বুকের_বা_পাশে 🌿🌿 #written_by_Nurzahan_akter_allo #Part_35

0
71

#বুকের_বা_পাশে 🌿🌿
#written_by_Nurzahan_akter_allo
#Part_35

প্রিয়ম কথাটা বলে দৌড়ে ওখান থেকে সরে যায়। তুয়ার এমন আত্মচিৎকার প্রিয়ম সহ্য করতে পারছেনা। তুয়ার এক একফোঁটা চোখের পানি। প্রিয়মের বুকের ছুড়ির আঘাতে মত বিঁধছে। এজন্য প্রিয়ম ওখান থেকে চলে গেল। প্রিয়মের এভাবে যাওয়া দেখে, রিমনও দৌড়ে গেল প্রিয়মের পেছন পেছন।

প্রত্যয় গিয়ে তুয়ার পাশে বসলো। তুয়ার মাথায় হাত রাখতেই, তুয়া প্রত্যয়ের বুকের শার্ট খামছে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। উপস্থিতি সবার চোখে অশ্রু ঝরছে। প্রিয়মের আব্বু আম্মু হনহন করতে করতে চলে গেল।ড্রয়িংরুম থেকে আস্তে আস্তে সবাই চলে গেল। তুয়া প্রত্যয়ের বুকেই মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। প্রত্যয়ের চোখ থেকেও অশ্রু ঝরছে। প্রত্যয় মাথাও যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।প্রত্যয় বার বার তুয়াকে থামতে বলছে। কিন্তু তুয়া কেঁদেই যাচ্ছে। প্রিয়ম তুয়ার চোখের পানি সহ্য করতে পারছিলো না।তাই প্রিয়ম চলে গেল। কিন্তু প্রত্যয় এখন কি করবে? তুয়াকে এমনভাবে কান্না করতে দেখে প্রত্যয়ের বুকের ভেতর যে তোড়পাড় শুরু হয়েছে। এটা ও কাকে বলবে? প্রত্যয় তুয়াকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে ওর বুকের সাথে। তুয়া কাঁদতে কাঁদতে একটা সময় সেন্সলেস হয়ে যায়।

প্রত্যয় তুয়াকে কোলে তুলে ওর রুমে নিয়ে গেল। দ্রুত পানি এনে তুয়ার মুখে পানির ছিটা দিলো। একটুপর তুয়ার সেন্স ফিরে আসে। প্রত্যয় তুয়াকে পানি খাইয়ে দেয়। তুয়াকে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করে দেয়। এখন তুয়া জেগে থাকলেই কান্নাকাটি করবে। তাই তুয়ার ঘুমানো টাই বেটার।এজন্য প্রত্যয় তুয়াকে ঘুমের ইনজেকশনটা দিলো। তুয়া কয়েক মিনিটের ঘুমের দেশে পাড়ি দেয়। প্রত্যয় তুয়ার কপালে আদর দিলো। আর সাথে সাথে ঝরঝর করে প্রত্যয়ের চোখের পানি তুয়ার কপালে পড়লো। প্রত্যয় তুয়ার হাত ধরে বললো,

–“আমি তোকে এত কষ্ট পেতে দেখতে পারবো না। আমি পারবোনা স্বার্থপর হতে। তোকে যে বড্ড বেশি ভালবাসি রে তুয়া। এজন্য তোর কষ্ট পাওয়াটা যে আমিও সহ্য করতে পারছিনা। তোরা ভাল থাক,আমি তোর ভালোর জন্য সব করতে পারি। আর তোদের এত কষ্ট পেতে দেখতে পারবো না। তোর এমন আত্মচিৎকার আমি আর পারছি না সহ্য করতে, আর পারছিনা।” (প্রত্যয় কেঁদে দিয়ে)

প্রত্যয় ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিলো।তারপর তুয়ার কপালে একটা আদর দিয়ে রুম থেকে চলে গেল। প্রত্যয় প্রিয়মের কাছে গেল। রিমন পারছেনা প্রিয়মকে সামলাতে। প্রিয়ম পুরো ফ্ল্যাটের জিনিস ভেঙ্গে চুরে চূর্ন বিচূর্ন করে ফেলেছে। তারপর ক্লান্ত হয়ে হাটু গেড়ে দুই হাতে মুখ ঢেকে কাঁদছে। রিমনও কাঁদছে প্রিয়মের এই অবস্থা দেখে।প্রত্যয় এসে প্রিয়মের কাঁধে হাত রাখে। প্রিয়ম প্রত্যয়ের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো। প্রত্যয় প্রিয়মের হাত ধরে অন্য রুমে নিয়ে গেল। প্রত্যয় প্রিয়মের মুখোমুখি বসে বললো,

