মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১১ ]

0
1

#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১১ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি

রাতের নিস্তব্ধতা চারপাশটা দাপিয়ে সময়ের সাথে প্রগাঢ় হয়ে উঠছে। শিবলীর আহিয়ানদের বাড়িতে পৌঁছাতে রাত এগারোটা বেজে গেল।শিবলী সদর দরজায় এসে কয়েকবার কলিং বেল চাপতেই মাশরিফা এসে দরজা খুলে দিল।মাশরিফা রোদেলার রুমেই ঘুমিয়ে পরেছিল । কলিং বেলের শব্দ শুনে উঠে এসেছে।শিবলীকে দেখেই মাশরিফা বিস্ময়ে চমকালো।

শিবলী বাইকের হেলমেট হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। গায়ে সাদা রঙের এক প‍্যান্ট আর কালো টাইট একটা টিশার্ট।স্বভাব সুলভ সে বিস্তর হেসে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,
” আমার না হওয়া শাশুড়ি আম্মা ভালো আছেন? কত করে বললাম অন্তত আর একটা মেয়ে ডাউনলোড দিও।
তাহলেই তো আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে করে, তোমাকে মুখ ভোরে শাশুড়ি আম্মা ডাকতে পারতাম।কিন্তু না, যাও দুইটা মেয়ে ডাউনলোড করেছো সব আমার জন্মের আগে।বলি আমার জন্মের পরেও তো একটাকে আনতে পারতে অন্তত । এই বিরহ আমি এখন কই
রাখি বলতো? ”

মাশরিফা ভাসুরের ছেলের কথায় লজ্জায় লাল নীল হয়ে চোখ পাঁকিয়ে তাকালো। মাশরিফা শিবলীর ডান কাল মলে দিয়ে বলল,
” তবে রে হতোচ্ছাড়া! মুখে কিছু আটকায় না, না? দাড়া তোর মাকে বলছি,কেন ছেলেকে বিয়ে দিচ্ছে না। ”

শিবলী কানে ব‍্যথা পাবার ভান করে চিৎকার দিয়ে বললো,
” আরে ছাড়ো ছাড়ো আমার না হওয়া শাশুড়ি আম্মা,এখানে কোনো টিচারগিরি চলবে না বলে দিলাম।ক্ষুধা লেগেছে দ্রুত খাবার খেতে দাও। ”

শিবলীর মুখে ক্ষুদার কথা শুনে মাশরিফা কান ছেড়ে মমতাময়ীর কন্ঠে বলল,
” না খেয়ে আছিস দেখেই তো মুখটা এমন শুকনো ঠেকছে। যা যা দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আয়।আমি
খাবার দিচ্ছি। ”

শিবলী মাথা নাড়িয়ে নিচের কমন বাথরুম থেকেই ফ্রেশ হয়ে নিল। ডাইনিং টেবিলে এসে দেখলো মাশরিফা ভাত
তরকারি বেড়ে তার জন‍্য বসে আছে।শিবলী নিজের পছন্দের গরুর গোশতের তরকারি দেখে মাশরিফার দিকে তাকিয়ে একবার হেসে দিল। মাশরিফা গ্লাসে পানি ঢেলে দিল।শিবলী এক নলা ভাত মুখে তুলেই প্রশান্তিতে গা ঝাকুনি দিল।কতদিন পর ঘরের খাবার খাচ্ছে ভাবতেই ভালো লাগছে তাল। শিবলী আরেক নলা ভাত চিবুতে চিবুতে বলল,
” এই জন‍্যই আমার আফসোসটা বুঝলে ছোট আম্মু। আমি যদি তোমার মেয়ের জামাই হতাম তবে সব সময় এমন আদর আহ্লাদ করে খাওয়াতে আমায়। ”

মাশরিফা ভ্রু কুঁচকে কথাটা শুনে শিবলীর মাথায় গাট্টা দিয়ে বলল,
” আর এখন বুঝি আদর,যত্ন করি না? ”

