মেঘের মুলুকে চল
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ১৫
[ মানুষজন! জোবরা ভার্সিটি থেকে এসে মহা ক্লান্ত হয়েও আজকের পর্বটা লিখেছি। গঠনমূলক মন্তব্য জানালে খুশি হবো ]
নাজিয়ার প্রচন্ড বিগড়ে যাওয়া মনমেজাজ ঠান্ডা হলো মুহুর্তেই। বদ টা কেমন হিরোর মত এন্ট্রি নিলো! কি চমৎকার নায়ক টাইপের বর নাজিয়ার! গতকাল রাতে গুগল সার্চে প্রেমে পড়ার পর উঠে দাঁড়ানোর যত করণীয় জেনেছে সব ভুলে বসল এক লহমায়! নতুন করে এক ধাক্কায় আবার বদ টার প্রেমে পড়ল সে। আবার নিজেকে নিজে খানিকটা ভর্ৎসনাও করল মেয়েটা। এমন সাংঘাতিক টানটান উত্তেজনার পরিস্থিতিতে তার কিনা এরকম প্রেমপ্রেম চিন্তা মাথায় ঘুরছে!
নাজিয়ার মন ঠিক আন্দাজ করেছিল একদম৷ প্রেমে পড়লে নাজিয়ার চুড়ান্ত অধঃপতন হবে৷ অধঃপতনের একটা নমুনা আজ দেখল ত সে। এই যেমন এরকম সিরিয়াস মোমেন্টেও বদ টার প্রতি প্রেম প্রেম পাচ্ছে তার!
আপাতত এসমস্ত হাবিজাবি ভাবনার লাগাম টেনে চটজলদি ফিরে ডাইনি টাকে দেখল সে। দেখত চাইল বদ টার কথা শুনে কেমন রিয়েকশন ডাইনিটার৷ যা দেখল তাতে নাজিয়ার ফুরফুরে মেজাজ বিগড়ে গেল মুহুর্তেই। দেখল ডাইনি টা কেমন ড্যাবড্যাব চোখে নাজিয়ার নায়ক বরটাকে গিলে খাচ্ছে! বের করবে নাজিয়া এই গিলে খাওয়া!
হিরোর মতন দেখতে বর টা যে কেবল এবং কেবলমাত্র নাজিয়ার ডেইজির সামনে এটা প্রমাণ করতেই যেন নাজিয়া লিভিং রুম থেকে দ্রুত পা চালিয়ে আযানের নিকটে গেল৷ একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে খুব নাটকীয় গলায় বলল, ‘আজ তাড়াতাড়ি কিভাবে ফিরলেন!’ আযানের মেজাজ তখন চড়ে আছে। খেয়াল করতে পারল না মেয়েটার কন্ঠের তারল্য, কথার নাটকীয়তা। বরং চোখমুখ কুঁচকে বলল, ‘সেসব রাখো৷ এই ঝামেলার পার্টনার কই? ঝামেলা নিশ্চয়ই একা একা বাসা চিনে আসে নি! রা স্কেল টা এখন কোন রুমে!’
আযান যে ডেইজি কে ঝামেলা বলে সম্বোধন করেছে সেটা নাজিয়া প্রথমে ধরতে পারেনি। শেষের কথাটা শুনে ব্যাপারটা বুঝে আসতেই হেসে ফেলল শব্দ করে। আযান বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলল৷ বেকুব টা আসলেই বেকুব। পরিস্থিতি যে সিরিয়াস সেটা বুঝে না! কখন হাসতে হবে সেটার সেন্স ও নেই!
তবুও মেয়েটাকে এমন প্রাণখুলে হাসতে দেখে তার ভালো লাগল। অফিসফেরত ক্লান্ত শরীর মন চনমনে হয়ে উঠল মুহূর্তেই ।এই হাসিটার একটা নাম দেয়া উচিত তার। নাম টা এরকম হতে পারে , ম্যাজিক হাসি। কারণ ম্যাজিকের মতই ত হাসিটা সেকেন্ডে মন ভালো করে দেয় আযানের। তবে কখনো এ ব্যাপারে বেকুব কে জানাবে না সে৷ নাহলে দেখা যাবে পাগলের মত চব্বিশ টা ঘন্টা হাহাহিহি চলতেই থাকবে বাঁদর টার। আযানকে ভয়টয় ও পাবে না আর। এমনও হতে পারে আযানের বকাধমক শুনে হাসতে হাসতে নির্দ্বিধায় তার গায়েই ঢলে পড়ছে!
