তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [ I_Am_In_You ] #লেখিকা_আয়েশা #পর্ব_৫+৬+৭

0
101

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [ I_Am_In_You ]
#লেখিকা_আয়েশা
#পর্ব_৫+৬+৭



আয়েশার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এসব ভাবতে ভাবতে,,ভাবনায় ছেদ পরলো আরোহীর ডাকে,,আয়েশা আরোহীর দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো,,,,কারণ আরোহীর হাতে একটা বেল্ট যার মধ্যে রক্তের দাগ ছোঁপ ছোঁপ আকার ধারণ করেছে,,,

আয়েশা এগিয়ে এসে আরোহীর হাতে থাকা বেল্ট টা ছূঁতেই আয়েশার হাতে রক্ত লেগে গেলো,,আয়েশা নিজের হাত ঘুরিয়ে দেখতেই দেখতে পেলো হাতে রক্ত লেগে আছে,,,আয়েশা করুন ছল ছল চোখে তাঁকালো আরোহীর দিকে আর আরোহী বললো

আরোহী: এই সেই বেল্ট যা দিয়ে কালকে রাতে ভাইয়া নিজেকে আঘাত করেছে,,,আমি জল খেতে উঠেছিলাম তখন ভাইয়ার ঘর থেকে কিছুর শব্দ শুনতে পাই,,,এসে দেখি দরজা হাল্কা ভেজানো তাই ঘরে ঢুকি আর ঘরে ঢুকতেই দেখি,,,

ভাইয়া মেঝে তে রক্তাক্ত ভাবে শুয়ে রয়েছে আর গোঙাছে,,,আমি দৌড়ে ভাইয়ার কাছে যাই আর শুনতে পাই ভাইয়া কিছু একটা বলছে,,,কান টা ভাইয়ার মুখের কাছাকাছি নিতেই শুনতে পাই ভাইয়া তোমার নিচ্ছে,,,বলছে ” আমি আমার আয়ু কে আজকে আঘাত করেছি,,,ওর অনিচ্ছাকৃত কাজ করেচি,,,শাস্তি পাওয়া উচিত আমার,,,শাস্তি পাওয়া উচিত ” এই একটাই কথা ভাইয়া বার বার বলে যাচ্ছিল যে ” শাস্তি পাওয়া উচিত “,,,আমি আর দেরী না করে ভাইয়া কে তুলে বিছানায় বসাই আর একটা কাপড় দিয়ে ভাইয়ার রক্ত গুলো পরিস্কার করেদি,,,কিন্তু ওষুধ লাগাতে নিলেই ভাইয়া আমায় আতকে দেয় আমি ভাইয়া কে জিজ্ঞেস করি তুমি কোথায় আর ভাইয়ার এমন অবস্থায় কাছে আসনি কেনো,,,ভাইয়া আমায় বলে যে তোমার পায়ে কাঁচ ফোটায় ভাইয়া তোমায় একটা ব্যথার আর ঘুমের ওষুধ ইঞ্জেক্ট করেছে তারপর আমায় জোর করে রূমে পাঠিয়ে দেয়,,,আর আজকে সেই ব্যথা জায়গায় গরম কফি পরেছে,,,ভাইয়ার শরীর টা ক্ষত বিক্ষত হয়ে ছিলো যখন আমি পরিস্কার করছিলাম,,,চাইলে কাপড় টা দেখতে পারো যদি এখন ও তোমার সন্দেহ থাকে ভাইয়ার ভালোবাসা নিয়ে,,,,,,,,

আরোহী পিছনে ফিরে কথা গুলো বলছিল সামনে ফিরতেই আয়েশা আর অপেক্ষা না করে ছুটে বেরিয়ে গেলো আরোহী কিছু বলতে গিয়েও বললো না,,,নিজের মনে ভাবতে লাগলো

আরোহী: জানি না তোমার আর ভাইয়ার মধ্যে কি এমন হয়েছে যার জন্য তোমার মনে হচ্ছে ভাইয়া তোমায় ভালোবাসে না,,,তুমি তো মনে হয় জানোই না ভাইয়া তোমাকে কবে থেকে ভালোবাসে,,,

আয়েশা দৌঁড়ে আহিলের ঘরে চলে এলো,,,আহিল পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল তাই বুঝতে পারেনি কে এসেছে,,,আহিল ভেবেছে আরোহী হয়তো আবার ওষুধ লাগানোর জন্য এসেছে,,,তাই আহিল পিছন ফিরে সিগারেটে টান দিতে দিতে বললো,,,

আহিল: আরু তুই বললে সুনবি না না?? আমি তো বললাম আমি ঠিক আছি লাগবে না আমার ওষুধ তুই যা পরতে বস,,,

আয়েশা শুধু আহিলের পিঠের দিকে তাকিয়ে আছে,,,আহিলের পিঠে বেল্টের আঘাতের দাগ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে,,,লাল লাল লম্বা লম্বা হয়ে দগদগিয়ে উঠেছে দাগ গুলো,,,তার মধ্যে আহিলের কাঁধের দিক টা লাল চাক চাক হয়ে রয়েছে এটা কফি টা পরার জন্য হয়েছে যেহেতু কফিটা পিঠে পড়েনি বুকে পরেছে তাই রক্ষা নাহলে যে কি হতো ভেবেই আতকে উঠছে আয়েশা,,,,ভয়ানক লাগছে দেখতে যে কেউ এটা দেখে শিউরে উঠবে,,,আয়েশা আহিলের কথা গুলো ভেবে ডুকরে কেঁদে উঠলো,,এদিকে আহিল ভেবেছিল আরোহী চলে গেছে কিন্তু কান্নার আওয়াজ শুনে বুঝতে পারলো এটা আরোহী না ” আয়েশা ” কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,,,

