বুকের_বা_পাশে 🌿🌿 #written_by_Nurzahan_Akter_Allo #Part_37

0
72

#বুকের_বা_পাশে 🌿🌿
#written_by_Nurzahan_Akter_Allo
#Part_37

খুব ভোরবেলা তুয়ার ঘুম ভেঙ্গে গেছে, সুমধুর এক কন্ঠের সুরে। ঘুম ঘুম চোখে তুয়া একবার চোখ খুলে তাকায়। তারপর আবার বন্ধ করে ফেলে। ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি তার চোখ থেকে। ঘুম দেবী যেন তুয়াকে ঘুমের দেশ থেকে ছুটি দিতে নারাজ। এজন্য আষ্টে পিষ্টে ঘুম টা তুয়াকে আরো নিবিড়ভাবে জড়িয়ে নিচ্ছে। এজন্য তুয়া চেয়েও যেন চোখ জোড়া খুলতে পারছে না।

তুয়া ওর চোখ না খুলেও খুব নিকটে শ্রবণ করছে সুমধুর একটা সুর। তুয়া এবার জোর করেই চোখ জোড়া খুলে পাশ ফিরে তাকালো। প্রত্যয় জায়নামাজে বসে সুমধুর কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করছে। আর তার বলা প্রতিটা শব্দ আর সুরটা যেন কলিজা ঠান্ডা করার জন্য যথেষ্ট। তুয়া জানতো না প্রত্যয় এত সুন্দর করে কোরআন পড়তে পারে। এজন্য তুয়া অবাক হয়ে প্রত্যয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রত্যয়ের মাথায় আছে শুভ্র চওরা একটা টুপি। ওর মুখটাও যেন সিগ্ধতায় ভরপুর। প্রত্যয় মাথা নিচু করে একমনে কোরআন পড়ছে। ওর ঠোঁটে জোড়া নড়ছে আর সুরেলা কন্ঠ ভেসে বেড়াচ্ছে পুরো রুম জুড়ে। তুয়াও কোরআন পড়তে পারে। তবে প্রত্যয়ের মত এত সুন্দর সুর টেনে পড়তে পারে না। প্রত্যয়ের এমনভাবে কোরআন তেলাওয়াত করাটা যে কারো মনে-প্রানে প্রশান্তি এনে দেওয়ার মত।তুয়া বসে বসে প্রত্যয়ের কোরআন পড়া মনোযোগ সহকারে শুনছে। একটু পরে প্রত্যয়ের পড়া বন্ধ হয়ে গেল। তাই তুয়া ঘাড় ঘুরিয়ে প্রত্যয়ের দিকে তাকালো।প্রত্যয় তুয়ার দিকে তাকিয়ে ওর ভুলন ভুলানো হাসিটা দিলো। আর ভ্রু নাচিয়ে বললো,”এই যে দুষ্টু মেয়ে, আপনি নামাজ পড়বেন না? এভাবে বসে আছেন কেন?চুপচুপি আমার কোরআন পড়া শোনা হচ্ছে? তারাতাড়ি উঠুন আর নামাজটা পড়ে নিন।” (প্রত্যয় মুচকি হেসে)

প্রত্যয়ের কথা শুনে তুয়া চোখ নামিয়ে নিলো। আর মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো। যার মানে, সে নামাজ পড়বে না।প্রত্যয় তুয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বললো না।হাতের কোরআনটা রেখে জায়নামাজটা তুলে গুছিয়ে রাখলো। প্রত্যয় তুয়াকে ফ্রেশ হয়ে নিতে বললো। কিন্তু তুয়া একচুলও নড়লো না। বরং প্রত্যয়কে বললো,”তুমি এত সুন্দর করে কোরআন পড়তে পারো?” তুয়ার কথা শুনে প্রত্যয় কিছু বললো না। মাথার টুপিটা রেখে প্রত্যয় একটা মুচকি হাসি দিলো। আর সোফার উপর বসে বললো,”পেট কি খুব বেশি ব্যাথা করছে? কোন মেডিসিন দিবো?” প্রত্যয়ের কথাশুনে তুয়া মাথা নাড়িয়ে হ্যা বোঝালো। যার অর্থ পেটে খুব ব্যাথা করছে। প্রত্যয় তুয়াকে বললো,”আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে আয়। আগে কিছু খেয়ে নে, তারপর আমি তোকে মেডিসিন দিচ্ছি।” (প্রত্যয়)