ডেইজি র বর বউয়ের এত হাসি ঠাট্টার পর্ব টা অসহ্য লাগছিল। চেহারার আদলে খানিকটা মিল থাকায় বুঝতে পেরেছে ছেলেটা হয়তো ইমানের ভাই। পরিস্থিতির চাপে পড়ে যে তাদের বিয়েটা হয়েছে সেটাও ইমানের কাছ থেকে জানা তার৷ তাহলে মেয়েটার সাথে ছেলেটার এত ভাব কিসের! কেন দুদিনের পরিচিত মেয়েটার জন্য এভাবে স্ট্যান্ড নিবে ছেলেটা! অনেকের বছরের পর বছর ধরে চলা সম্পর্কেও ত ভালবাসার ব্যাপারটা থাকে না আর এ দুজনের মধ্যে দুদিনেই এত ভাবভালোবাসা! তাদের দেখেও ত লাগছে একজোড়া সুখী দম্পতি র মত।
ডেইজির হিংসা কুটিলতায় ভরপুর মন মেনে নিতে পারল না এমন দৃশ্য। মেয়েটার মতন সে ও ত এই বাড়ির ছেলেকেই বিয়ে করেছে। বিয়ের আগে লিভ টুগেদারে থাকলেও শেষমেশ বিয়ে করে ব্যাপারটাকে বৈধ ত বানিয়েছে তাহলে তার আর মেয়েটার মধ্যে এমন কি তফাত! কেনো এই মেয়েটা সব পাবে আর সে কিচ্ছু পাবে না! খানিকক্ষণ আগে আযানের বলা কথাটাও বের হলো না মাথা থেকে৷ চেপে রাখা রাগ তরতরিয়ে বেড়ে উঠল। দাঁত কিড়মিড় করে আযানকে কিছু কড়া কথা শুনানোর ইচ্ছে সামলাতে পারল না আর৷
‘আমার পেটের বাচ্চাটা আপনার ভাইয়ের৷ সো ডন্ট টক টু মি লাইক দ্যাট!’
আযানের চেহারায় রাজ্যের বিরক্তি এসে ভর করল৷ মেয়েলি ঝগড়াঁঝাটি কথাবার্তায় ইনভলভ হওয়া তার স্বভাববিরুদ্ধ। নেহাৎ বেকুবটাকে কথা শুনানো হচ্ছিল তাই সেও দুটো কথা বলেছিল! বেকুব টাকে যা বকাধমক দেয়ার কিংবা কথা শুনানোর সেটা আযান শুনাবে। আর কেউ সেই সাহস পাবে কেন!
বুঝল খানিকক্ষণ আগে বলা কথা দুটোর সুবাদে এখন সামনে দাড়ানোঁ ঝামেলা টা তার সাথে ঝামেলা করতে চাচ্ছে! অবশ্য ইতর টার পছন্দ যেরকম! ভালো লক্ষী কোনো মেয়েকে সাথে নিয়ে আসলে আযান নিজেও অবাক হতো।
আযান ঝামেলা টার কথায় এতো পাত্তা দিল না আর। আসল হিসেব ত চুকাবে ইমান ইতর টার সাথে!