আহিল: কেনো এসেছিস এ ঘরে?? কিছু হয়নি আমার,,এটুকু তে মরব না আমি,,,,

আহিলের বলতে দেরী হলো কিন্তু আয়েশার আহিলের কাছে আসতে দেরী হলো না,,,আহিলের এ কথা বলতে না বলতেই আয়েশা ছুটে এসে আহিল কে পিছন থেকে সামনে ঘুরিয়ে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দিলো,,,আহিল তো পুরো ঘটনায় অবাক হয়ে গেলো,,,কি করবে বুঝতে না পেরে আয়েশার মাথায় হাত বুলাতে লাগলো আর নিজের সাথে আরো বেশী করে জড়িয়ে নিলো,,,কিন্তু আয়েশা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই চলেছে,,,কিছুক্ষণ পর আয়েশা আহিলের বুকে যেখানে হাল্কা পশম আছে সেখানে বাম হাত দিলো কারণ কফি পরে ঐ জায়গা টা লাল হয়ে রয়েছে,,,আস্তে আস্তে বাম হাত বোলাচ্ছে আয়েশা আর ডান হাত টা আহিলের কোমরে,,,আহিল আয়েশার এমন কান্ড দেখে মনে মনে হাসছে হঠাৎ আহিলের মনে পরলো ওর গায়ে শার্ট নেই,,তার মানে আয়েশা দেখে ফেলেছে ওর পিঠের চিহ্ন গুলো,,আহিলের হাতের বাঁধন হাল্কা হতেই আয়েশা বিছানায় থাকা ফার্স্ট এইড বক্স টা নিয়ে প্রথমে আহিলের পিঠে ওষুধ লাগাতে শুরু করলো

আহিল বাঁধা দিতে গেছিলো কিন্তু আয়েশার চোখ রাঙানি আর মুখ ভঙ্গি দেখে ভয় পেয়ে একটা ঢোঁক গিলে চুপচাপ হয়ে গেছে,,আর আয়েশা এটা ভেবে মুচকি হাসছে আর ওষুধ লাগাচ্ছে,,,ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে ব্যাথা জায়গায় চাপ দিচ্ছে আর আহিল “আউচ” “আহ” করে উঠছে,,,আহিল ও বুঝতে পেরেছে আয়েশা ইচ্ছে করে করছে এগুলো তাই কিছু না বলে মজা দিচ্ছে আয়েশা কে কারণ আজ অনেক কাঁদিয়েছে মেয়েটাকে,,,

আয়েশা পিঠে মলম লাগিয়ে আহিল কে সামনে ঘোরালো আর আহিলের সাথে একদম মিশে দাড়ালো,,,হাতে মলম টা নিয়ে আহিলের পায়ের দু পাতার উপর উঠতেই আহিল আয়েশার কোমর জড়িয়ে ধরলো যাতে পরে না যায় আয়েশা,,,

আহিলের উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট সেখানে আয়েশা ৫.৬ ইঞ্চি,,,মেয়ে হিসেবে আয়েশার উচ্চতা একদম উপযুক্ত কিন্তু আহিল লম্বা হওয়ায় আয়েশা হাত পায় না,,,আহিলের দেহের গঠন বেশ সুঠাম দেখলেই বোঝা যায় জিম করা বডি,,চোখ দুটো ধুসর রঙের আর গোল গোল বড়ো,,,ডানদিকের চোখের উপরে কপালে একটা আঁচিল আছে আর মাথার সিল্কি চুল গুলো সবসময় কপালে পরে থাকে,,ঠোঁট টা হাল্কা গোলাপি হাসলে বোঝা যায় ডানদিকে গজ দাঁত আছে যা আহিলের হাসির মিষ্টতা আরো বাড়িয়ে দেয়,,,

আয়েশার শরীর ও বেশ ছিমছাম সুন্দর মেয়েলি গঠনের যাকে এক কথায় বলা যায় স্লিম ফিগার,,আয়েশার মুখের মধ্যে সব থেকে বেশি আকর্ষণীয় জিনিসটি হলো ঠোঁট ও নাকের গ্যাপে মাঝ বরাবর একটা মাঝারি কালো তিল আর ঠোঁটের ঠিক বাম কোণার একটু দুরে একটা তিল,,,এই দুটো তিলের দিকে তাঁকালেই আহিলের নেশা ধরে যায় মন চায় ছুয়ে দিতে,,,আয়েশার ও গজ দাঁত আছে কিন্তু দুদিকে,,,

আহিল খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আয়েশা কে দেখছে অনেকদিন পর,,,আর আয়েশা মলম লাগাতে লাগাতে আড় চোখে দেখছে আহিল কে,,,কিছুক্ষণ পর আয়েশা আহিলের বকের পশম গুলোর ওপর হাত রেখে বলতে লাগলো

আয়েশা: আহিল!!

আহিল: হুমম (ঘোর লাগা কণ্ঠে)

আয়েশা: আ..আমি ইচ্ছে করে তোর গায়ে কফি ফেলিনি বিশ্বাস কর,,আমার পা বেজে গেছিলো শাড়ি তে তাই

আহিল: সত্যি তাই!!?? (আয়েশা কে আরেকটু কাছে টেনে)

আয়েশা: আ..আ..আমি স..সত্যি ব..বল..ছি

আহিল: আমতা আমতা করছিস কেনো সত্যি বলছিস যখন

আয়েশা: (আহিলের দিকে তাকিয়ে) আসলে তখন শাড়ি তে পা বাজেনি,,,আমি আ..আসছিলাম তখন রি..

আহিল: রিয়ার পায়ে বেজে পরে গেছিস,,তাই তো??

আয়েশা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আহিলের দিকে এই ভেবে যে আহিল সবটা জানে?? কিন্তু কি করে??