” তা নয়, বুঝলে ছোট আম্মু। এখন অবশ‍্যই আদর করো। তবে তখন ব‍্যপারটায় আলাদায় একটা জোস থাকতো। কেমন একটা জামাই জামাই ফিল পেতাম এ বাসায় এসে। ”

” রাখ তোর জোস ফোস। তখন মেয়ে নালিশ করলে শশুর বাড়ির সবার হাতে পেদানি খেতি বুঝেছিস বাপ। ”

শিবলী শয়তানি হাসি দিল।
” চাচ্চু কেমন আছে? বড় আপুরা এখানে
আছে এখনও? ”

মাশরিফা শিবলীর পাতে তরকারি দিতে বলল,
” ঐ লোক তো সবসময়ই ভালোই থাকে। অন্বেষা, অবন্তি গতকাল চলে যেতে নিয়ে ছিল। আমিই জোর করে রেখেছি। জামাইরা চলে গিয়েছে। ”

শিবলী মাথা নাড়িয়ে বলল,
” ওহ। তা ত‍োমার লাট সাহেব ছেলে কোথায়? বউ নিয়ে হানিমুনে চলে গেল নাকি?”

শিবলী তার মুখের কথা শেষ করতেও পারলো না তার আগেই আহিয়ানকে দেখতে পেল। আহিয়ান নিচে এসেছিল ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি নিতে। আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে শিবলী দেখছে।আহিয়ানকে দেখে মনে হচ্ছে, সে যেন জ্বলজ‍্যান্ত কোনো আপদকেই দেখছে এখন। আহিয়ানের চোখের চাহনি লক্ষ‍্য করেই শিবলী ঠোঁট কামড়ে হাসলো। সেই হাসি দেখেই আহিয়ান বিরক্তিতে সরে গেল। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে গলায় ঢালছিল আহিয়ান।শিবলী সেটা লক্ষ‍্য করে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলল,
” মানুষ দেখি বিয়ে করে আরও হ‍্যান্ডসাম হয়ে যাচ্ছে। আমি অবশ‍্য সিঙ্গেল মানুষ। তবে যতটুকু বুঝলাম এই রুপের রহস‍্যে লুকিয়ে আছে ‘ বউ এর আদরের পাওয়ার’।তাই তো একজন সাসপেন্ড থাকা সত‍্যেও দিন দুনিয়া ভুলে খালি রূপের আলো ছড়াচ্ছে। আর আমরা হতচ্ছাড়া সিঙ্গেলরা সূর্যের তাপে পুড়ে দিন দিন কাইল্লা হয়ে যাচ্ছি। ছ‍্যাহঃ! ”

শিবলীর মুখ থেকে বউ আদরের কথা শুনে আহিয়ান খকখক করে কেঁশে উঠলো। আহিয়ান আড় চোখে কাঁশতে একবার মায়ের দিকে তাকিয়ে কটমট করে তাকালো শিবলীর দিকে। আহিয়ানকে জ্বালাতে শিবলী আবার গা ছাড়া ভাব করে দাঁত বের করে হাসলো।

মাশরিফা আর দাড়ালো না।এই ছেলের মুখে কি থেকে কি বের হয় তাই আগেই চলে যেতে যেতে বলে গেল,
” শিবলী বাবা আর রাত করিস না।গেস্ট রুমের দরজা খুলে রেখে এসেছি গিয়ে ঘুমিয়ে পর। ”

মাশরিফা কয়েক কদম এগিয়েও আবার আহিয়ানের কাছে গিয়ে দাড়ালো। আহিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
” বড় হয়েছ,এখন তো হাত পা গজিয়েছে। তাই মায়ের কথার গুরুত্ব দাও না। বলি মেয়েটাকে যেভাবেই হোক বিয়েতো করেছ।তাহলে এভাবে অবহেলা কেন করছো আহিয়ান? ”