তুয়ার কেন জানি প্রত্যয়ের সামনে এখন খুব লজ্জা লাগছে। প্রত্যয়কে না বললেও সে সব বুঝে গেল। আর প্রত্যয়ের সামনে এখন বেড ছেড়ে উঠাটাও সম্ভব না।কারণ বেডশীটে রক্তের দাগ লেগে গেছে। এজন্য প্রত্যয়ের দিকে না তাকিয়ে তুয়া বললো,”তুমি বাইরে যাও আমি একটু পর বের হচ্ছি।” তুয়ার কথা শুনে প্রত্যয় আর কথা বাড়ালো না। বরং মুচকি হেসে চলে গেল। আর যাওয়ার আগে প্রত্যয় বলে গেল,

— “আমি এখন তোর হাজবেন্ড। তাছাড়াও আমি একজন ডক্টর। আমার কাছে এত লজ্জা পেতে হবে না। এগুলো ন্যাচারাল, এখানে লজ্জা পাওয়ার মত কিছু নেই।”

প্রত্যয় এই কথাটা বলে যাওয়ার পর তুয়া এবার মুখ তুলে তাকালো। অন্য কোন ছেলে হলে এখন একটু হলেও মজা নিতো। কিন্তু সেক্ষেতে প্রত্যয় ঠিক তার উল্টো কাজটা করলো। আসলেই প্রত্যয়ের কাজকর্ম, কথাবার্তা, চালচলন এতটা মার্জিত আর বিনয়ী স্বভাবের যে, ওর সাথে কথা বললে বা ওর সাথে মিশলে অদ্ভুত ভাবে ওর প্রতি শ্রদ্ধাবোধটাও চলে আসে।

এরপর তুয়া আর বসে না থেকে বেডশীট টা তুলে ফেললো। আর ওটা ওয়াশরুমে রেখে নতুন একটা বেডশীট বেডে বিছিয়ে দিলো। আর তুয়া ওর ড্রেস নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেল। আর বেডশীট টা নিজে ধুয়ে, একেবারে সাওয়ার নিয়েই বের হলো। তুয়া বারান্দায় কাপড় গুলো মেলে দিয়ে রুমের বাইরে বের হলো। প্রত্যয় তুয়াকে দেখে ওর দিকে এগিয়ে গেল। আর আশেপাশে তাকিয়ে তুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বললো,”মাথায় ওড়নাটা টেনে দে। সকাল বেলা সাওয়ার নিলি, অনেকে তো অন্য কিছুও ভাবতে পারে। আর আব্বু আম্মু দুজনেই তো বাসায় আছে।” (প্রত্যয় ফিসফিস করে)

প্রত্যয়ের কথার মানে তুয়ার বুঝতে একটুও কষ্ট হয়নি। এই কথা শুনে তুয়া সাথে সাথে জিহ্বাতে কামড় দিলো।আর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো। আসলেই তুয়া এমন করে ব্যাপারটা ভাবেনি। প্রত্যয়ের মুখে এখন এসব শুনে তুয়া এবার সত্যি সত্যিই খুব লজ্জা পাচ্ছে। তুয়ার মুখটা দেখে প্রত্যয়ের কেন জানি খুব ভাল লাগছে।গলুমলু গাল দুটো আর নাকটা লাল হয়ে গেছে। ওর মুখের ভাব ভঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে সে তার বোকামির জন্য খুব লজ্জিত। প্রত্যয় আর কথা বাড়ালো না। বরং মুগ্ধ নয়নে তুয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো।

