চোরাবালির_পিছুটানে (২৬) #জেরিন_আক্তার

0
1

#চোরাবালির_পিছুটানে (২৬)
#জেরিন_আক্তার

মিষ্টি রাদিফের মুখে তুহিন নামটা শুনে কিছুক্ষন চুপ করে রইলো। মিষ্টি চেয়েছিলো বিয়েটা আগেই ভেঙে দিতে যাতে তুহিন অন্তত তাকে নিয়ে স্বপ্ন না দেখে। কিন্তু রাদিফই তো বলেছে বিয়ে বিয়ের দিনই ভাঙবে। আর ওই দিকে তুহিন ভালোবেসে গিয়েছে।

মিষ্টি রাদিফকে জড়িয়ে ধরে বলে,

“বাসতেও পারে। তবে এখন তো আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে তোমার সাথে।”

রাদিফ মুচকি হেসে ছোট্ট করে জবাব দেয়,

“হুম।”

মিষ্টির মনে এখন প্রশ্ন জাগছে। রাদিফ বলছে কালকে হসপিটালে যেতে আবার তুহিন যে তাকে ভালোবাসে সেটাও বলছে। এখন মিষ্টির মনে হচ্ছে তুহিন হসপিটালে নয়তো? রাদিফ কি ওর সাথে ঝামেলা করেছে?

রাদিফ মিষ্টির মাথায় হাত রেখে তার ভেজা চুলগুলো ছেড়ে দেয়। মিষ্টি রাদিফকে জিজ্ঞাসা করে,

“আচ্ছা তুমি কালকে হসপিটালে যাবে কেনো?”

“একবার বললাম না কাজ আছে!”

মিষ্টি মিনমিন করে বলে,

“ঠিক আছে!”

_____________

সকালবেলা,,,

রাদিফের ঘুম ভাঙতেই মিষ্টিকে পাশে পায় না। হাতড়িয়ে পুরো বিছানায় খুঁজে তাও পায় না। বিরক্তি নিয়ে উঠে বসে। বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখতে পায় সাইড টেবিলে কফির মগ। রাদিফ কফি খেতে খেতে বেলকনিতে চলে যায়। শীতের সকালের রোদ গায়ে পড়তেই মন-মস্তিস্ক সজাগ হলো।

মিষ্টি রাদিফের জন্য কফি দিয়ে রাহার রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলো। রাহার চোখে চোখ পড়তেই মিষ্টিকে ডেকে উঠে রাহা,

“আপু, শোনো!”

মিষ্টি মুচকি হেসে রুমে ঢুকলো। রাহা বিছানা গুছিয়ে রাখছে। মিষ্টি পুরো রুমটায় চোখ বুলিয়ে বলে উঠে,

“রাহা রাজ কোথায়?”

“মাত্রই তো রুমে ছিলো। কোথায় গিয়েছে বলতে পারলাম না আপু।”

“ওহ।”

রাহা বিছানা গুছানো শেষ করে মিষ্টির কাছে এসে বলে,

“আপু বসো না।”

মিষ্টি হেসে বলে,

“বসবোনা রে। একটু নিচে যাবো।”

“চলো তাহলে আমিও যাবো!”

“ঠিক আছে। আয়!”

মিষ্টি আর রাহা নিচে নেমে আসে। দুজনেই দেখতে পায় ড্রইং রুমে রাজ বসে আছে। সাথে আনোয়ারা বেগমও বসে আছে। মিষ্টি আর রাহা দুজনেই ওদের সাথে বসে। আনোয়ারা বেগম রাহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন,

“তোমার শরীর কেমন এহন?”

“ভালো!”

“যাইক ভালো থাকলেই ভালো। দেইখা থাইকো।”

“ঠিক আছে দাদিজান।”

এই বলে তিনি রাজের কান ধরে বলেন,

“বিয়া করছিলা জানাও নাই কেন? বউ লুকায়া রাখছিলা কেন?”

রাজ হেসে হেসে বলে,

“সবাইকে জানালে বউ অর্ধেক ফুরিয়ে যেতো তাই জানাইনি! কান ছাড়ো!”

