মেয়ে কিনা দুদিন আগে তার হাতে শাড়ি পরেছিল আর এখন দেখো টি-শার্ট পরে থাকতে কত কুণ্ঠাবোধ।
– আচ্ছা আসুন এখন ঘুমাবেন…
হঠাৎ কিছু চোখে পড়তে আভিরার হাত দুটো টেনে নিয়ে বলল,
– আপনাকে এসব করতে কে বলেছিল? হাত কেমন লাল হয়ে গিয়েছে দেখেছেন?
আভিরাকে তো কেউ করতে বলেনি। সে নিজ ইচ্ছেতে সব করেছে। আসলে শিল পাটায় এই প্রথম বেঁটেছে কিনা, তাই হাতের এ অবস্থা। সরিষা বেঁটেছে। আবার ছোটো আলুর ভর্তাও করেছিল। এ ভর্তা তোফায়েল আহমেদের অনেক পছন্দের। তাওয়ায় আলু টেলে তারপর হালকা ভাজা পেঁয়াজ, লবণ, কাঁচা মরিচ দিয়ে পাটায় বাঁটা এ ভর্তার স্বাদ যেন অন্য সব খাবারের স্বাদকে হার মানাবে। জিভে জল আনার মতো স্বাদ।
নাওয়াজকে ব্যস্ত পায়ে বের হতে দেখে আভিরা পিছু ডাকল,
– কোথায় যাচ্ছেন?
– ফ্রিজে বরফ আছে না?
আভিরা বুঝল নাওয়াজ কোথায় যেতে চাচ্ছে। ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
– আপনাকে যেতে হবে না। আম্মু আমার হাতে বরফ লাগিয়ে দিয়েছিল।
আনেসা তখন মেয়ের লাল হওয়া হাত দেখে আঁতকে ওঠে।
ফর্সা হাত দুটো কেমন রক্ত লাল হয়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি করে বরফ এনে হাতে ঘষে দিয়েছিল। এতেই যেন হাতের লাল আভা কিছুটা কমে আসে।
নাওয়াজ ক্লান্ত পায়ে হেঁটে এসে বলল,
– ঘুমাতে আসুন। আর যেন আপনাকে এসব কাজ করতে না দেখি।
আভিরার কাছে নাওয়াজের কণ্ঠটা কেমন গম্ভীর ঠেকল।
নাওয়াজ কপালে হাত রেখে শুয়ে আছে। আভিরার মনে প্রশ্ন জাগল, লোকটা কী কোনো কারণে চিন্তিত? প্রশ্ন করবে কী করবে না সে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে মাঝে দূরত্ব বজায় রেখে নাওয়াজের পাশে শুয়ে পড়ল। নাওয়াজ অন্যদিকে ফিরে শুয়ে আছে। আভিরা কতক্ষণ সেদিকে চেয়ে থেকে সেও উল্টো ঘুরে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা চালায়। চোখ লেগে আসতে হাতের তালুতে কারো প্রগাঢ় ছোঁয়া টের পেল। চোখ খুলল না আভিরা। খুলতে চেয়েও পারল না যেন। ঘুমে চোখ নেতিয়ে আসছে, কানে এলো অস্পষ্ট কিছু এলোমেলো কথা।
– আপনাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকা সম্ভব নয়। আপনার বাবা কত বড়ো ছলচাতুরে লোক। বিয়ে দিয়ে এখন ছলচাতুরি শুরু করেছে। আপনার বাবা যাই করুক না কেন আমি আমার বউ রেখে যাব না।