প্রত্যয়ের কথা অনুযায়ী তুয়া সত্যি সত্যি ওড়নাটা মাথায় টেনে দিলো। তারপর ওখানে আর না দাঁড়িয়ে থেকে তুয়া দ্রুত পায়ে হেঁটে রান্নাঘরে চলে গেল। প্রত্যয়ের আম্মু পরোটা ভাজতে ভাজতে বললো,
— “কি রে মুখটা এত শুকনো লাগছে কেন? কিছু হয়েছে?” (আম্মু)
— “মামনি তেমন কিছু না। আসলে পিরিয়ড হয়েছে এজন্য…. ।” (মাথা নিচু করে)
— “আচ্ছা শোন, তুই রুমে যা। রুমে গিয়ে রেস্ট কর,
আমি নাস্তা রেডি করে তোকে ডাকবো।” (আম্মু)
— “মামনি আমি এখানেই থাকি। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না।” (তুয়া)
— “এই শোন তুই আমার ছেলের বউ বলে তোকে আমাদের বাসায় আমি রাখি না। তুই আগে আমার মেয়ে,তারপর তুই আমার ছেলের বউ। তোর ভাল মন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদের। আর শোন, আমি তোর জল্লাদ শাশুড়ি হতে পারবো না। তবে ভুল করলে মার খাবি, এটা তো জানিস? আর এখন আমাকে একদম ববকাবি না।আর পিরিয়ড হলে কেমন লাগে, আমাকে তোর এসব তোর নতুন করে বোঝাতে হবে না। যা তুই রুমে যা।” (আম্মু)
— “মামনি এত রেগে যাচ্ছো কেন? আমি তোমার হাতে হাতে কাজ করে দিচ্ছি। তাহলে তারাতাড়ি হয়ে যাবে।” (তুয়া প্রত্যয়ের আম্মুকে জড়িয়ে ধরে)
— “এই প্রত্যয় আব্বু, তুই এখান থেকে তোর বউকে নিয়ে যা। তোর বউ আমার একটা কথাও শোনেনা। এই হলো একটা হাড়ে বজ্জাত আর ফাজিল মেয়ে। আব্বু রে তারাতাড়ি তোর বউকে নিয়ে যা। তা না হলে আমি কিন্তু তোর বউকে সত্যি সত্যি মারবো।” (প্রত্যয়ের আম্মু একটু জোরেই)

প্রত্যয় ড্রয়িংরুমে বসে ছিলো। দুজনের কথোপকথন প্রত্যয় শুনেছে। প্রত্যয় ওর আম্মুর কথা শুনে শুধু মুচকি হাসলো। কিন্তু কিছু বললো না। তবে যখন প্রত্যয়ের আম্মু কথায় কথায় প্রত্যয়কে বলে,”প্রত্যয় তোর বউ আমার একটা কথাও শোনেনা।” তখন “তোর বউ” এই দুইটা শব্দ শুনে প্রত্যয়ের মনে যে ঠিক কতটা কত ভাললাগা কাজ করে ।এটা কাউকে ভাষায় বলে বোঝানো যাবে না। তবে এই একমাসে বউ শাশুড়ির এমন খুনশুটি ঝগড়া প্রতিদিনই হয়। তুয়া যখন ভালো কিছু করে তখন প্রত্যয়ের আম্মু বলে “আমার মেয়ে”।আর যখন তুয়া কথা শোনে না, তখন প্রত্যয়ের আম্মু এভাবেই প্রত্যয়ের কাছে অভিযোগ করে। তবে প্রত্যয়কেও কিছু বলতে দেয় না। আর প্রত্যয়ও কিছু বলে না। শুধু বসে বসে ওদের কান্ড গুলো দেখে আর মুচকি হাসি দেয়।

সবাই ডায়নিং টেবিলে বসে আছে। প্রত্যয় ওর আব্বু দিকে তাকিয়ে বললো,”বাবাই আমাকে প্যারিসে যেতে হবে।” প্রত্যয়ের কথা শুনে সবাই ওর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। প্রত্যয়ের বাবা জানতে চাইলো,

— “কেন আব্বু, কোন সমস্যা? হঠাৎ প্যারিসে যাওয়ার কথা বলছো কেন?”(প্রত্যয়ের বাবা ভ্রু কুচকে)
— “না কোন সমস্যা নেই। আসলে ওখানে থেকে আমাকে ডাকা হয়েছে। আমাদের ব্যাচের সবাই ওখানে এ্যাটেন্ড করতে হবে।‌ এজন্য কিছু দিনের জন্য আমাকে ওখানে যেতে হবে।” (প্রত্যয়)
— “ওহ! তাহলে আব্বু এক কাজ কর, তুয়াকেও সাথে নিয়ে যা। তুয়ারও জায়গাটা দেখা হয়ে যাবে। আর তোর কাজটাও হবে।” (আম্মু)
— “আচ্ছা আম্মু।” (প্রত্যয় যেন এই কথাটা শোনারই অপেক্ষায় ছিলো )
— “ওমা ওখানে আমি আবার কি করতে যাবো?ওখানকার কোনকিছুই তো আমি চিনি না জানি না। আর তোমাদের একা রেখে আমি যাবো না। কোথাও গেলে আমার ঘুম আসে না।” (তুয়া)
— “ওরে আমার পন্ডিতী আম্মাজান রে! আপনাকে আমাদের নিয়ে ভাবতে হবে না। আপনি গিয়ে ঘুরে আসুন। আর তোকে আমি এমনি এমনি যেতে বলছি না, তোকে তো পাঠাচ্ছি আমার ছেলের খেয়াল রাখার জন্য।” (প্রত্যয়ের আম্মু)
— “হুহ আমার বয়েই গেছে তোমার বাচ্চা ছেলের খেয়াল রাখতে।” (তুয়া মুখ ভেংচি দিয়ে)