আনোয়ারা বেগম ছেড়ে দিয়ে বলেন,

“তোমাগো মন-মর্জি বুঝি না! ভালোই করছো বিয়া
কইরা। বিয়ার বয়সও তো হইছে।”

রাজ বলে,

“আমরা তো তাও বিয়ের বয়স হওয়ার পরই বিয়ে করেছি। আর তোমাকে দাদাজান তো বয়স হওয়ার আগেই বউ করে এনেছিলো।”

এই কথা শুনে মিষ্টি, রাহা হেসে উঠে। মিষ্টি উঠে দাড়িয়ে বলে,

“থাক তোরা, আমি এই মশকরার মধ্যে নেই। আমি চললাম!”

রাজ বলে,

“তু্ই আবার কোথায় যাবি? একটু বস না!”

“না, ভাইয়া থাকো তোমরা!”

এই বলে মিষ্টি কিচেনে তার মা আর ছোট আম্মুর কাছে চলে আসে। রান্না-বান্নার দিকটা দুজনেই সামলান। আর যে কাজের লোক রাখা হয়েছে সে রান্না বাদে বাকি সব কাজ করে দেয়।

মিষ্টি দুজনের উদ্দেশ্যে বলে,

“তোমাদের কাজে হেল্প করবো?”

সায়মা চৌধুরী বলেন,

“না, আমরাই করে নিচ্ছি। তু্ই বসে থাক! কিচ্ছু করতে হবে না। আমরা যতদিন আছে ততদিন তোদের আর কিচেনে ঢুকতে হবে না। এরপরে যখন থাকবো না তখন নিজেদের কাজ নিজেরাই করবি। এখন কিচ্ছু করতে হবে না।”

মিষ্টি মুখ বেকিয়ে বলে,

“এখন তো বলছো তোর কিচ্ছু করতে হবে না। আর কালকে যে আমাকে দিয়ে তোমার ছেলের জন্য কতকিছু রান্না করালে তার বেলায়?”

মিষ্টির এই কথা শুনে সায়মা চৌধুরী আর রুমানা চৌধুরী দুজনেই হেসে উঠেন। মিষ্টি যেনো আরও জ্বলে উঠলো। রাগে হন হন করে বেরিয়ে যায়। কারো সাথে কোনো কথা না বলে সোজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে রাদিফের রুমে চলে এলো।

রুমে এসে বিছানা গুছিয়ে চুপচাপ বসে রইলো। রাদিফ বেলকনি থেকে ওকে দেখছে। এরপরে রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে,

“মহারানী রেগে আছে নাকি?”

“না!”

“কিন্তু তোকে তো রাগী দেখাচ্ছে!”

“কই? না!”

“তাহলে একটু হাসি দে, দেখি!”

মিষ্টি জোরপূর্বক একটু হাসে। রাদিফ বলে,

“এবার ঠিক আছে!”

এর কিছুক্ষন পরে মিষ্টি বলে উঠে,

“তুমি কি এখন বের হবে?”

“না। কেনো?”

“এমনি।”

“কিছু লাগবে?”

“না!”

“কিছু আনতে হলে বল?”

“না। কিছু আনতে হবে না!”

“তাহলে বললি যে, বের হবো কিনা?”

“কেনো আমি কি বলতে পারি না? নাকি অন্য কেউ বলবে?”

রাদিফ মাথা হালকা কাত করে বলে উঠে,

“হুম। বলতেও পারে! তোর মতো এমন রাগ করে সে বলবে না। সুন্দর করে বলবে!”

মিষ্টি একটু জেলাস হলো। অন্য কেউ, কে বলবে সুন্দর করে। মিষ্টি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে বলে উঠে,

“তোমার বউ থাকতে তুমি অন্য কারো থেকে সুন্দর কথা শোনার আশা করো কিভাবে?”

“তু্ই তো একেকসময় বলতে এখন রাগ করে আছিস। আর এই রাগের সময় যদি কেউ একটু ভালো করে কথা বলে। সবসময় তো চাইছি না।”

“আমি তো সবসময় তোমার মতো রেগে থাকি না। আর তুমি নিজেও তো রেগে রেগে কথা বলো আমি কি তখন অন্য কারো থেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনার আশা করি?”

কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে রাদিফ মিষ্টির চোয়ালে চেপে ধরে স্পষ্ট গলায় বলে উঠে,

“একদম জানে মেরে দিবো এরকম কথা মুখ থেকে বের হলে। আজ প্রথম বললি তাই কিছু বললাম না। তবে পরের বার মনে রাখিস!”