মায়ের কথায় আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকালো। সে মায়ের কথা শুনে না এটা তার মম কিভাবে বলল বুঝতে পারছে না আহিয়ান। আহিয়ান কিছু বলতে নিবে তার আগেই মাশরিফা বলল,
” মেয়েটার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।বিকেল থেকে জ্বর এখনও কমছে না। অথচ তুমি তোমার বউ এর যে জ্বর এসেছে,আমি নিশ্চিত তুমি এটাও জানো না। ”

আহিয়ান চমকালো জ্বর এসেছে রোদেলার। তার আম্মু অবশ‍্য ঠিকি বলেছে সে এসব জানে না। আর জেনেই কি করবে সে। আহিয়ানের দুপুরের ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘঠনার কথা মনে পড়ে গেল।আহিয়ানের আবার বুকের ভেতরে খচখচ করে উঠলো। আহিয়ানের দুই চোখে স্নিগ্ধ, শিশু সুলভ,লজ্জা মাখা কিশোরীর মুখখানা ভেসে উঠলো।আহিয়ান নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো।মনে মনে ভাবলো,
” জ্বর আসার কারণটা কি, দুপরের সেই…”
আর ভাবতে পারলো না আহিয়ান।নিজের ভেতরেও একটা অস্বস্তি উপলব্দি করতে পারলো সে।

মাশরিফা ছেলের হাব ভাব কিছু বুঝতে না পেরে চলে গেল রোদেলার কাছে।আজকে তিনি এই রুমেই ঘুমাবেন।মাশরিফা চলে গেলে আহিয়ান তার লুঙ্গির এক পাশের অংশ মুঠো করে ধরে সামনে এগোতে না এগোতেই শিবলী এসে তার পথ আটকে দাড়ালো।আহিয়ান বিরক্ত হয়ে কটমট করে তাকালো।
” এভাবে ভেড়ার মতো সামনে দাড়িয়ে আছিস কে? ”

শিবলীর ঠোঁটে শয়তানি হাসি। আহিয়ানকে উপর নিচ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে আর হাসছে সে।আহিয়ান বিরক্তিতে দাঁতে দাত চেপে কড়মড় করছে। আহিয়ান বিরক্ত হয়ে বললো,
” সর তো বাল। পুরুষ মানুষ যে আরেক পুরুষ মানুষকে এত নির্লজ্জের মতো দেখতে পারে আগে জানতাম না। নিশ্চয়ই তোর গুপ্ত জায়গায় কোনো প্রবলেম আছে। ”

শিবলী শব্দ করে হেসে ফেললো।আহিয়ানকে জোর করে জড়িয়ে ধরলো শিবলী।আহিয়ান শিবলীকে ঠেলে সরাতে সরাতে বললো,
” ছেড়ে দে শয়তান! ”

শিবলীর হা হা করে হাসির আওয়াজে পুরো ঘর মুখোরিত। আহিয়ান নিজেকে ছাড়িয়ে উপরে চলে যেতে নিলে,শিবলী আবার আহিয়ানের একটা হাত টেনে ধরলো।এবার আহিয়ান চরম বিরক্ত হয়ে বলল,
” ছেড়ে দে শয়তান! তুই আমার দেহ পেলেও,
মন পাবি না। ”

শিবলী ভাব নিয়ে চুল পিছনে ঠেলে দিতে দিতে, হাসতে হাসতে বললো,
” তোমার দেহটায় দরকার গো জানু। ”

আহিয়ান এবার সিরায়াস হয়ে বিরক্তিতে এক হেচকা টানে নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে এক ধমক দিল।ধমক খেয়ে শিবলীও শান্ত হলো। আহিয়ানের সাথে তার আজ একটু বেশিই শয়তানি হয়ে গিয়েছে। আহিয়ান বিরক্তিতে সিড়ির দিকে পা বাড়াতেই শিবলী গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বলল,
” বলছিলাম ব্রো তোর একটা এক্সট্রা লুঙ্গি থাকলে দে না। লুঙ্গিটা পরে তোর মতো হাওয়া লাগিয়ে একটু শান্তিতে ঘুম দিই। ”