প্রত্যয় খাওয়া বন্ধ করে তুয়ার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।তুয়াকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যয় অধীর আগ্রহে বসে আছে। আর তুয়া প্রত্যয়ের ইচ্ছেতে এক বালতি পানি ঢেলে বসে থাকলো। এই মেয়ে ওকে বাচ্চা ছেলেও বললো। তুয়ার খোঁচা কথা শুনেও প্রত্যয় আর কথা বাড়ালো না। সময় আর সুযোগ বুঝে না হয় এর উত্তরটা তুয়াকে বুঝিয়ে দেওয়া যাবে। তুয়া মুখেই যত বাহানা করুক। প্রত্যয় জানে তুয়া প্রত্যয়ের আব্বু আম্মুর কথা অমান্য করবে না। সারাদিন মিলে এই দুই শাশুড়ি বউমা মিলে খুনশুটি ঝগড়া করে। আবার মিলে হয়ে যায়। দুজনে মিলে শপিং করা, ঘুরতে যাওয়া, ফুচকা খাওয়া, ইচ্ছে করে ঝগড়া করা এসব ওদের নিত্যদিনের কাজ। আগে থেকেই তুয়ার সাথে প্রত্যয়ের আম্মুর সম্পর্কটা অনেক ভালো ।কিন্তু তুয়া আর প্রত্যয়ের বিয়ের পর তুয়া আর প্রত্যয়ের আম্মুর সম্পর্কটা আরো মজবুত হয়েছে। আর তুয়া যাতে মন খারাপ করে না থাকে, কষ্ট যাতে না পায় এজন্য উনিও তুয়াকে সব সময় চোখে চোখে রাখে। প্রত্যয় নিজে ওর আম্মু কে বলেছিলো যাতে উনি তুয়াকে এভাবে আগলে রাখে। কারণ মায়ের মত করে কেউই পারে না ছেলে মেয়েদের আগলে রাখতে। আর মা তো মা ই হয়। প্রত্যয়ের কথা শুনেই প্রত্যয়ের আম্মু আরো বেশি করে তুয়াকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

প্রত্যয় আর কোন কথা না বলে ওর খাওয়াতে মনোযোগ দিলো। তুয়া কিছু করলে প্রত্যয়ের আম্মু প্রত্যয়ের কাছে অভিযোগ দেয়। আর প্রত্যয়ের আম্মু কিছু করলে তুয়া প্রত্যয়ের আব্বুর কাছে অভিযোগ দেয়। আর প্রত্যয়ের আব্বু তুয়ার কথা শুনে প্রত্যয়ের আম্মুকে বকে দেয়।তখন প্রত্যয় গিয়ে ওর আম্মুর মান ভাঙ্গায়। এভাবেই সবাই মিলে মিলে একসাথে থেকে ওদের দিন গুলো কাটছে। প্রত্যয়ের আব্বু, আম্মু আর তুয়া বকবক করছে। আর প্রত্যয় চুপ করে ওদের কথা শুনছে। হঠাৎ করে তুয়া তখন ফট করে বললো,