মিষ্টি হাবার মতো তাকিয়ে রইলো। রাগ উঠেছিলো তার মায়ের সাথে রান্না নিয়ে। আর সেইটা ঘুরে-ফিরে রাদিফের কাছে চলে এলো।

রাদিফ মিষ্টিকে ছেড়ে দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

“তোর বোরখা আছে?”

মিষ্টি এবার স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে,

“হুম। আছে!”

“বোরখা পড়ে রেডি হয়ে থাকিস। বিকেল তিনটায়!”

“এতো আগে!”

“হুম। আগে তোকে নিয়ে হসপিটালে যাবো। সেখানে বেশি সময় লাগবে না। এরপরে ঘুরতে যাবো।”

“ঠিক আছে।”

রাদিফ মিষ্টিকে নিজের কাছে এনে বলে,

“আমায় বিশ্বাস করিস তো?”

মিষ্টি এক বাক্যে বলে,

“হুম বিশ্বাস করি!”

“তাহলে বিশ্বাস রাখ, তু্ই থাকতে আমি কখনও অন্য কাউকে চাইবো না।”

মিষ্টির চোখ দিয়ে আপনাআপনিই পানি পড়তে লাগলো। রাদিফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে,

“আমি তোমায় খুব ভালোবাসি। কখনও তোমায় ছাড়া থাকতে পারবো না। আর বিশ্বাস করো তুমি ছাড়া অন্য কাউকে চিন্তাও করি না।”

রাদিফ মুচকি হেসে বলে,

“হুম। বিশ্বাস করিতো তোকে। খুব বিশ্বাস করি। এই বিশ্বাস করেই তোর কাছে আবার ফিরে এসেছি।”

_______________

দুপুর দুইটা,,,

মিষ্টি নিজের রুমে ঢুকে বোরখা আনার জন্য। মনে মনে যে কত খুশি তা বলার বাহিরে। বজ্জাতটায় ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। রাগ করে তবুও তার ভালোর জন্যই তো করে। মিষ্টির খুব ভালো লাগে এতে। কারণ এই রাগের মাঝেও কেয়ার খুঁজে পায়।

মিষ্টি বোরখা, হিজাব, হিজাব পিন নিয়ে রাদিফের রুমে চলে এলো। রাদিফ তখন ঘুমিয়ে আছে। রাতে ঠিক ভাবে ঘুমায়নি। তাই বেলা এগারোটার দিকে ঘুমিয়ে ছিলো। এখনও ঘুমিয়েই আছে। মিষ্টি রেডি হতে শুরু করে। রাদিফ উঠে যদি দেখে রেডি হয়নি তাহলে আবার রেগে যাবে। তার থেকে বরং রেডি হয়ে বসে থাকাই ভালো।

মিষ্টি রেডি হয়ে বসে রইলো রাদিফের পাশে। রাদিফের ফোন নিয়ে টাইম দেখলো আড়াইটা বাজে। রাদিফ বলেছিলো তিনটায় বের হবে। সময়ও তো বেশি নেই। আর এই ছেলে ঘুম থেকেই উঠছে না।

রাদিফ উঁবু হয়ে শুয়েছিলো। মিষ্টি রাদিফের পিঠে হাত রেখে হালকা করে ধাক্কা দিতে দিতে বলে,

“এই যে শুনছো? রাদিফ!”

রাদিফ নড়েচড়ে উঠে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলে,

“হুম, বল!”

“তুমি না বলেছিলে তিনটার সময় বাহিরে নিয়ে যাবে। এখন আড়াইটা বাজে। যাবে না তুমি!”

“হুম, যাবো!”

রাদিফ উঠে বসে। মিষ্টিকে দেখে চোখ-মুখ কুঁচকে বলে,

“তু্ই রেডি হয়ে গিয়েছিস!”

“হুম!”

রাদিফ বিছানায় থেকে নামতে নামতে বলে,

“আরও আগে ডাকবিনা আমাকে?”