আহিল: অতো ভেবে তোর কাজ নেই যা ঘরে যা আমি একটু রেস্ট নেবো

আয়েশা: তোর ডেস্কের ওপর মাইগ্রেন আর পেইনকিলার রাখা আছে খেয়েনিস প্লিজ

আহিল: এখুনি খাচ্ছি আমার মা দে,,নাহলে তুই আর আরু আমার মাথা খারাপ করে দিবি

আয়েশা: হিহিহিহিহিহি

আয়েশা ওষুধ টা দিয়ে বেরিয়ে গেলো আর আহিল মনে মনে বললো

আহিল: কেনো এভাবে আমায় দোটানায় ফেলছিস আয়ু,,,আমি তো বুঝতেই পারছি না তুই কি চাস

আয়েশা ছাদে দাঁড়িয়ে ফোনে কাওর সাথে কথা বলছে,,,

আয়েশা: এত্ত মিস করছো তুমি আমায়??

——

আয়েশা: তুমি এটা বলতে পারলে?? আমি তোমাকে মিস করবো না এটা হতে পারে??

——

আয়েশা: ভীষণ মিস করছি তোমায়,,,পারছি না আর এভাবে থাকতে,,,দেখতে ইচ্ছে করছে তোমায়

——

আয়েশা: বাজে কথা বলো না আমি যদি পারতাম তোমার সাথে দেখা করতে তাহলে কি আর এখানে পরে থাকতাম?? ছুটে চলে যেতাম তোমার কাছে,,,কিন্তু কি আর করার এখানেই থাকতে হবে আমায়,,,

——

আয়েশা: আই লাভ ইউ টু!! নিজের খেয়াল রেখো,,আচ্ছা আমি রাখছি কেউ চলে আসবে

টুট টুট টুট ••••

আয়েশা: হাহ!! তোকে আমি ছাড়ব না আহিল,,,কিছুতেই না,,আমার সাথে করা ভুলের শাস্তি তুই পাবি,,হারে হারে টের পাবি তুই এবার,,,

এই বলে আয়েশা পিছন ঘুরতেই চমকে উঠলো কারণ ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে……………………..
,
,
,
[ ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🌹]

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [I_Am_In_You]
#লেখিকা_আয়েশা
#পর্ব_৬



আয়েশা: হাহ!! তোকে আমি ছাড়ব না আহিল,,,কিছুতেই না,,আমার সাথে করা ভুলের শাস্তি তুই পাবি,,হারে হারে টের পাবি তুই এবার,,,

এই বলে আয়েশা পিছন ঘুরতেই চমকে উঠলো কারণ ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে….” আহিল ”

আহিল কে দেখেই আয়েশা চমকে গেলো,,,কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে পারছে না আর ফোন টাও আহিল দেখতে পেয়ে গেছে তাই এখন আয়েশা পিছনে লুকোতেও পারছে না,,,আহিল কি রিয়াক্ট করবে কিছুই বুঝতে পারছে না আয়েশা,,,আয়েশার আকাশ পাতাল চিন্তার মাঝে আহিল যে কখন ওর সামনে চলে এসেছে,,,আহিল আয়েশার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলো আয়েশা নীচের দিকে তাকিয়ে হাত কচলাচ্ছে,,,আহিল টুপ করে ফোন টা তুলে নিলো আয়েশার হাত থেকে আর আয়েশা আহিলের থেকে ফোন টা চাইতে লাগলো,,,

আয়েশা: আহিল!! আহিল ফোন টা দে আমার,,,এভাবে তুই আমার ফোন নিতে পারিস না,,এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত জিনিস,,

আহিল: আচ্ছা তাই নাকি?? এমন কি আছে তোর ফোনে যেটা দেখলে তোর প্রব্লেম হয়ে যাবে?? এইবার তো দেখতেই হচ্ছে কি আছে (দাঁতে দাঁত চেপে শেষ কথাটা বললো)

আয়েশা আমতা আমতা করতে লাগলো আর কিছু বলতে পারলো না এদিকে আহিলের মাথা প্রচুর গরম হয়ে রয়েছে কারণ আয়েশার শুরু থেকে শেষ অবধি সব কথা আহিল শুনেছে,,আহিল ফোন টা খুলতেই পাসওয়ার্ড চাইল,,,আহিল আয়েশার দিকে একবার তাকালো আর নিজের নাম টা পাসওয়ার্ড এ টাইপ করতেই ফোন আনলক হয়ে গেলো,,আহিল কিছু টা অবাক হলেও কিছু বললো না ডাইরেক্ট কল লগস এ গিয়ে দেখতেই আহিলের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো,,,আহিল দাঁত মুখ চেপে চোয়াল শক্ত করে আয়েশার দিকে তাকাতেই দেখলো আয়েশা মুখ চেপে হাসছে,,,এতে জানো আহিলের মাথাটা আরো বেশি গরম হয়ে গেলো,,আহিল হাতে থাকা ফোন টা আছাড় মেরে ভেঙে দিলো আর হুঙ্কার দিয়ে উঠলো,,,এদিকে আয়েশা তো ভয় পেয়ে গেছে আহিলের এমন প্রতিক্রিয়ায়,,

আহিল: ইয়ার্কি হচ্ছে এখানে?? সবকিছু কে কি মজা মনে করিস তুই?? বাচ্চা মেয়ে না তুই যে এভাবে লোকের জীবন আর মন নিয়ে খেলবি,,আর কাকেই বা কি বলছো যার ফ্যামিলিই জীবন নিয়ে খেলতে জানে সেই ফ্যামিলির মেয়ে তো জানবেই,,,আফটার অল রক্ত বলে কথা,,,পুরো ফ্যামিলিটাই ফ্রড একটা,,

আয়েশা: কেনো বার বার তুই আমার ফ্যামিলি কে ফ্রড বলছিস কি করেছে আমার ফ্যামিলি?? আর আমিই বা কি এমন করেছি যার জন্য তুই আমাকে বারবার বিশ্বাসঘাতক বলছিস?? কিসের শাস্তি দিচ্ছিস তুই আমায়??