আরমান ভুঁইয়া ততক্ষণে লিভিং রুমে এসে দাঁড়ালেন৷ মেয়েটাকে নজর এড়ালো না তার৷ ফোলা পেট টা চোখে পড়তেই বিতৃষ্ণায় নজর ফিরিয়ে নিলেন দ্রুত৷ এরকম অনাচার না দেখার জন্যই ত কুলাঙ্গার টাকে বাসায় আসতে মানা করেছিলেন। কিন্তু বেয়াদব টা কথা শুনল কই! এতদিন বাপ হিসেবে ন্যুনতম যতটুকু স্নেহ ছিল সব যেনো কুলাঙ্গার টার আজকের আচরণে কঠোরতায় ঢাকা পড়ে গেল। তিনি ভরাট গমগমে গলায় উচ্চস্বরে বলতে থাকলেন, ‘ইমান! যেই রুমেই আছ বেরিয়ে আসো। বাসায় আসতে মানা করেছি না তোমাকে আমি! মাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমার সিদ্ধান্ত ই এই বাড়িতে শেষ কথা৷’
ইমানের ধারণাও ছিল না তার বাপ বাড়িতে। সচরাচর এই সময়ে তিনি বাইরে থাকেন। বুঝল আজ গ্যাঁড়াকলে পড়েছে সে, সবদিকে ঝামেলা৷ মা ও কোনো কথাবার্তা না শুনেই কান্নাকাটি শুরু করেছে ছেলেকে দেখে। মাকে বাগে আনার সময়টুকুই পেলো না তার আগেই বাপ এসে পড়েছে। সে পুরো ব্যাপারটা ঠান্ডা মাথায় সামলে নেয়ার পরিকল্পনা এঁটে ফেলল মনে মনে৷ নিমিষেই চোখমুখ অতি ভদ্র স্বাভাবিক বানিয়ে মা কে নিয়েই লিভিং রুমে এলো৷
আযান দেখল দুজনকেই। মায়ের ফোলা চোখমুখ দেখে ব্যাপারটা বুঝে নিতে এক সেকেন্ডও লাগল না তার। কতটুকু ব্রেইনওয়াশ করেছে কে জানে! হয়তো কিছুক্ষণ পর মা বলেই বসবে তার প্রিয় পুত্র যা করেছে না বুঝেই করেছে! মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল সে। মায়ের কাছ থেকে এমনিও এখন কোনো প্রত্যাশা নেই তার। তাই আগ বাড়িয়ে কিছু না বলে চোখমুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকল৷ এক ধ্যানে দেখল তার ইতর প্রতারক লম্পট বড় ভাইকে।
কথা শুরু করলেন আরমান ভুঁইয়া ই৷ পরিবারের মুরব্বি হিসেবে সাফ সাফ জানালেন ইমান এবং ইমানের বউকে এই ফ্যামিলিতে এক্সেপ্ট করা হবে না৷ ইমান বহু বাকবিতন্ডা করল বাপের সাথে৷ ইমানের তখনও বিশ্বাস হচ্ছিল না তার প্রতি তার বাপের মায়া মহব্বত ভালবাসা সব একেবারে উবে গেছে। যে বাপ ছোটবেলায় তাকে আকাশের চাঁদ চাইলে চাঁদ এনে দেয়ার মতন মানুষ ছিলো সেই মানুষটা কিভাবে আজ একটা সামান্য অপরাধের জের ধরে তাকে ঘরছাড়া করতে উঠেপড়ে লেগেছে এটাই ইমান মেনে নিতে পারছিল না।
সামান্য অপরাধ ই ত সে করেছে! এমন চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে খেতে কখন যে মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো নিজেও টের পেলো না। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বলে বসল বেফাঁস কিছু কথা, ‘আব্বু আপনি বারবার বলছেন আমি বিরাট সব অপরাধ করেছি। একটা মেয়েকে ঠকিয়ে বিয়ে করতে বসেছিলাম। কিন্তু বিয়ে টা ত শেষমেষ হয়নি। কি এমন ক্ষতি হয়েছে নাজিয়ার! এমন ত না যে আমি বিয়ে করে ওকে প্রেগন্যান্ট বানিয়ে আবার আরেকজনের কাছে গেছি। তাহলে কেন…….’
