Selfish – (Part:06)

0
97

গল্প :- #Selfies
পর্ব :- ০৬
Writer :- Kabbo Ahammad
.
-: এদিকে আমার দূর বাল এ জ্বড় মনে হয় আর আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না।
সেই কাল রাত থেকে জ্বর এসেছে কিন্তু ভালো হওয়ার কোন লক্ষন ই দেখছি না।

কিন্তু আমার এত শীত শীত লাগছে কেন।
কি আর করা কোন রকমে প্যারাসিটামল খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালে যখন ঘুম থেকে উঠলাম।
তখন আমি যেন হঠাৎ আকাশ থেকে পড়লাম।

কারন আমি আয়নার সামনে গিয়ে দেখি আমার প্রায় সম্পূর্ন মুখে লিপস্টিকের দাগ লেগে আছে।
সেই সাথে আমার শরীরের বেশ কিছু জায়গায় কেটে যাওয়ার দাগও রয়েছে।
তবে কাটা দাগ গুলো দেখে মনে হচ্ছে কারো হাতের আঙ্গুনের বড় বড় নখের (আসটির) কারনে হয়েছে।

এসব দেখে মাথাটা কেমন যেন ভন ভন করছে আমার এমন কি হয়েছিল রাতে?
যার কারনে আমার মুখে লিপষ্টিকের দাগ এলো আবার শরীরেও…।

অনেক ভেবেও এ রহস্যের কুল কিনারা পাচ্ছিনা।
হঠাৎ কেন যেন মনে হলো আচ্ছা রাতে কি কেউ আমার ঘরে এসেছিল?
কিন্তু তা কি করে সম্ভব। আমার ঘরে আবার কে আসবে।
আর রাতে ঘুমানোর আগে তো ঘরের দরজা লক করেই ঘুমিয়েছিলাম।
কিন্তু কেউ যদি আমার ঘরে….

(ঠিক তখনি ফোনটা বেজে উঠল)

মোবাইলের স্কিনে তাকিয়ে দেখি মিরা ফোন দিয়েছে।
কল রিসিব করে কিছু বলবো তার আগেই মিরা বলতে লাগল…

–:কিরে একটা কল রিসিব করতে এত সময় লাগে হনুমান কোথাকার।(রাগি কন্ঠে)(মিরা)

–মাপ কর বোন আমি এতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম। তাই বুঝতে পারি নাই।

–:কি তুই এখনো শুয়েই আছিস মানে। কুম্ভ কর্নও তো মনে হয় তোর মতো ঘুমায়না। ও তো ওর কাজ ঠিক মত করত কিন্তু তোর যে কলেজ আছে সেটা কি তোর মনে নেই।(মিরা)

–আ আ আসলে হয়েছে কি মিরা?? (কিছুটা ভয় পেয়ে যা রাগি মেয়ে ও)

–আমি তোর কোন কথা এখন শুনতে চাইনা তুই আধা ঘন্টার মধ্যে কলেজে আসবি। এটাই ফাইনাল।

–আরে মিরা শোন তো..টু টু টু

(যা কেটে দিলো।
এইরে দেরী হয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি রেড়ি হয়ে নেই। এসব নিয়ে না হয় পড়ে ভাবা যাবে। তারপর রেডি হয়ে বের হবো তখনি আন্টি ডাক দিয়ে বলল..)

–বাবা কাব্য তোমার শরীর এখন কেমন আছে?

–এইত আন্টি মোটামুটি।
আচ্ছা আন্টি আমি এখন আসি কলেজের দেরী হয়ে যাচ্ছে।
তারপর হঠাৎ কি মনে করে যেন আন্টিকে বলে বসলাম আমি..!!
–আচ্ছা আন্টি রাতে কি কেউ আমার ঘরে এসেছিল??

আন্টি প্রথমে কিছুটা ঘাবরে গিয়ে পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বলতে লাগল

–কই কেউ যায় নাই তো বাবা। কেন তোমার কি কিছু হারিয়ে গেছে? (আন্টি)

–না আন্টি এমনি বললাম আরকি। আমি এখন আসি তাহলে..