আহিয়ান শিবলীর কথায় পাত্তা না দিয়ে সামনে এগোতে এগোতে বলল,
” লিমিটেড কালেকশন। ওয়ানলি ওয়ান পিস। তুই ড‍্যাডের কাছ থেকে চেয়ে নে। ”
কথাটা বলেই আহিয়ান ধুপধাপ পা ফেলে নিজের রুমে চলে গেল।

আহিয়ানকে চলে যেতে দেখে শিবলী পিছন থেকে জোরে জোরে বলল,
” গুড নাইট।স্লিপ টাইট উইথ ইয়োর ওয়াইফ। ”

আহিয়ান শিবলীর শেষ কথাটুকু শুনে ঠোঁট বাকালো।মনে মনে বিড়বিড় করলো,
” কত যে টাইট ঘুমোচ্ছি,তুই আর কি বুঝবি শালা। ”

___________

সকাল সকাল গায়ের তাপমাত্রা একটু কমতেই রোদেলা বাচ্চাদের নিয়ে বাগানের সামনে হাটতে বের হয়েছে।জয় রোদেলার আঙুল ধরে সামনে এগোচ্ছে।অন্ত আর অনন‍্যা আগে আগে হাটছে।আহিয়ান ছাদে দাড়িয়ে রোদেলা আর বাচ্চাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। রোদেলার মুখটা জ্বরে এক রাতেই কেমন শুকিয়ে গিয়েছে। আহিয়ান সেটা লক্ষ‍্য করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। আহিয়ান পকেট হাতরে সিগারেটের প‍্যাকেটটা বের করে একটা সিগারেট নিল।আহিয়ান মুখে সিগারেট পুরে তাতে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে একটা টান দিয়ে ধোঁয়া উড়ালো। আহিয়ানের চোখ দুটি এখনও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রোদেলাকে পরখ করছে।আহিয়ানের চোখে এক ধরনের শূন‍্যতা তবুও তার গভীর চোখের মাঝে কোথায় একটা কিছু খেলা করছে।

তখনি শিবলী বাসার গেইট দিয়ে প্রবেশ করলো। ও সকাল সকাল টো টো করতে গিয়েছিল। আসলে হাটাহাটি তো নাম মাত্র।হাটার অজুহাতে শিবলী শহরের মেয়েদের দেখতেই বেরিয়ে ছিল বটে। এই তো মাত্রই তিনটা মেয়ের সাথে ফ্লাটিং করে ফিরেছে। মেয়ে গুলোও নির্লজ্জের মতো, তাকে জোর করেই নিজেদের ফোন নাম্বার দিয়ে গেল।শিবলীর সকাল সকাল তিনটা অচেনা মেয়েকে পটাতে পেরে,তার শরীরটা বেশ চাঙ্গা লাগছে। অবশ‍্য সে তার দৌড় মেয়েদের পিছনে পটে যাওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে।যখনি মেয়েরা পটে যায়, তখনি সেই মেয়ে বাদ হয়ে যায় তার লিস্ট থেকে।

মেয়ে তিনটাই বিভিন্ন ছলে শিবলীর হাতে ছোট ছোট চিরকুটে নিজেদের ফোন নাম্বার দিয়ে গিয়েছিল। শিবলী ঠোঁট টিপে হেসে মেয়েদের অগোচরে সেগুলো পার্ক এড়িয়াতেই ফেলে এসেছে।

শিবলী বাড়িতে ঢুকেই একটা বাচ্চা সুলভ কিউট মেয়েলী মুখশ্রি দেখে চোখ বড় বড় করে দাড়িয়ে পরলো। রোদেলা তখন জয়কে কোলে তুলে নিচ্ছিল।হঠাৎ সামনে চোখ পরতেই একটা লোককে নিজের দিকে এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে সে জমে গেল।রোদেলা মাথার ওড়নাটা আরও টেনে ঘোমটা বড় করে নিল। তবুও শিবলী ঝটকা লাগার মতো ড‍্যাব ড‍্যাব করো রোদেলার দিকে তাকিয়ে আছে।তার মনে একটা গান বেজে উঠলো-