আহিল: স্টপ ইউর মেলো ড্রামা,,

আয়েশা: আমি জানি তুই বলবি না এতো সহজে কারণ টা কি,,একটা মিথ্যে কলের অভিনয় করে ব্যর্থ চেষ্টা করলাম সত্যিটা জানার,,ভাবিস না আমি যাবো না এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও,,,যতদিন না নিজের দোষ জানতে পারছি ততদিন আমি কোথাও যাবো না এই বাড়ি ছেড়ে,,,যদি সত্যি জানতে পারি যে আমার দোষ,,আমার ফ্যামিলির দোষ আছে,,,সেদিন নিজের প্রায়শ্চিত্ত করে চলে যাবো তোর বাড়ি থেকে আর তোর জীবন থেকে,,,,

কথাগুলো বলেই আয়েশা কাঁদতে লাগলো ছাদের রেলিং ধরে আর আহিল হনহন করে চলে গেলো,,,

আয়েশা: কেনো এভাবে কষ্ট দিচ্ছিস আমায়?? আমি সত্যি কিছু জানি না আহিল,,প্লিজ বল আমায় কি দোষ আমার,,,

আহিল নীচে ড্রয়িং রূমে এসে সোফায় বসে হাঁটুর উপর কুনুই ভর দিয়ে মাথা নীচু করে বসে রইলো আর ভাবতে লাগলো

আহিল: কেনো মিথ্যে নাটক করছিস আয়ু,,এখন ও যদি তুই আমার কাছে সত্যি টা স্বীকার করে নিস তাহলে আমি তোকে সব ভুলে নিজের করে নেবো,,,তুই সেটা না করে শুধু মিথ্যে অভিনয় করে যাচ্ছিস,,কিছু না জানার ভান করে যাচ্ছিস,,

আহিল মাথা তুলে তাকাতেই অবাক হয়ে যায় কিছু টা,,,তারপর সবাইকে ডাকতে লাগে,,

আহিল: আরু!! মম!! আ.. (বলতে গিয়েও থেমে গেলো) কই তোমরা তাড়াতাড়ি আসো,,,দেখো কে এসেছে??

আয়েশা ছাদে বসে আহিলের কন্ঠ শুনতে পেল,,মনে মনে ভাবলো আহিল সবাইকে ডাকলো কিন্তু ওকে একবারও ডাকলো না তবুও নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে চলে গেলো নীচে ড্রয়িং রুমে,,,

আয়েশা নীচে নেমে দেখলো ড্রয়িং রূমের সোফায় এক সুদর্শন বিদেশি পুরুষ বসে রয়েছে,,,বিদেশি বলার কারণ হলো ছেলেটি দেখতে পুরো বিদেশি,, সবুজ আর কালো চোখের মণি চুল টা হাল্কা ব্রাউন,,,টুকটুকে ফর্সা জানো টোকা মারলেই লাল হয়ে যাবে জায়গা টা,,,এক কানে ছোটো ক্রস চিহ্নের ইয়াররিং টাইপ ঝোলানো,,,ভ্রু এর শেষ প্রান্তে ক্লিপ লাগানো আর পরনে রয়েছে একটি টি শার্ট তার ওপর ব্লেজার আর জিন্স,,,জিন্স এর উপর চেন ঝুলানো,,,

আয়েশা আসতেই ছেলেটা আয়েশার দিকে তাকালো আর আহিলের দিকে তাকিয়ে আহিল কে আস্ক করলো

ছেলেটি: হু ইস সি ব্রোদর??

আহিল: আয়েশা!! সি ইস মাই ওয়াইফ আয়েশা!!

আয়েশা: যাক স্ত্রীয়ের পরিচয় টা তাহলে দিচ্ছিস (মনে মনে)

আহিল: আয়েশা ও জ্যাক!! আমার আমেরিকার ফ্রেন্ড,,,আমরা এক সাথে বিসনেস স্টাডি কম্পলীট করেছি,,,ও ইন্ডিয়ান বাট অনেক আগেই আমেরিকা চলে যায়,,,বাংলা বুঝতেও পারে আর বলতেও পারে সো বাংলায় কথা বলতে পারো তোমরা সবাই (শেষ কথাটা সকল কে উদ্দেশ্য করে বললো)

জ্যাক: হাই বিউটিফুল!! ( হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করার জন্য)

আয়েশা : (হাত টা বাড়িয়েও কি মনে করে বাড়ালো না বরং যে হাত টা তুলেছিল সেটা নিজের কাছে নিয়ে এলো আর নমস্কার করার ভঙ্গি তে বললো) নমস্কার!!!