–আচ্ছা.!
.
.
.
(সালা হনুমান গাধা উল্লুকটা আসছে না কেন এখনো?
আজ এক বার আয় তোকে এমন মজা দেখাবো না।
মিরা মনে মনে এসব বলছে আর বার বার কলেজ গেইটের দিকে তাকচ্ছে।

–কিরে মিরা তুই বির বির করে কি বলছিস?
আর বার বার গেইটের দিকে তাকাচ্ছিস কেন? কাহিনি কি বলতো? (নীলা)

–আরে নীলা তুই বুঝতেছিস না কেন আমাদের দুলাভাই এখনো আসে নাই দেখে আমাদের মিরা তার জামাইকে গালি দিচ্ছে আর ঐ দিকে বার বার তাকিয়ে দেখছে যে দুলাভাই কখন আসে। (রিয়া)

–ঐ হারামির ঘরের হারামি এসব কি ফালতু কথা বলছিস।(মিরা)

–হ্যাঁ হ্যাঁ আমি তো ফালতু কথাই বলি।
তা না হলে আমাদের মিরা একটা ক্ষেতের থুক্কু ক্ষেত না এখন তো আমাদের দুলাভাই হবে।(রিয়া)

(একথা শুনে মিরা কিছুটা লজ্জা পেয়ে বলতে লাগল)

–রিয়া চুপ করবি তুই।
আমি কি তোদের কখনো বলেছি যে আমি কোন ক্ষেতের প্রেমে পরেছি। {মিরা}

(মুখে তোদের না বলছি তো কি হয়েছে আমিতো কাব্যকে সত্যি সত্যি ভালবেসেই ফেলেছি রে…… কিন্তু শুধু মুখে বলতে পারছি না..! হয়তো আর কোনদিন বলতেও পারবো আর না।
আচ্ছা ঐ হনুমানকে কি বলতে পারবো? হয়ত পারবো কিন্তু…)

–কিরে মুরা কি এত ভাবছিস।(রিয়া)

–তেমন কিছু না।রভাবছিলাম আজকে তোদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ট্রিট দিবো

–আচ্ছা তাই নাকি। (সবাই একসাথে)

–কিরে তোরা আমাকে ছাড়াই কি ট্রিট খাবি। নাকি আমাকেও সাথে নিবি। (নীলা)

–তা তো নিবোই.! কিন্তু যে আমাদের ট্রিট দিবে সে তো এখনো বললো না কি জন্য আজ হঠাৎ করে আমাদের ট্রিট দিবে….(রিয়া)

–কিরে মিরা…….(নীলা)

–আরে ভাই বলছি বলছি।
তোদেরকে জিজ্ঞেস করতে হবে না। আমিই বলছি শোন তাহলে
:-আমি যখন গতকাল রাতে ঘুমাচ্ছিলাম তখন খুব ভয়ানক একটা স্বপ্ন দেখেছি। এরকম ভয়ানক স্বপ্ন আমি এর আগে কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না আমার। আর স্বপ্নটার কথা মনে হলেই নিজেকে খুব অসহায় আর প্রচুর পরিমাণ ভয় লাগে।(মিরা)

–তা কি স্বপ্ন দেখেছিলি শুনি??(নীলা)

–হুম তাহলে শোন আমি স্বপ্নে দেখি যে,
আমি বিশাল কোন জনমানবহীন একটা এলাকায় দাঁড়িয়ে আছি। যেখান যে দিকেই চোঁখ যায় সেদিকেই শুধু সীমান্ত হীন পথ আর পথ। আমি কোথায় যাবো কি করবো বুঝতেছিলাম না। যেদিকেই ছুটে যাই সেদিকেই শুধু বালি আর বালি লক্ষ করি।
আর সেই সাথে আছে অসহনীয় সুর্যের তাপ।
আমার এমন মনে হচ্ছিল সূর্যের তাপে যেন আমার সম্পূর্ন শরীর ঝলসে যাচ্ছে। তবুও আমি অনেক কষ্টে কোন লোকালয়ের খোঁজে ছুটতে থাকি।
ছুটতে ছুটতে হঠাৎ আমি এক বিশাল খাদের কাছে এসে পরি। আর খাদের পাশেই একটা সেতু দেখতে পাই।
সেতুটা দেখে আমি যে কতটা খুশি হয়েছিলাম তা তোদের বলে বোঝাতে পারব না।
সেতুটা দেখে আমার মনে হয়েছিলো যে কোন পথিক যেমন মরুভুমিতে তৃষ্ণাপ্ত অবস্থায় একফোটা পানি ফেলে যতটা খুশি হয়।
আমিও মনে হয় সেতুটা দেখে ততটাই খুশি হয়েছিলাম।আর বার বার বলছিলাম এই সেতুটা পার হলে কোন লোকালয় পার।
আমি সেতুটা দেখে এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে কোন কিছু না ভেবেই সেতুটার উপর উঠে পরি আর যখন আমি সেতুটার উপর মাত্র তিন পা এগিয়ে যাই।
হঠাৎ করেই সেতুটা অদৃশ্য হয়ে যায়।আর আমিও খাদের গভিরে হারিয়ে যাই।
তারপর কি হয়েছিলো আমার আর মনে নাই।
কিন্তু যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি এমন কিছু দেখি যা দেখে আমি এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে তা তোদোর বলে বোঝাতে পারব না।(মিরা)