এই বুকের মাঝে আগুন জ্বলে
নিভে নারে জ্বল ছিটালে
কবে দিমু গলায় মালারে

আরে কবে কবে কবে আইবে পালারে
আরে দিমু গলায় মালারে মালারে মালারে
কবে আইবে আমার পালারে
কবে দিমু গলায় মালারে মালারে মালারে

শিবলীর খুশিতে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। এতো সুখ সে কোথায় রাখবে।কাল শুধু একবার সে ছোট মাকে নিজের দুঃখের কথা জানিয়ে, তার জন‍্য একটা মেয়ে ডাউনলোড করতে বলল।আর সকাল হতে না হতেই তার ছোট মা একটা জলজ‍্যান্ত পরী ডাউনলোড দিয়ে দিল। শিবলী মনেমনে মাশরিফাকে প্রাণ থেকে খুব দোয়া করলো।শিবলী রোদেলার দিকে তাকিয়ে লাজুক হেসে মনেমনে বলল,
” কি সুন্দর! ছোট মা তুমি হাজার বছর বেঁচে থাকো।তুমি আমার কষ্টের কথা চিন্তা করে যে একদিনে এতো বড় পরী ডাউনলোড দিবে, আমি তা ভাবতে পারিনি। ”

রোদেলা শিবলীর দৃষ্টি লক্ষ‍্য করে নিজেকে আরও গুটিয়ে নিল। অন্ত রোদেলার কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
” মামি এটা আমাদের শিবলী মামু। যা বজ্জাত।তুমি একটু পরেই টের পাবে। ”

শিবলী ঠোঁট কামড়ে ভাবলো,
নিশ্চিত এই পরীটাকে তার ছোট আম্মু আরও আগেই পৃথিবীতে এনেছিল।তবে রূপকথার গল্পের মতো পরীকে এতোদিন হয়তো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। শিবলীর তো মনে হয়,আহিয়ান পাজিটায় এই পুতুলটাকে এতো কাল লুকিয়ে রেখে ছিল। সে যাক,সে যে পরীর দেখা পেয়েছে এই ঢ‍ের।

শিবলী এবার পলক ঝাপ্টে এক পলক চোখ ঘুরিয়ে বাচ্চা তিনটাকেও দেখে নিল।বাচ্চাদের উদ্দ‍েশ‍্যে বলল,
” হ‍্যালো! পঙ্গোপালের দল। ভালো আছি তোরা। ”

বাচ্চা তিনটা সবিনয়ে মাথা ঝাকিয়ে বলল,
” ভালো ভালো। তুমি কেমন আছো মামু। ”

শিবলী ঠোঁটের হাসি বৃস্তিত রেখেই বলল,
” এই তো বেশ। তা তোদের মাঝে এই পরীটা কে রে? ”

পরী বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে অন্ত আর অনন‍্যা বুঝতে না পেরে বলল,
” কি? আবার বল। ”

রোদেলার অপরিচিত লোকটার কথায় বেশ অস্বস্তি হচ্ছে। সে পিছনে ঘুরে চলে যেতে নিলেই, শিবলী রোদেলার পিছু পিছু এক পা বাড়িয়ে তার হাত ধরতে নিল।তখনি সেখানে আহিয়ান ঝড়ের মতো এসে উপস্থিত হলো।শিবলী রোদেলার যে হাতটা ধরতে নিচ্ছিল। আহিয়ান রোদেলার সেই হাতটা আগেই মুঠো করে ধরে, রোদেলাকে নিজের কাছে সরিয়ে নিতে নিতে শিবলীকে বলল,
” কি করিস বান্দর ? এইটা আমার বউ। ছুঁবি না একদম বলে দিলাম। দূরে সর হারামজাদা। ”

শিবলী আহিয়ানের ফাটা বাঁশের মতো গলায় চিৎকারে লাফ দিয়ে কয়েক কদম দূরে সেরে গেল। শিবলী আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে সেও দ্বিগুন জোরে চিল্লিয়ে বলল,
” না এ হতে পারে না। এ আমি বিশ্বাস করি না।এই ফুলকলি শুধুই আমার। তুই মিথ‍্যা কথা বলছিস। ”