জ্যাক তো পুরোই বোকা বনে গেলো আয়েশার আচরণে,,,কি বলবে বুঝতে না পেরে জ্যাক ও হাতটা সরিয়ে নিলো আর আয়েশা বললো,,

আয়েশা: এতদিন তো বিদেশি কায়দায় মানে কালচার মেনে চললেন এখন যখন ইন্ডিয়া তে এসেছেন তখন এবার একটু ইন্ডিয়ান কালচার পালন করুন,,

আহিল তো ভীষণ খুশি হয়েছে মনে মনে,,জ্যাকের খারাপ অবস্থা দেখে আহিল বললো

আহিল: চল জ্যাক!! ডিনার করে নিবি আমার পরিবারের সাথে আলাপ তো হয়েই গেলো

জ্যাক: ইয়াহ চল

ডাইনিং টেবিলে আহিল আরোহী আর জ্যাক বসে পরেছে,,,আয়েশা এসে দেখলো আহিলের মা সার্ভ করে দিচ্ছে সবাই কে,,,তাই আয়েশা বললো,,,

আয়েশা: মা তুমি বসে পড়ো আমি সার্ভ করছি আজকে,,

আহিলের মা : সে কি রে,,আচ্ছা এক কাজ কর তুই আমার টা সার্ভ করে,,নিজেও বসে পর তাহলে সবার এক সাথে খাওয়া হবে,,,

আয়েশা আহিলের মা কে সার্ভ করে দিয়ে নিজের প্লেটে খাবার নিয়ে বসে পরলো,,,আয়েশা আহিলের পাশে আর জ্যাকের ঠিক উল্টো দিকে বসেছে,,,আয়েশা খেতে খেতে মাঝ পথে হঠাৎই থেমে গেলো,,আয়েশার মনে হচ্ছে কেউ আয়েশার পায়ে পা দিয়ে স্লাইড করছে তাই আয়েশা একটু টেবিলের নীচে ঝুঁকতেই দেখলো জ্যাক এর পা আয়েশার পায়ের ওপর আর সামনে তাকাতেই দেখলো জ্যাক ওর দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিচ্ছে,,,আয়েশা ততক্ষণাৎ নিজের পা টা সরিয়ে নিলো,,,ভয়ে কাঁপছে আয়েশা যদি আহিল কিছু টের পায় তাহলে এক্ষুনি তুলকালাম কাণ্ড করে ফেলবে,,,আয়েশা খেতে পর্যন্ত পারছে না হাল্কা শীতের মধ্যেও আয়েশা ঘামছে,,,

হঠাৎ আহিল টেবিলের মধ্যে সজোরে একটা বারি মারলো,,,আয়েশার তো আত্মা কেঁপে উঠেছে ভয়ে আর বাকি সবাই একটু হলেও ঘাবড়ে গেলো,,,আহিলের মুখ আবার লাল বর্ন ধারন করেছে আহিল বললো

আহিল: খেতে বসার সময় আমি কোনো রকম ডিস্টারবেনস পছন্দ করি না,,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

আহিলের মা: কেনো বাবা কি হলো??

আরোহী: ভাইয়া সবাই তো চুপচাপ খাচ্ছিল তাহলে ডিস্টার্ব কে করলো তোকে??

আয়েশা তো ভয়ে কিছু বলতে পারছে না,,

আহিল: ওহ রিয়েলি?? সবাই চুপচাপ খাচ্ছে?? কই আমি তো সেটা দেখতে পাচ্ছি না,,,আমি তো অন্য কিছু দেখতে পাচ্ছি,,,কেউ খেতে বসে অন্য কাজ করছে তো কেউ খাচ্ছেই না,,,

আরোহী: মানে কে খাচ্ছে না আর কে…(বলতে দিলো না)

আহিল: ওয়াট হ্যাপেন আয়েশা?? খাচ্ছিস না কেনো তুই?? কি প্রব্লেম??

আয়েশা অবাক হয়ে আহিলের দিকে তাকিয়ে আছে,,,আহিল যে সবটা বুঝে গেছে সেটা আয়েশা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে তারপরেও আয়েশা কে এতো শান্ত ভাবে কি করে জিজ্ঞেস করছে এটাই বুঝতে পারছে না আয়েশা,,,

আহিল: আমি কিছু জিজ্ঞেস করেচি তোকে?? খাচ্ছিস না কেনো??

আয়েশা: ন..না মা..মানে

আয়েশার কথা শেষ করার আগেই আহিল উঠে দাঁড়ালো আর বললো

আহিল: আরু!! আমার আর আয়েশার খাবার টা আমাদের ঘরে পাঠিয়ে দে আমরা ওখানে খেয়ে নেবো,,,আ নো মোর ওয়ার্ডস (আরোহী কে কিছু বলতে না দিয়ে) মম প্লিজ তুমি কিছু মনে করো না (মায়ের উদ্দেশ্যে) চল রূমে (আয়েশার হাত ধরে টেনে নিয়ে উপরে চলে গেলো)

জ্যাক এসব দেখে শুধু মুচকি মুচকি হাসলো আর মনে মনে বললো

জ্যাক: জাস্ট ওয়েট আন্ড ওয়াচ আহিল,,আমি কি কি করি আয়েশার সাথে (শয়তানি হাসি দিয়ে মনে মনে বললো কথাগুলো)

আহিল আয়েশা কে নিয়ে ঘরে চলে এলো আর দরজা বন্ধ করে দিয়ে আয়েশার হাত টা ছেড়ে দিলো আর ঘরের সোফার কাছে থাকার সেন্টার টেবিল টা তে সজোরে লাথি মারলো আর চিৎকার করে বললো

আহিল: জ্যাক যে তোর পায়ে স্লাইড করছিল এটা বুঝতে পেরেও তুই আমাকে বলিসনি কেনো বল??? মজা নিচ্ছিলিস তাই না??

আয়েশা: আমি যদি বলতাম তাহলে তুই কি বিশ্বাস করতিস আমায়?? তোর ফ্রেন্ড জে ছেড়ে তুই একটা বিশ্বাসঘাতক কে বিশ্বাস করতিস?? বরং নানা ভাবে হ্যারাস করতিস,,,তোর চোখে তো আমি একটা বিশ্বাসঘাতক তাই না?? তাহলে কেনো বলতাম আমি তোকে?? নিজের হ্যারাসমেন্ট নিজে কে চায় বলবি আমায়??

