Addicted_love Part:5+6 Writer: Aarizona Ella

0
299

#Addicted_love
Part:5+6
Writer: Aarizona Ella
বাসায় ফিরে বেল দিচ্ছি কিন্তুু মা দরজা খুলছে না কেন? অনেক সময় ধরে বেল দেওয়ার পর ও কোন সাড়া পাচ্ছি না তাই আরও ঘাবড়ে গেছি খুব ভয় লাগছে মা তো কখনো এতো সময় লাগায় না দরজা খুলতে।
আরো কয়েকবার বেল দেয়ার পর মা দরজা খুল্লো।
কি মা কতক্ষন ধরে বেল দিচ্ছি তুমি দরজা খুলছিলে না কেন?এটা কেমন কথা।?মা তুমি ঠিক আছো তো?কিছু হয় নি তো তোমার? (অস্থির হয়ে মা এর গাল এ হাত রেখে জিজ্ঞাস করলাম)
কি হয়েছে এতো অস্থির হচ্ছিস কেন তুই?আমি গোসল করছিলাম বুঝতে পারি নি তুই বেল দিচ্ছিস।তাই দরজা খুলতে একটু সময় লেগে গেছে।আর তুই এতো তারাতারি ফিরবি জানলে দরজা লক করতাম না।এতো তারাতারি চলে এলি যে?(মা)
না আসলে মা মারিয়ার কেনাকাটা শেষ হয়ে গেছে বিধায় তারাতারি ফিরে এসেছি।(বাসায় ঢুকতে ঢুকতে বললাম)
কি হয়েছে তোর?আজ দুই দিন ধরে তোকে কেমন জানি অস্থির অস্থির দেখাচ্ছে।আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে আমার কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস।কি হয়েছে মা বল তো আমাকে।(মা)
আহা! মা তুমি অযথা কথা বাড়াচ্ছো।কিছু ই তো হয় নি।অহেতুক আজাইরা চিন্তা করা বাদ দাও।আমি ঠিক আছি।(চাপা হাসি দিয়ে বললাম)
কিছু খেতে দাও খুব খিদে পেয়েছে।নাহলে আমার পেটে এখন হাতি দৌড়ানো শুরু করে দিবে।(পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এই একটাই উপায় ছিল)মনে মনে।
আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি ভাত রেডি করছি।জলদি আয়।(মা)
ওকে আমার লক্ষি মা।(মুচকি হেসে)
স্যার মেয়ের নাম আফরিন হক এলা।ইন্টার পাশ করেছে মাত্র।ঢাকার উত্তরায় থাকে।পরিবারে শুধু তার মা আছে।তার বাবা মারা গেছে আজকে চার মাস।বাবা মারা যাবার পর থেকে আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য দু মাস ধরে
grooming club and bar এ ওয়েইটার এর চাকরি করছে।ওই বারের ম্যানেজার থেকে শুনেছি তাকে জব থেকে ফায়ার করা হবে।(রাফিন)
গুড।এবার বুঝবেন মিস এলা আপনি নিজের হাতেই নিজের পায়ে কুড়োল মেরেছেন।শয়তানি হাসি দিয়ে (ইশফাক)
দুইদিন পর
হ্যালো!জ্বী স্যার হঠাৎ আমাকে ফোন দেয়েছেন?
এলা!দুই দিন ধরে তুমি কাজে আসছো না কেন হা?(ম্যানেজার)
স্যার আসলে আমি ভেবেছি আমাকে জব থেকে ফায়ার করে দিয়েছে।(ভয়ে ভয়ে বললাম)
না ফায়ার করা হয় নি তোমাকে।আজকে থেকে যথা সময়ে যেন তোমাকে এখানে দেখি।(ম্যানেজার)।
ওকে স্যার।(খুশি হয়ে বললাম)।
টুট টুট টুট!!!!!