— “ভাল বাবা তোমার বউ একটা অন্যায় করেছে আমার সাথে। তুমি এর বিচার করো?”
— “কি ব্যাপার মিথিলা, তুমি আমার আম্মুর সাথে কি অন্যায় করেছো?” (আব্বু)
— “আমি আবার কি করলাম, কখন করলাম?” (প্রত্যয়ের আম্মু অবাক হয়ে তাকিয়ে)
— “ভাল বাবা তোমার কিপ্টুশ বউ কালকে আমাকে নিয়ে শপিং করতে নিয়ে গিয়েছিলো। তো আমি খুব সুন্দর একটা টপস পছন্দ করেছিলাম। কিন্তু তোমার বউ আমাকে কিনে দেয়নি। কত করে বললাম তাও কিনে দিলো না। জানো এজন্য আমি কত কষ্ট পেয়েছি? এই কষ্টে আমি তো রাতে ঠিকমত ঘুমাতেও পারিনি। বলো আমার মত মিষ্টি মেয়ের সাথে কি এমন অন্যায় করা ঠিক হয়েছে?” (তুয়া)
— “না না মোটেও ঠিক হয়নি। এটা তো অনেক বড় অন্যায় করেছে সে। তবে মিথিলা দেয়নি তো কি হয়েছে? আমি তোকে কিনে দিবো কেমন।” (প্রত্যয়ের আব্বু মাথা নাড়িয়ে)
–‌ “আগে পাক্কা প্রমিস করো। পরে তুমিও পাল্টি খেতে পারো।” (তুয়া)
— “পাক্কা প্রমিস।” (আব্বু হেসে)
– “আচ্ছা ভাল বাবা শোনো। টপস না তুমি বরং আমার সুন্দর একটা শাড়ি কিনে দিবা। শশুড়ের থেকে টপস নেওয়াটা উচিত হবে না। যতই আমি ডিজিটাল যুগের মেয়ে হয় না কেন? শশুড়ের থেকে টপস নেওয়াটা শোভনীয় নয়। আর আমি তো তোমার লক্ষী বউমা বলো?” (তুয়া)
— “হা হা হা! কে বললো, আমার আম্মুর মাথায় বুদ্ধি নেই। আর তুই একদম ঠিক বলেছিস, তুই হলি আমার ঘরের লক্ষী বউমা।আমার রাজপুত্রের রাজরাণী তুই।” (আব্বু)

প্রত্যয়ের আম্মু এসব কথা শুনে প্রত্যয়ের আব্বুকে হুমকি দিয়ে বলে দিলো,”শুধু তুয়ার জন্য শাড়ি আনলে, তোমার কপালে দুঃখ আছে।” প্রত্যয়ের আম্মু এমন কথা শুনে তুয়া আর প্রত্যয়ের আব্বু হো হো করে হেসে দিলো। আর শশুড় বউমা মিলে হাইফাইভ করলো। প্রত্যয়ের আম্মু ওদের হাসি দেখে মুখ ভেংচি দিলো। আর ছোট বাচ্চাদের মত উনিও ঝগড়া করতে শুরু করলো। তুয়া আর প্রত্যয়ের আব্বু কথায় কথায় প্রত্যয়ের আম্মুকে রাগিয়ে দিচ্ছে। আর প্রত্যয়ের আম্মু রেগে বোম হয়ে যাচ্ছে। আর উনি রেগে গেলে তুয়া আর প্রত্যয়ের আব্বু হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। প্রত্যয় এতক্ষণ চুপ করে থাকলেও, তুয়াদের হাসি দেখে প্রত্যয়ও এবার হেসে ফেললো।

আজকে প্রিয়মের মডেলিং শো আছে। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে মনিং ওয়ার্কের জন্য বের হয়ে গেল। রিমন এখন প্রিয়মের সাথেই থাকে। এত কিছুর পরেও প্রিয়মকে স্বাভাবিক হতে থাকতে দেখে রিমন মাঝে মাঝে খুব অবাক হয়। তবে আগের প্রিয়ম আর এখনকার প্রিয়মের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। আগের প্রিয়মের মাঝে চঞ্চলতা বিরাজ করতো। আর এখনকার প্রিয়মের মাঝে সব সময় গম্ভীরতার চিহ্ন ফুটে ওঠে। রিমন আর প্রিয়ম দুজনেই হাঁটছে, হঠাৎ রিমন প্রিয়মের দিকে তাকিয়ে বললো,”নিজেকে আর কত লুকিয়ে রাখবি তুই?” রিমনের কথা শুনে প্রিয়ম একবার রিমনের দিকে তাকালো। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো।

To be continue….

(আমি খুব ব্যস্ত আছি। এজন্য রেগুলার গল্প দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।সরি )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here