আয়েশার এমন একটা কথা বলবে এ সময় আহিল ভাবেনি,,,আহিলের কাছে আয়েশার এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই,,,আহিল চুপ করে গেলো আর আয়েশা তখন কিছু বলতে নিলেই দরজায় আরোহী নক করে,,আহিল দরজা খুলে দেখে আরোহী খাবার নিয়ে এসেছে,,আহিল খাবার টা নিয়ে নিলে আরোহী চলে যায়,,

আহিল: খাবার টা খেয়েনে,,(আয়েশার সামনে গিয়ে)

আয়েশা: খাবো না আমি,,ভালো লাগছে না (বলেই আয়েশা চলে যেতে নিচ্ছিল আহিল হাত ধরে নিলো)

আহিল: চুপচাপ খাবি কোনো কথা বলবি না,,,তুই ভালো করেই জানিস আমি এক কথা দু-বার বলিনা,,সো একদম চুপ তোর মুখ টা এখন শুধু খাবার টা খাওয়ার জন্য নরবে কথা বলার জন্য নয় (আয়েশা কে বিছানায় বসিয়ে মুখের সামনে ভাতের গ্রাস তুলে)

আয়েশা চুপচাপ বাধ্য মেয়ের মতো খেয়ে নিলো কারণ আহিলের রাগ সত্যি খুব ভয়ানক,,তাই কথা না বাড়ানোই ভালো,,,কিছুক্ষণ পর আয়েশা ও প্লেট থেকে এক গ্রাস হাতে তুলে নিয়ে আহিলের মুখের সামনে ধরলো আর বললো

আয়েশা: তুই ও খেয়েনে,,,আমার সাথে তো তুইও খাসনি তখন,,,আমিও কিন্তু রেগে গেলে খারাপ হয়ে যাই তাই চুপ করে খেয়েনে

আয়েশার মুখ দেখে আহিল সামান্য হাসলো তা দেখে আয়েশা ও হাসলো,,,আহিল আয়েশার হাত থেকে খাবার টা খেয়ে নিলো,,,আরোহী দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল আর মিটিমিটি হাসছিল কারণ ও ইচ্ছে করেই একটা প্লেটে বেশি করে খাবার নিয়ে এসেছিল,,,আরোহী চুপচাপ সরে গেলো এই দৃশ্য টা দেখে,,,

পরেরদিন____________________________________

আয়েশা: আ..আপনি কি চান?? কেনো করছেন আমার সাথে এমন?? ছেড়ে দিন প্লিজ আমায়,,যেতে দিন আমায় আমার আহিল আমাকে খুজবে আমাকে যেতে দিন ওর কাছে,,,আহিলললললল!!!!!!
,
,
,
[ ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🌹🍁]

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [I_Am_In_You]
#লেখিকা_আয়েশা
#পর্ব_৭



বি:দ্র: গল্প শেষে নিচের অংশটুকু দয়া করে পরবেন

সকালে…………………☀️☀️

আয়েশা ঘুম থেকে উঠে দেখলো আহিল নেই ঘরে,,ঘড়িতে সকাল ৬:৩০ টা বাজে,,আয়েশার মনে পরলো আহিল খুব তারাতাড়ি ওঠে ঘুম থেকে তাই আয়েশা ও উঠে পরলো আর কাবার্ড থেকে শাড়ি বের করে চোখ কচলাতে কচলাতে ওয়াশরূমের দিকে যেতে থাকলো,,,ঘুমু ঘুমু চোখে চলার কারনে ধুপ করে কাওর সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যেতে নিলেই আয়েশা চিৎকার দিয়ে উঠলো,,,

আয়েশা: মাম্মি গো!! গেলাম গো,,,আমার মাচা গেলো রে কোন খাম্বারে হ্যাঁ আমায় ধাক্কা দিলি বিয়ে হবে না তোর,,,আস্ত একটা ষাঁড় বিয়ে হলে তোর বউ শাক্চুন্নি হবে আর তোর ঘাড় মটকাবে,,টেলা কোথাকার চোখ কপালে নিয়ে হাঁটে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো একটা বাচ্চা মেয়েকে চোখে দেখে না এই যে আমার পরে গিয়ে কতো লা…এই এক মিনিট আমার ব্যথা করছে না কেনো?? আমি কি এখনো ঘুমের মধ্যে রয়েছি?? (এতক্ষণ আয়েশা চোখ বুজে ছিলো এবার আস্তে করে চোখ খুললো)

আয়েশা চোখ খুলতেই দেখলো ও হাওয়ায় ঝুলছে পরে যাইনি কেউ ওর শক্ত করে কোমর জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,

আয়েশা: কোন বেটা হনুমান আমাকে ধরে…ছ..ছ..ছে (সামনে তাকাতেই আহিল কে দেখে ঢোঁক গিলতে গিলতে কথা শেষ করলো)

আহিল আয়েষার দিকে তীক্ষ্ম চোখে ভ্রু কুঁচকিয়ে তাকিয়ে আছে সেই দেখে আয়েশার লাফ মেরে উঠে গিয়ে দুরে সরে দাঁড়ালো আহিলের থেকে আর বললো

আয়েশা: ত..তু..তুই আমার কোমর জড়িয়ে ওভাবে দাঁড়িয়ে ছিলিস কেনো হ্যাঁ??

আহিল: কারণ তুই টেলির মতো চলছিলিস আর আমার সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যাচ্ছিলিস,,,বায় দ্য ওয়ে তুই এতক্ষণ আমাকে গালি দিচ্ছিলিস কেনো??