বিকেলে রেডি হয়ে বের হলাম।অনেক খুশি তে খুশিতে গিয়ে হাজির হলাম।
মারিয়া আজকে আমি অনেক খুশি কারন আমার কারনে এতো তান্ডপ হওয়ার পর ও আমাকে জব থেকে বের করে দেওয়া হয় নি।
বস এর ওর্ডার ছিল তাই বাট এরপর আমারও খুব খুশি লাগছে যে বস আমাদের পেটে লাথি মারে নি।হাসতে হাসতে বলল(মারিয়া)
ব্যাপার টা কেন জানি সুবিধের মনে হচ্ছে না (মনে মনে)
কিরে আবার কি চিন্তা করছিস?(মারিয়া)
কই না তো।
তাহলে এতবার ডাকার পরও শুনলি না যে?(মারিয়া)।
তেমন কিছু না রে ইয়ার। চল কাজে লেগে পরি। টাকলা দেখলে আবার আস্তো রাখবে না(জোরে জোরে হাসতে হাসতে বললাম)
কি হচ্ছে জনাবা রা? কি হাসতেই থাকবেন নাকি কোন কাম কাজ ও করবেন আপনারা?(ম্যানেজার)
(শয়তান এর নাম মুখে না আনার আগেই শয়তান হাজির।কাইল্লা হনুমান,টাকলা কোথাকার)মনে মনে।
জ্বী স্যার যাচ্ছি।
বলা মাত্রই দু জনই টাকলার সামনে থেকে কেটে পরলাম।বেশিক্ষন থাকলে কপালে শনির দশা ছিল।
প্রতিটি টেবিল এ সার্ভ করছি। যে যার মতো কাজে লেগে পরেছি।
১৫ দিন পর
খুব ভালোই যাচ্ছে দিন গুলি।জবে কোন সমস্যা হয় নি এই কয়েকদিন।একপাশে দাঁড়িয়ে হিসাব দেখছি হঠাৎ তখনই কর্ণারের টেবিলে চোখ পড়লো।চোখ পরতেই পুরো শরিরে ঘাম দেওয়া শুরু করলো কারন সামনে আর কেউ না সয়ং ইশফাক চৌধুরী।ড্রিংকস করছে আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে।ভয়ে চুপসে গেছি আমি।কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা।
উঠে আমার দিকেই আসছে।আল্লাহ আমাকে বাচান এই নরপশুর হাত থেকে।এখনি হার্ট অ্যাটাক করবো মনে হয়।
আমার সামনে এসে দারালো।
i m extremely sorry for what i did. i really didn’t do anything intentionally.i was drunk n thats why it just happend.plz forgive me for everything.(ইশফাক)
………………………
Hey beauty queen say something? (ইশফাক)
উমমম।(পুরা শক্ড আমি)কিছুই বলার ভাষা খুজে পাচ্ছি না।
ইংলিশ বুঝেন তো মিস?(ইশফাক)
না মানে হা বুঝি।(বেডায় আইসে ইংলিশ শিখাইতে পুরা লম্পট বেডা একটা হু)মনে মনে।
তাহলে কিছু বলছেন না যে?(ইশফাক)
It’s ok.(আমেরিকান কুত্তা)মনে মনে দাতে দাত চেপে।।।
আমি ইশফাক চৌধুরী। আপনি? (ইশফাক)
আ….।।আ……… আ….আমি এলা
Oh!!nice name(ইশফাক).(হ্যান্ডসেক এর জন্য হাত বাড়িয়ে বলল)
আচ্ছা আমি আসি আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। বলেই ভৌ দৌড় দিয়ে উনার সামনে থেকে কেটে পড়লাম।
পালাবে কোথায়?( ইশফাক)বাকা হাসি দিয়ে বল্লো।
চলবে।

#addicted_love
Part:6
Writer:Aarizona Ella
বাসায় এসে ফ্রেশ হলাম।রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পরলাম।
কিন্তুু আজকে আমার ঘুম আসছে না কেন।।
উফ্।।।।।।
বিছানার এপাশ ওপাশ হচ্ছি আর জনাব ইশফাক চৌধুরির কথা ভাবছি।
ইশফাক চৌধুরি আমাকে স্যরি বলেছে ভাবতেই কেমন জানি অবাক লাগছে।
যতই চাচ্ছি উনার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে ততই উনি আমার মাথার চারপাশ এসে ঘুরপাক খাচ্ছেন।
আহহহহহহ!!!কি হচ্ছে।।।কেন যে তার লগে কথা কইতে গেলাম আল্লাহ ই জানেন।
কিন্তুু বেডা অতো খারাপ না।
আজাইরা এসব ভাবতে ভাবতেই কখন ঘুমিয়ে পরেছি তার খবর ই পাই নি।
এরপরে ইশফাক চৌধুরির আর কোন খবর পাই নি।
ছয়দিন পর!