আহিয়ান রাগে কটমট করতে বলল,
” তোর বিশ্বাস অবিশ্বাসে আমি হিসুও করি না। এই সুন্দরী কেবল আমার।ঘাওরার বাচ্চা ঘাওরা সর। আমার বউ এর দিকে একদম নজর দিবি না। ”

রোদেলা আহিয়ানের দিকে আহমকের মতো তাকিয়ে আছে। আহিয়ান যে এ ধরনের আচরণ করতে পারে সে জীবনেও কল্পনাও করেনি। তাছাড়া সামনের লোকটার আচরণে রোদেলা রীতি মতো ভরকে আছে। এই দুই পাগলের মুখের প্রলাপ শুনে রোদেলার নিজেকেও পাগল পাগল লাগছে।

রোদেলার সাথে আহিয়ানের চোখাচোখি হতেই রোদেলা জমে গেল। গতকালের ঘটনা দু’জনের স্মরণ হতেই দু’জন তড়িৎ গতিতে ছিটকে সরে গেল। আহিয়ান রোদেলার কোল থেকে জয়কে নিজের কোলে নিয়ে নিয়েছিল আগেই।রোদেলা আহিয়ানের থেকে দূরে সরতেই আর কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বাসার ভিতরে চলে গেল।

________

বিকেলে দুইটা গাড়িতে করে সবাই রওনা হয়েছে আহিয়ানদের গ্রামের বাড়িতে। আহিয়ানদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামে। রাজশাহী সদর থেকে এখানে পৌঁছাতে প্রায় ১ ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা ২০ মিনিট সময় লাগে।

রোদেলা আর আহিয়ান এক গাড়িতেই আছে। আহিয়ান নিজেই এই গাড়িটা চালাচ্ছে।রোদেলা আহিয়ানের পাশের সিটে বসেছে। তার কোলে ছোট জয়। আহিয়ানের দুই বোন অন্বেষা আর অবন্তি পিছনে বসেছে। তাদের মাঝে বসে আছে অন্ত। অনন‍্যা তার অবন্তি খালামনির কোলে বসেছে।
অন‍্য গাড়িটা ড্রাইভার চালাচ্ছে।জাবির আহমেদ ড্রাইভার এর পাশের সিটে বসেছে।পিছনের দুই সিটে মাশরিফা আর আফিয়া বসে আছে।
শিবলী তার বাইকে যাচ্ছে।সে কখনও দুই গাড়ির সামনে, কখনও আহিয়ানের গাড়িটার পাশাপাশি বাইক চালাতে চালাতে শয়তানি করছে। আহিয়ান শক্ত গম্ভীর মুখে ড্রাইভ করছে।

আহিয়ানদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ‍্যা নেমে এলো। বিশাল একটা বাড়িটার সমনে দুটো গাড়ি থামতেই একে একে সবাই নেমে পরলো।

শিবলী আগে আগে পৌঁছে সোজা বাইক নিয়ে গেইট পেরিয়ে ভেতরে চলে গেল। ভিতরে ঢুকার সময় সে অযথায় সাইরেন বাজাচ্ছিল। আহিয়ান শিবলীর এর কান্ড দেখে রীতি মতো বিরক্ত। বাড়ির সবাই বাইকের শব্দে খুশিতে দৌড়ে বের হয়ে এলো।

চলবে….

( সবাই রেসপন্স করবেন। এই পর্বে 1 k রিয়েক্ট পূর্ণ হলে নতুন পর্ব আসবে )

#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী লিংক –
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122135154681048169/

সব গল্পের লিংক একত্রে:
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122136299541048169/?app=fbl

সবাই গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প সম্পর্কে মতামত জানাবেন।
গ্রুপ লিংক- https://facebook.com/groups/2493488501095403/

আইডি লিংক – https://www.facebook.com/profile.php?id=61583969099988

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here