আয়েশা: আব,,আব গালি কোথায় ওগুলো তো আমি ভালোবেসে ডাকি হিহিহি (দাঁত বাড় করে হেসে) আমি যাই হ্যাঁ টাটা (বলেই দৌঁড় দিলো ওয়াশরূমে)

আহিল তো বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে,,কি হলো কিছুই বুঝলো না

আহিল: উফফ ভগবান কেনো যে এই পাগলি টাকে ছেড়ে আমেরিকা গেছিলাম,,,হাফ পাগলি ছিলো এখন ফুল পাগলি হয়ে আমাকে পাগল করে দেবে,,,প্লিজ গড সেভ মি!!! (উপর দিকে তাকিয়ে)
,
,
,
,
নীচে আহিল বসে সবার সাথে ব্রেকফাস্ট করছিলো তখন হঠাৎ করেই ওর চোখ সিঁড়ির দিকে গেলো আর আহিল ব্রেড টা মুখের সামনে ধরে হাঁ করে তাকিয়ে আছে,,,আয়েশা সিঁড়ি দিয়ে নামছে একটা সুতির কালো শাড়ি পরে,,,প্লিট করে শাড়ি টা পরেছে আর লম্বা এক ছেয়ে চুলগুলো ছাড়া,,,টপটপ করে জল পরছে সেই চুল থেকে আর কপালের ছোট চুলগুলো ভিজে কপালে লেপ্টে রয়েছে,,,মুখে কোনো মেকআপ নেই,,,আয়েশা যতো ব্রেকফাস্ট টেবিলের কাছে এগিয়ে আসছে ততো আহিলকে নেশা ভর করছে,,,আহিলের হাত থেকে শেষমেশ ব্রেডটাই পরে গেলো আর সেই দেখে আরোহী আর আহিলের মা হেসে দিলো আর আরোহী একটা চাপড় মারলো আহিলের হাতে আর আহিলের ঘোর কাটলো,,,আহিল তাকিয়ে দেখলো আয়েশা এসে আহিলের চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে আর আয়েশার গাল গুলো লাল হয়ে রয়েছে এবং ও নীচের দিকে তাকিয়ে আছে,,,

আহিল বুঝলো আহিলের চাহুনী তে আয়েশা লজ্জা পেয়েছে যাতে আয়েশার গাল গুলো লাল হয়ে রয়েছে এটা দেখে আহিল বিড়বিড় করে বললো

আহিল: এই মেয়েটা আজকে আমাকে জানে মারবে,,,ওহ গড!!(বিড়বিড় করে)

আরোহী: এ ভাইয়া (আহিল কে ধাক্কিয়ে) কি ভাবছিস এতক্ষণ ধরে আর বিড় বিড় করে কথা বলছিস কেনো??

আহিল কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওখানে জ্যাক এসে উপস্থিত হলো,,,আর বললো,,

জ্যাক: হেই এভরিওয়ান গুড মর্নিং

আরোহী: গুড মর্নিং!! (মুচকি হেসে)

আহিল: তুই আজ এতো সকালে??

জ্যাক: এটা আমার গুড মর্নিং এর রিপ্লাই??

আহিল: এটা কি আমার কোয়েশনের রিপ্লাই??

আহিলের মা: আহ তোরা খেতে বসে কি শুরু করলি বল তো?? তারাতাড়ি করে খেয়ে নিয়ে রেডি হয়েনে,,,আরোহী তোর টিফিন রেডি করে দিয়েছ নিয়ে যাস,,,

আহিল: হম তারাতাড়ি খেয়েনে আমি তোকে আর আয়েশা কে ড্রপ করে অফিস যাবো,,

আহিলের মা: আয়েশা কোথায় যাবে বাবাই!!

আহিল: মেডিকেল কলেজ যাবে মম,,,আয়েশা তুই ব্রেকফাস্ট করে রেডি হয়েনে আমি তোকে কলেজে ড্রপ করে দেবো,,

আয়েশা: কলেজে তো আমার এডমিশন করা হয়নি,,,আমি কি করে…

আহিল: তুই তোর পছন্দের কলেজে এডমিশন পেয়ে গেছিস আমি ফ্রম তুলে এডমিট করে দিয়েছি,,,সেসব নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না তুই আজকে থেকে কলেজ যাবি আর রোজ এই টাইমে আরুর সাথে রেডি থাকবি আমি তোদের ড্রপ করে দেবো,,,ইস ইট ক্লিয়ার?? চুপচাপ খেতে বস এবার,,

আয়েশা চেয়ার টেনে আহিলের পাশে বসে পরলো আর মনে মনে বললো

আয়েশা: বেটা খচ্চর বদ পোলা,,,বিদেশে গিয়ে একটা হিটলার হয়ে ফিরেছে,,,ঐ যে বলে না এমনিতেই ছাই তার মধ্যে হাওয়া এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে,,,প্রথম থেকেই খরুস ছিলো এখন হিটলার হয়ে ফিরেছে,,,কলেজে ভর্তি করেছিস ভালো কথা,,,ভালো ভাবে বল সেটা তা না,,,” লোজ এছছময় লেডি হয়ে থাকবি,,ইজ ইট ক্লিয়ার ” (ভেঙিয়ে) যত্তসব হুহ!! (মনে মনে)

আয়েশা ব্রেকফাস্ট করে যখন উপরে রেডি হতে যাবে তখন আহিল আয়েশার হাত টেনে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে হেঁচরাতে হেঁচরাতে নিজের ঘরে নিয়ে চলে গেলো,,,আয়েশা কিছুই বুঝতে পারলো না ও তো ধীরে সুস্থে রেডি হতে যাচ্ছিল কিন্তু হঠাৎ আহিল এভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কেনো ওকে,,,

আহিল আয়েশা কে রূমে নিয়ে গিয়ে হাত ছেড়ে দিলো আর দরজা টা ঠাস করে বন্ধ করে দিলো,,,আয়েশা কিছু বলতে যেতে নিলেই বাম হাত দিয়ে আয়েশার ঘাড় ধরে আর ডান হাত দিয়ে আয়েশার কোমর ধরে ওকে দেয়ালে চেপে ধরে আয়েশার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো,,,