সকাল সকাল ঘুম ভাংলো মারিয়ার ফোনে।।
হ্যালো!!!কিরে পেত্নি এতো সকাল সকাল ফোন দিয়া ঘুম টা ভাংগার দরকার কি ছিলো?
ক টা বাজে তার কোন হুশ আছে আপনার?উঠ জলদি রেডি হয়ে নে একটু শপিং এ বের হব ।ঝাড়ি দিয়ে (মারিয়া)
ওকে।।ম্যাডাম।।।
আমি আধা ঘন্টার মধ্যে তোদের বাসার নিচে আসছি।দেরি করবি না কিন্তুু।(মারিয়া)
হুহ!ওকে।।।(বিরক্তি নিয়ে)
উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে রেডি হলাম।
কিরে কোথায় যাচ্ছিস?(মা)
মারিয়ার সাথে শপিং এ যাবো একটু।
আচ্ছা সাবধানে যাস।(মা)
আচ্ছা মা আসি।
নিচে নামতেই দেখি মারিয়া ম্যাডাম আগে থেকেই হাজির।।
রিক্সায় উঠলাম।
কিরে হঠাৎ মল এ যাওয়ার কারন কি?
মা এর জন্মদিন উপলক্ষে একটা শাড়ি কিনতে।(মারিয়া)
গতকাল তো একসাথেই ছিলাম তবে কাল কিছু বল্লি না যে?(অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম)
উফ্।!খুব বেশি কথা বলিস তুই। হঠাৎ আজকে সকালে প্লানিং করলাম মা কে সারপ্রাইজ দিব বলে।(বিরক্তির সাথে বলল)মারিয়া।
ওহ।।
পৌছে দুইজন মলে খুব ঘুরলাম। ঘুরে দুজন মিলে একটা শাড়ি পছন্দ করলাম।
বেগুনি রঙ এর টাংগাইল শাড়ি।
শাড়ি নিয়ে বের হয়ে পরলাম।
রাস্তার ভ্যান থেকে ফুসকা খাওয়ার জন্য দাড়ালাম। ফুসকা খেলাম।অনেক ঘুরলাম। আজকে অনেকদিন পর দুজন একসাথে খুব মজা করলাম।
মারিয়ার সাথে বেশ ভালোই কেটেছে দুপুরের সময় টা।
বিকেলে
ক্লাবে গিয়ে আগের মতো কাজে লেগে পড়লাম।
হঠাৎ আমার সামনের টেবিলে একটা গোলাপি রঙের খাম দেখতে পাই যেখানে আমার নাম লিখা আছে
নিজের নাম থাকায় ওটা হাতে নিয়ে চেক করতে কোন দ্বিধাবোধ করি নি।
খুলতে চাচ্ছি আবার চাচ্ছি না ভয় বিরাজ করছে মনের মধ্যে।
কি থাকতে পারে এখানে? এমন কে হবে যে আমার নামের খাম ছেরে যাবে।চিন্তাই পরে গিয়েছি কি করবো।
খাম টা খুলবো নাকি খুলবো না।
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই খাম টি খুলে দেখলাম ভিতরে কি আছে!!!
খুলে দেখতেই আমার চোখ কপালে!!
hello beauty- queen!!!