রাদিফ ওয়াশরুমে চলে যায়। ওয়াশরুমে থেকে থেকে বেরিয়ে এসে রেডি হয়ে নেয়। কালো শার্ট, কালো প্যান্ট। ফর্সা শরীরে কালো রঙের পোশাক খুব ভালোই মানিয়েছে। মিষ্টি বিছানায় বসে বসে রাদিফকে দেখছে। এর আগেরবার যখন রাদিফ এসেছিলো তখন এইভাবে সামনে থেকে দেখার ভাগ্য হয়নি। কিন্তু এখন পুরোটাই অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। এখন রাদিফের বউ হয়ে তাকে সামনে থেকে দেখছে।

রাদিফ রেডি হয়ে এসে মিষ্টির সামনে দাড়িয়ে বলে,

“চল!”

মিষ্টি উঠে দাড়িয়ে বলে,

“চলো!”

রাদিফ বিছানায় থেকে নিজের ফোনটা নিয়ে আগে বের হলো। মিষ্টি পেছন পেছন চলে গেলো। সিঁড়ি বেয়ে দুজনেই নিচে নেমে আসে। ওদের দেখে রুমানা চৌধুরী বলে উঠেন,

“দুজনকে ভালোই মানিয়েছে! ইশ, কারো নজর না লাগুক।”

রাদিফ তার মায়ের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে কাউকে ফোন দিতে দিতে চলে গেলো মেইন দরজার দিকে। সেখানেই দাড়ালো। আর মিষ্টি লাজুক হেসে বলে,

“বড় আম্মু আসছি!”

রুমানা চৌধুরী বলেন,

“বলি নতুন কাপলদের কোথায় যাওয়া হচ্ছে?”

“বড় আম্মু, তোমার ছেলে বলেছে কোথায় যেনো ঘুরতে নিয়ে যাবে! তাই যাচ্ছি!”

রুমানা চৌধুরী হেসে বলেন,

“ঠিক আছে। যাও!”

মিষ্টি চলে যায় রাদিফের কাছে। রাদিফ মিষ্টির হাত ধরে বাহিরে বের হতে হতে বলে,

“তাহলে কোথায় ঘুরতে যাবি?”

“তুমি যেখানে নিয়ে যাবে সেখানেই।”

রাদিফ মিষ্টিকে নিয়ে গাড়ির কাছে আসে। রাদিফ গাড়ির ড্রাইভিং সিটে আর মিষ্টি তার পাশের সিটে উঠে বসে। রাদিফ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে যায়।

এর একটু পরে রাদিফ ফোন বের করে সাজিদকে কল দেয়।

“তু্ই কোথায় সাজিদ?”

“আমি এসে পড়েছি হসপিটালে। তোরা কোথায়?”

“আসছি। বিশ মিনিট!”

“ঠিক আছে। আয়!”

বিশ-পঁচিশ মিনিট পরে একটা প্রাইভেট হসপিটালের সামনে গাড়ি থামায় রাদিফ। মিষ্টিকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায় গাড়ি পার্ক করতে। গাড়ি পার্ক করে চলে আসে মিষ্টির কাছে। এরপরে মিষ্টিকে নিয়ে ভিতরে চলে যায়। সামনেই দেখা হয় সাজিদের সাথে। সাজিদ ওদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলে,

“ভাবি কেমন আছেন?”

মিষ্টি জবাবে বলে,

“ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?”

“ভালো।”

রাদিফ সাজিদের দিকে তাকিয়ে বলে,

“তাহলে চল!”

“হুম। আয়! আমি সব বলে রেখেছি মাকে।”

“আন্টির চেম্বার কোথায়?”

“দোতলায় মায়ের চেম্বার। উপরে যেতে হবে।”

“হুম চল!”

সাজিদ আগে গেলো। রাদিফ মিষ্টির হাত ধরে ওকে নিয়ে উপরে চলে গেলো। চেম্বারের দিকে যেতে যেতে মিষ্টি রাদিফের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসু সুরে বলে উঠে,

“কিসের ডাক্তারের চেম্বারে যাচ্ছি আমরা?”

রাদিফ সামনের দিকে তাকিয়ে বলে,

“গাইনি ডাক্তার!”

মিষ্টি কপাল কুচকে উঠে বলে,

“কিন্তু কেনো?”

“চল! গেলেই বুঝতে পারবি।”

“কিন্তু আমার তো কোনো সমস্যা নেই। তাহলে কেনো যাবো?”