আহিল আয়েশার ঠোঁট দুটো শুষে নিচ্ছে আস্তে আস্তে আর আয়েশা ও আহিলের স্পর্শ পেয়ে চোখ বুজে আহিলের শার্ট দু-হাত দিয়ে খামচে ধরে আছে,,,আহিলের ডান হাত আয়েশার উন্মুক্ত কোমর থেকে উঠে আয়েশার কাঁধে গেলো আর আয়েশার শাড়ির আঁচল যেখানে ভাঁজ করে পিন দিয়ে লাগানো ছিলো সেটা টান মেরে ছিড়ে ফেললো আর আয়েশার শাড়ির ভাঁজ টা খুলে গেলো,,,,আহিল আয়েশার ঠোঁট ছেড়ে বললো

আহিল: খুব শখ না সবাইকে নিজের কোমর দেখানোর পেট দেখানোর?? খুব শখ তোর নিজের শরীর দেখানোর সবাইকে?? আর কোনদিন যদি দেখেছি প্লিট করে শাড়ি পরতে তো আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না,,,আর শোন কাবার্ডে চুরিদার আর সালোয়ার রাখা আছে ওগুলো পরে কলেজ যাবি ভুলেও যদি শাড়ি পরে কলেজ গেছিস তো কলেজের মুখ ও দেখতে পাবি না কোনদিন,,,মনে রাখবি তোর শরীরের ওপর,,তোর ওপর যদি কারো অধিকার থাকে তাহলে সেটা এই আহিলের,,,সেটা নজর হোক আর স্পর্শ আই ডোন্ট কেয়ার ড্যাম ইট!!! (আয়েশার ঘাড়ের পিছনে হাত দিয়ে নিজের দিকে টেনে শেষের কথা গুলো বললো আর বেরিয়ে গেলো)

আয়েশার আহিলের প্রথম কথা গুলো শুনে চোখে জল এলেও শেষের কথা গুলো শুনে মনে মনে হাসলো আর কাবার্ড থেকে সালোয়ার নিয়ে চলে গেলো রেডি হতে,,,

রেডি হয়ে আয়েশা বাইরে বেরিয়ে দেখল আহিল পুরো অফিস আউটফিটে গাড়িতে হেলান দিয়ে চোখে সানগ্লাস দিয়ে এক হাত দিয়ে ফোন চালাচ্ছে আর এক হাত পকেটে গুঁজে রেখেছে,,,আহিলের দিকে এগিয়ে যেতেই আয়েশা কে আহিল ড্রাইভিং সিটের পাশের ডোর টা ওপেন করে দিলো আর আয়েশা চুপচাপ গিয়ে বসে পরলো,,আহিল মনে মনে হাসলো কারণ আয়েশা কোনো মেকাপ করেনি সামান্য লিপস্টিক টাও লাগায়নি,,আহিল ড্রাইভ করে বেরিয়ে গেলো আরোহীর এক্সট্রা ক্লাস থাকায় ও স্কুটি নিয়ে চলে গেছে,,,

আয়েশার কলেজ এসে পড়ায় আহিল গাড়ি থামাল আর আয়েশা নেমে যাওয়ার আগেই বললো

আহিল: আমি তোকে ছুটির সময় নিয়ে যাবো,,,একা আসার চেষ্টা করবি না আর কোনো ছেলের সাথে কথা বলবি না পড়াশোনার বিষয় ছাড়া,,,আর কোনোরকম চালাকি তুই করবি না সেটা আমার তোর প্রতি বিশ্বাস আছে সো ইউ ক্যান গো নাও

আয়েশা: তুই আমাকে বিশ্বাস করিস নাকি অবিশ্বাস করিস সেটাই বুঝে উঠতে পারলাম না,,, (বলেই ডোর ওপেন করে চলে গেলো)

আহিল: এই প্রশ্নের উত্তর তো আমার কাছেও নেই আয়ু,,,আমার ভিতর যে কি চলছে তা তুই বুঝবি না,,,(আহিল নিজের অফিসে চলে গেলো)
,
,
,
আহিল অফিসের কাজ সেরে আয়েশার কলেজে ঢুকবে তার আগেই একজন সিকিউরিটি গার্ড বললো

গার্ড: স্যার আয়েশা ম্যাডাম তো চলে গেছেন,,,তাও এই কিছুক্ষণ আগে

আহিল: ওয়াট!!!!! কার সাথে গেছে??

গার্ড: স্যার তা তো আমি জানি না কিন্তু যতদূর মনে হয় ওনার চেনাপরিচিত কেউ,,,বিদেশি দেখতে একদম,,,বেশ হাসতে হাসতেই তো বেরিয়ে গেলেন

আহিল: কোথায় গেছে কিছু বলেছে??

গার্ড: না স্যার তবে ঐ যে ঐদিক টা গেছেন,,ঐ পোড়াবাড়ির রাস্তায়,,,

আহিল কাকে বেশ একটা কল করলো আর সঙ্গে সঙ্গে চলে গেলো,,,,

ঐদিকে_______________________________

আয়েশা: আ..আপনি কি চান?? কেনো করছেন আমার সাথে এমন?? ছেড়ে দিন প্লিজ আমায়,,যেতে দিন আমায় আমার আহিল আমাকে খুজবে আমাকে যেতে দিন ওর কাছে,,,আহিলললললল!!!!!!

অজানা ব্যক্তিটি আয়েশার গায়ে ঝাঁপিয়ে পরতে নিলেই………………..
,
,
,
,
,
,
[ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🌹

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here