কেমন আছো?স্যরি তুমি করে বলে ফেলেছি।
ওইদিন তোমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে নিজেকে খুব অপরাধি মনে হচ্ছে।তোমাকে আবারো স্যরি বলার জন্য এই সব করা।না আমার কাছে তোমার নাম্বার আছে না তোমার কোন ঠিকানা।এখানে তুমি জব করো এটা ভেবেই চিঠিটা লিখেছি।প্লিজ যদি পারো বিগত দিনের ভুলটার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও।তুমি যদি আমায় ক্ষমা করে থাকো তাহলে এর বিনিময়ে একটা It’s ok রিপ্লে লেটার ঠিক এই জায়গাই রেখে যেও।৷৷৷
ইতি,
(অপরাধি ইশফাক চৌধুরী)
চিঠি টা পড়ে যেন মাথায় বাজ পরলো! এটা কি আসলে ইশফাক চৌধুরী নাকি কেও ঠাট্টা করছে।
উফফ্ সব কিছু উল্টো লাগছে! মনে তো হচ্ছে না যে এতো বড় বিজনেসম্যান স্পেশালি আমাকে এতোটা ইম্পর্ট্যান্স দিবে।।
কি রিপ্লে দিব নাকি না।দু-দর্শিতার মাঝে পড়ে গেছি।
রিপ্লে দিলে হয়তো বুঝতে পারবো যে আসলে কে এটা!
তাই সাত পাচ না ভেবে একটা রিপ্লে নোট লিখলাম(রিসিপশনারের কাছ থেকে একটা কাগজ আর কলম নিয়ে)
যা হয়ে গেছে তা তো আর বদলানো যাবে নাহ।তবে ভুলা যাবে তাই আপনি বিগত দিনটির কথা ভুলে যান কারন আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি আর আমিও সমান অপরাধী।কারন ওইদিন আমিও সবার সামনে আপনার গায়ে হাত তুলে আপনাকে অপমান করেছি।তার জন্য আমিও অতি দু:খিত।আমিও আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী!!
ইতি
(এলা)
পরবর্তী দিন।
আজকে অনেকদিন পর মা এর সাথে বাজারে এলাম।ঘরের কিছু যাবতীয় জিনিসপত্র কিনার জন্য।কেনাকাটা শেষে বাসায় ফিরে গোসল করে রান্নায় মাকে হেল্প করলাম।যদিও আমি রান্না একদম ই জানি না।
দুপুরে খেয়েদেয়ে কিছুক্ষন মায়ের সাথে কথা বললাম।
মা আমার না রান্না করতে খুব ইচ্ছে করে।তুমি আমায় রান্না শিখাবে?
হুম আজ না হয় কাল তা তো শিখতেই হবে।নাহলে বিয়ের পর তোর শাশুড়ি আম্মা আমায় বকবে।যে এত্তবড় মেয়েকে এখনো রান্না করতে শিখায় নি।হাসতে হাসতে বল্ল(মা)
আমি বিয়ে করবো না মা।তোমাকে ছেরে আমি কোথাও যাব না(মুখ গম্ভীর করে বললাম)
না মা আজ নাহয় কাল বিয়ে করতেই হবে।মেয়ে বিয়ে দেওয়া প্রতিটি মা বাবার কর্তোব্য।।
(মুখ ফুলিয়ে রেখেছি)
হয়েছে হয়েছে মুখ ফুলিয়ে রাখতে হবে না আর।বিয়ে তোকে এখন দিচ্ছি না।(একটু জোর করেই বলল কথা টা)মা।
আচ্ছা মা জব এ যাওয়ার সময় হয়েছে।
আচ্ছা রেডি হয়ে নে।(মা)
রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
পৌছে আবার নিজের কাজে লেগে পড়লাম।
বেশকিছুক্ষন পর!!!!
সেই একি জাইগায় আবারও নিল রঙের আরেকটা খাম পেলাম।
Hey beauty-queen..thanks a lot for accepted my apology…যদি কিছু মনে না করো আগামি শুক্রুবার the cafeteria তে আমার সাথে এক কাপ কফি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।যদি তুমি আসো তাহলে ভেবে নিব আসলেই তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পেরেছ। সন্ধ্যা সাতটায় উপরে দেওয়া এ্যাডরেসে চলে এসো।অপেক্ষায় থাকবো।
ইতি,, (ইশফাক)।
কি করবো কিছুই মাথায় ঢুকছে না।কি হচ্ছে আমার সাথে।।। আজকে বুধবার মঝখানে একদিন বাকি।।
আল্লাহ আমি কিসের মাঝে ঢুকে পরছি।। আমাকে রাস্তা দেখাও।।(আতংকিত হয়ে বলছি)
চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here