রাদিফ দাড়িয়ে পড়ে। মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলে,

“আমি জানি। আর কোনো সমস্যার জন্যও যাচ্ছি না।”

মিষ্টি সাথে সাথে বলে,

“তাহলে কেনো যাচ্ছি?”

রাদিফ মিষ্টির দিকে এগিয়ে দাঁত চেপে আস্তে করে বলে,

“বললাম না কোনো সমস্যার জন্য যাচ্ছি না। যাচ্ছি কিছু পরামর্শ করতে। যাতে আগেই বাচ্চার বাপ না হয়ে যাই। আর এতো প্রশ্ন করিস কেনো বলতো? মাথা গরম করে ফেলিস।”

________________

রাদিফ মিষ্টিকে নিয়ে হসপিটালে থেকে বেরিয়ে চলে যায় একটা রেস্টুরেন্টে। মিষ্টিই বলেছিলো এই রেস্টুরেন্টে যাবে।

এদিকে তুহিন দাঁড়িয়ে আছে এয়ারপোর্টে। তার মেঝো চাচার মেয়ে আজকে বিদেশে থেকে আসছে। তুহিন একাই এসেছে ওকে রিসিভ করতে। দুজনের মধ্যে বন্ডিংও খুব ভালো। তুহিন পেছন দিক ফিরে মোবাইলে কথা বলছিলো তার চাচার সাথে। সেই সময়ে পেছনে থেকে একটা মেয়ে তুহিনের কাঁধে হাত রেখে বলে,

“ভাইয়া, আমি এসে গিয়েছি!”

তুহিন সাথে সাথে পেছনে ফিরে দাঁড়ায়। মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

“কেমন আছিস জারা?”

“ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”

“ভালো।”

তুহিন নিজেকে জারার থেকে ছাড়িয়ে ফোন কেটে দিয়ে বলে উঠে,

“জাপানে গিয়ে তো ভুলেই গিয়েছিস! খোঁজ-খবরই পাওয়া যাইনি তোর!”

“আসলে ভাইয়া পড়াশোনার মাঝেই থাকি আর কি!”

“হয়েছে বুঝি আমি! তু্ই পড়াশোনা করিস না কি করিস সব জানা আছে।”

“না ভাইয়া সত্যি!”

তুহিন কোমরে হাত রেখে বলে,

“তাহলে পড়াশোনা রেখে আসতে গেলি কেনো?”

জারা তুহিনের হাত ধরে মুচকি হেসে বলে,

“আসলে ভাইয়া একজনকে ভালোবাসি। সে ওইখানে থাকা অবস্থায় অন্য একজনের কাছে থেকে খবর পাই সে নাকি বিয়ে করে নিয়েছে। সেটা বিশ্বাস করে কয়েকদিন দেবদাসের মতো ঘুরেছি।”

তুহিন জারার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,

“তারপর কি হলো?”

জারা অত্যান্ত খুশি হয়ে বলে,

“তারপর জানতে পারি সে বিয়ে করেনি। পরে তার বাসায় যাই। সেখানে তার বাসার মেইড বললো ও নাকি দেশে চলে এসেছে। তাই আমিও চলে এসেছি!”

এই শুনে তুহিন বলে,

“চলে তো এলি ওই ছেলেকে বের করবি কেমন করে? এড্রেস জানিস ওই ছেলের?”

জারা মুচকি হেসে বলে,

“হুম জানি! আর আজ তো যাওয়া হবে না। কালকে সকালেওই ওকে খুঁজতে যাবো। তোমাকে আমার সাথে যেতেই হবে। নাহলে আমার একার ধারা ওই ছেলেকে খোজা সম্ভব না। তুমি হেল্প করবে বলে আমি চলে এসেছি। আমি তোমাকে ছাড়া এক পাও এগোতে পারবো না।”

“ঠিক আছে। কালকে সকালেই যাবো।”

“প্রমিস করো!”

“প্রমিস। এবার বাড়ি চল! আর হ্যা, ছেলের নাম কি?”

চলবে….

পরবর্তী পর্ব কালকে সন্ধ্যার পরে আসবে। এর আগে আসবে না। আর অন্য কোথাও থেকে এই গল্পের পরবর্তী পর্ব পেয়ে গেলে ভাববেন, সেটা আমার লেখা নয়। কারণ আমি সন্ধ্যা পরে ছাড়া গল্প অন্য সময় দেই না।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here