কথা বাকিটা শেষ করতে পারল না হঠাৎ আসা শক্তপোক্ত হাতের জোরালো ঘুষির তোড়ে৷ ইমান তীব্র ব্যথায় চোয়াল ধরে দাঁড়া থেকে বসে পড়তেই নিভুনিভু চোখে দেখল তার ছোটভাইকে। আযান তার শার্টের কলার ধরে ভীষণ রাগ নিয়ে বলছে একেকটা কথা।
‘রা স্কেল! তোর সাহস কি করে হয় ওকে নিয়ে এরকম কথা বলার! বউ হয় ও আমার!
শা লা প্রতারক লম্পট একটা…..’
ইমানের বলা কথাগুলোতে অপরাধবোধের লেশমাত্র ছিল না। তাই অবাক বিস্ময়ে সবাই শুনছিল তার কথাগুলো। কেউ খেয়ালও করতে পারেনি কখন চোখের পলকে আযান একছুটে গিয়ে জোরসে ঘুষি চালিয়ে দিয়েছে তার মুখ বরাবর। নাজিয়া ব্যাপারটা বুঝে উঠতেই চটজলদি গিয়ে বর কে থামাতে চাইল৷ তার শশুর শাশুড়ি দুজনেই ত আছে এখানে। এই মাথাগরম লোক তার বরাতে মারামারি করতে গেলে নাজিয়াকে ই ত দোষী ভাববে তার শাশুড়ি। মহিলাকে ত নাজিয়া চিনেছে এ কদিনে। তাই প্রাণপণে দৌড়ে গিয়ে চেষ্টা করল আযানকে থামানোর।
ইশিতা ভয় পেয়ে তখন জামার গলার কাছটায় খামচে ধরে দাঁড়িয়ে আছে একজায়গায়। ছোট থেকেই জানে ছোটভাইয়ার রাগ বেশি৷ তার রাগ হলে কেউ টুঁ শব্দটিও করে না, বাঁধা ও দেয় না ভয়ে । যে বাধাঁ দেয় তার উপর ছোটভাইয়া সমস্ত রাগ উগড়ে দেয়৷ তাই তার চিন্তা হচ্ছিল সবার সামনে ছোটভাইয়া ভাবিকে ধমকটমক দিয়ে বসবে কিনা।
নাজিয়া তখন আযানের পিঠের দিকটায় দুহাত দিয়ে তাকে প্রাণপণে ইমানের কাছ থেকে ছুটিয়ে আনার চেষ্টায় ব্যস্ত। বারবার কাতর গলায় আকুতি করছে, ‘প্লিজ প্লিজ থামুন৷ আব্বু আম্মু আছে ত এখানে। ওনারা বিচার করবেন। প্লিজ ছাড়ুন ওনাকে, প্লিজ!’
রাগের মাথায় থাকলেও আযান বোধবুদ্ধি একেবারে হারিয়ে বসল না৷ জানে চড়া মেজাজে একটা ঝটকা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলেই মেয়েটা কোথাও পড়ে ব্যথা পাবে। আর না পড়লেও পরে মনখারাপ করে বসে থাকবে আযানের এমন ব্যবহারে। তাই মাথা ঠান্ডা না হলেও সরে এলো দূরে। নাজিয়ার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এককোনায় দাঁড়িয়ে ক্রমাগত কপালে আঙুল ঘষতে থাকল৷ নিজেই চেষ্টা করল রাগ কমিয়ে আনার৷
ইমান তখনো স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেনি ব্যাপারটা। এতটা অচ্ছুৎ হয়ে গেছে সে এখন, এতটা সস্তা! যে তার ছোটভাই এসে তার গায়ে হাত তুলবে! ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে কত মার খাইয়েছে সে আযানকে। আর আজ কিনা সে নিজে মার খেলো সেটাও তার হাতে! মনমেজাজ মানতে পারল না এমন অপমান। তাই ছোটবেলার অভ্যেস থেকেই চেষ্টা চালাল মাকে উত্তেজিত করে দেয়ার। উচ্চ গলায় তীব্র রাগ নিয়ে বলে বসল, ‘দেখেছ তুমি? একটা মেয়ের জন্য তোমার ছেলে গায়ে হাত তুলল আমার। একটা দুদিনের মেয়ের জন্য। এখন ভাই দরকার নেই ওর।’
সফলও হলো ইমান নিজের অভিসন্ধিতে। রেহনুমা ভুইঁয়া র মনে নাজিয়ার জন্য এতদিন ধরে যে অনীহার আগুন একটু একটু করে জ্বলে উঠছিল আজ যেনো তা মাত্রা ছাড়াল৷ তীব্র বিতৃষ্ণায় তিনি মেয়েটাকে দেখলেন৷ তৎক্ষনাৎ কিছু কথা শোনাবেন তার আগেই কানে আসল তার স্বামীর গমগমে গলার আওয়াজ৷
‘ইমান!