–ঐ থাম থাম একদম ফাজলামি করবি না। (রিয়া)

–না রে রিয়া আমার তো মনে হয় না মিরা কোন ফাজলামি করছে।
দেখছিস না স্বপ্নটার কথা মনে হতেই ও কেমন চুপসে গেছে। তুই একটু চুপ থাক আর মিরা তুই বল কি এমন স্বপ্ন দেখেছিস??(অধরা মিরার অন্য বান্ধবী)

–দেখ আমি বুঝতে পারছি তোরা আমার কথাগুলো শুনে মজা নিচ্ছিস। (মিরা)

–ওসব বাদ দে আর এটা বল কি দেখিছিলি তোর স্বপ্নে।….(অধরা)

–আমি দেখলাম যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন দেখি কেউ আমার হাত পায়ে আগুনের ছিকল দিয়ে বেধে রেখেছে। যার কারনে আমার হাত পায়ে অসহ্যকর ব্যাথা পাচ্ছিলাম।
আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছিলো না।
হঠাৎ দেখি অনেক গুলো বিষাক্ত সাপ আমাকে ঘিরে ধরেছে।
আর সাপ গুলো আমার দিকে খুব হিংস্র ভাবে ছুটে আসছিলো..! যখন ওগুলো আমার কাছাকাছি আসে তখন সাপ গুলো আমাকে পেঁচে ধরে আমার মাথায় কামর বসাচ্ছিলো আর মাথা থেকে আমার যতো চুল ছিলো তা মাংস সহো তুলে ছুরে ফেলছিলো।
ঠিক তখনি কে যেনো আমার মাথায় গরম কিছু তরল ঢেলে দিলো।
যা আমার বেদনা হাজার গুন বাড়িয়ে দিয়েছিলো।আমার এমন মনে হচ্ছিলো আমার শরীরের চামরা.. মাংস.. হার.. সবকিছু যেনো গলে গলে এক হয়ে যাচ্ছিলো।
আর ঠিক তখন আমি চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠি পড়ি…………………

অর ঘুম থেকে উঠেই ভাবতে থাকি এতক্ষণ আমি এ কি দেখলাম।
হঠাৎ তখনি আমার মনে পরে যে আমি হাইস্কুলে থাকতে স্যার একদিন আখিরাত বা পরকাল সম্পর্কে ঠিক এমনি বলেছিলো।
তাই আমি ঠিক করেছি যে আজ থেকে সব খারাপ অভ্যাস ত্যাখ কররো। সেই সাথে এতদিন যাদের সাথে বাজে ব্যবহার করেছি তাদের কাছে ক্ষমা চাইবো। (মিরা)

(ওরা সবাই মিরার কথা মনযোগ দিয়ে শুনছিলো। আর বেশ কিছুক্ষণ নিরব ছিলো)

তারপর নিরবতা ভেজ্ঞে রিয়া ও নীলা বলে উঠলো

–আচ্ছা তুই ও না মিরা.!
সামান্য কি একটা স্বপ্ন দেখলি। আর ভয়ে পেয়ে বলছিস অন্যের কাছে ক্ষমা চাইবি।
একবার ভেবে দেখ মিরা তুই যদি সামন্য একটা স্বপ্ন দেখে সবার কাছ থেকে ক্ষমানচাস। তাহলে তোর আর ওদের মধ্যে পাথর্ক কি থাকবে?নতোর উচু মাথা নিচু হবে তা কি ভেবে দেখেছিলি?
আর একবার শুধু একবার ভেবে দেখ মিরা।
আমরা তোর বান্ধবী তাই তোর ভালো চাই..!

আর একটা কথা শুন আমার মনে হয় তুই জঘন্য কাজটার জন্য আমাদের ট্রিপ দিতে চাস??
কিন্তু আমরা তোর এত বড় অধপতনের ট্রিপ নিতে পারব না। স্যরি…

–দেখ তোরা হয়তো আমার কথা গুলোকে বিশ্বাস করবি কি না সেটা তোদের ব্যাপার।
তবে আজকে আমি তোদের যে জন্যে ট্রিট দিতে চাচ্ছি তা হলো আমি একজনকে মন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি….(মিরা)

–যাক তাও একটা ভালো খবর।
কিহ্ তুই প্রেমে পড়েছিস। আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না।
(অধরা)

–না হলে নেই। তবে এটাই সত্যি।(মিরা)

–ছেলেটা দেখতে কেমন:রে। নিশ্চয় অনেক টাকাওয়াল মালিকের ছেলে…..(রিয়া)
.
.
.
.
চলবে…………………♥♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here