তুমি এই মুহূর্তে এই বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে৷ আর মাকে বলছিলে না যে একটা মেয়ের জন্য তোমার ভাই তোমার গায়ে হাত তুলেছে! মেয়েটা বউ হয় ওর! আর আমার ধারণা ও ঠিক কাজ টাই করেছে৷’
এটুকু বলেই আরমান ভুঁইয়া এই দীর্ঘ বাকবিতন্ডার ইতি টানতে চাইলেন!
কিন্তু ইমানের মন তখনও মানতে নারাজ সবকিছু। এতটা সহজে সবকিছু তার হাতছাড়া হয়ে যাবে! বাপের আস্থা বিশ্বাস পুনরায় অর্জন করতে এই বাসায় ঘাঁটি গেড়ে বসাটা জরুরি ছিল তার জন্য। কিন্তু এখন দেখছে সব পরিকল্পনা ভন্ডুল হবে৷ শেষ ভরসা হিসেবে করুণ চোখে মায়ের দিকে তাকাল সে৷ দেখল তিনি মুখ চেপে কান্না আটকাচ্ছেন৷ ইউজলেস মহিলা একটা, তীব্র ক্ষোভে ইমান বিড়বিড় করল মনে মনে৷
আরমান ভুঁইয়া জানেন ছেলের মতিগতি। সে যে সহজে মানবে না বাড়ি ছাড়তে এটাও জানেন৷ তাই আরো কিছু কথা বললেন।
‘ইমান! আমার মনে হয়না বাড়ি ছাড়ার বিষয়টা তোমার জন্য এতটা মর্মান্তিক হবে৷ বাড়িতে ত তুমি বছরের পর বছর এমনিও ছিলে না! ছেলে হিসেবে এখন যে ব্যাংক ব্যালেন্স প্লট তোমাকে অলরেডি আমার তরফ থেকে দেয়া হয়েছে সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাক৷ তোমার বউকে সেখানে গিয়ে রাখো।
এরপরও তুমি যদি আরো কোনো কথা বলতে চাও তাহলে এটুকু জেনে রাখো আমি আর তোমার সাথে বাবা হিসেবে আচরণ করব না৷ তোমার সাথে ডিল করব একজন তুখোড় বিজনেসম্যান হিসেবে৷ আর এটা নিশ্চয়ই জানো ব্যবসায়ীরা নিজের লাভ লোকসান বাদে আর কিচ্ছু দেখে না!’
ইমান খানিকটা ভয় পেল বাবার এমন ঠান্ডা গলার কথাবার্তা শুনে। শেষের কথাটা যে নিছক হুমকি নয় এটাও জানে৷ বাবাকে চেনা আছে তার৷ যেমন মানুষকে ভালবেসে মাথায় তুলতে পারে সেরকম মন উঠে গেলে তুলে আছাড় ও মারতে পারে।
ইমান আযহার ভুইঁয়া তার দীর্ঘ একত্রিশ বছরের জীবনে সেই প্রথমবার বুঝল চালাকির জোরে সবকিছু থেকে পার পাওয়া যায় না। যার কর্মফল তার ভোগ করতেই হয়।
[ Inkpetal- by Sabiha এই চমৎকার মেয়েটা চমৎকার টাইপোগ্রাফি টা দিয়ে প্রচ্ছদ টা বানিয়েছে ]