–“প্রিয়ম তুয়াকে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করো। আমি সব ম্যানেজ করবো।” (প্রত্যয়)

–এই পথ আর খোলা নেই ভাই। আমি তুয়াকে আমার লাইফে আর জড়াবোনা।” (প্রিয়ম চোখের পানি মুছে)

–“আমি তোমাদের মাঝে থেকে সরে যাবো বিনাবাক্যে।তোমরা কষ্ট পেও না। আমি তোমাদের কষ্ট পেতে দেখতে পারছিনা।” (প্রত্যয় ধরা গলায়)

–“এটা হয় না ভাই। এটা সিনেমা না,আমাদের রিয়েল লাইফ । আমাদের লাইফের এই জটিল সমস্যা গুলোর এত সহজে সমাধান হওয়া সম্ভব না। আর তুয়া এখন আপনার বিয়ে করা ব ব ব বউ।” (প্রিয়ম)

–“তুমি যেমন তুয়ার মুখের হাসিটা দেখতে চাও। তেমনি আমিও। আমি ওর সুখের জন্য আমার প্রান বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করবোনা। প্রিয়ম আবার নতুন করে শুরু করো তোমরা।আমি মন থেকে তোমাদের সাপোর্ট করবো।” (প্রত্যয়)

–“ভাই ভাগ্য বলে কিছু একটা আছে। অনেকে বলে চাওয়া যদি পবিত্র হয়,সেই জিনিসটা নাকি একদিন না একদিন পাবোই। আমার মনে হয়, শুধু চাওয়া পবিত্র হলে হয় না,ভাগ্যের জোরও থাকতে হয়। আমি আর আমার জীবনের সাথে কাউকে জড়াবো না। আপনি আমাকে নিয়ে টেনশন করবেন না। আমার #বুকের_বা_পাশে যত্ন করে রাখা জানপাখিটাকে আমি আপনাকে দিলাম। আপনি একটু দেখে রাখবেন ভাই,খুব খুব দুষ্টু কিন্তু পাখিটা। আপনাকে আমি কখনো প্রতিদ্বন্দী ভাবিনি ভাই। আপনাকেও আমি ভাইয়ের মতো ভালবাসি। আপনার কাছে আমার প্রানভোমরা দিয়ে গেলাম। আমি জানি আপনি স্বযতনে আগলে রাখবেন। তবুও বলছি,তুয়া আগে আমার ছিলো। কিন্তু এখন সে আপনার। আমার আর কোন দাবি বা কোনো অভিযোগ নেই তুয়া উপর। আর কখনো এসব কথা বলবেন না ভাই।” (প্রিয়মের প্রত্যয়ের দিকে তাকিয়ে)

–” প্রিয়ম জেদ, রাগ আর অভিমান এই তিনটে মারাত্মক ভাবে আমাদের ক্ষতি ডেকে আনে। প্লিজ তুমি বোঝার চেষ্টা করো।” (প্রত্যয়)

–“ভাই উপর ওয়ালা আমাদের জোড়া লিখে রাখেনি। এজন্য আমাদের মিল হয়নি। আমার বুকের বা পাশে তুয়ার নাম লিখা থাকলেও,আমার বা পাজরের হাড় দিয়ে তুয়া তৈরী না।আর তুয়ার প্রতি আমার কোনো অভিমান নেই। তুয়ার জায়গায় যে কেউ থাকলে এমনটাই করতো। আমার প্রতি আপনার মনে যদি বিন্দু মাত্র জায়গা থাকে। আর সেই জায়গায় কোন সহানুভূতি থাকে। সেই সহানুভূতির কসম আর এসব বলবেন না।” (প্রিয়ম)

প্রত্যয় প্রিয়মের দিকে শুধু তাকিয়ে আছে। প্রত্যয় উঠে প্রিয়মকে জড়িয়ে ধরে। প্রিয়ম চোখ মুছে, মুচকি হেসে প্রত্যয়কে জড়িয়ে ধরে। প্রত্যয় আর প্রিয়মের মাঝে আরো ঘন্টা ঘানিক কথা হয়। প্রিয়ম প্রত্যয়ের হাতে একটা চিঠি দেয় আর তুয়াকে দিতে বলে। প্রত্যয় প্রিয়মকে বুঝিয়েছে। কিন্তু প্রিয়ম ওর সিদ্ধান্ত থেকে এক বিন্দু পরিমান নড়েনি। তাই প্রত্যয় রিমনকে প্রিয়মের খেয়াল রাখতে বলে ওখান থেকে চলে আসে।

প্রিয়ম নিজেকে সামলে নিচ্ছে। আর সামলাতে তো ওকে হবেই। প্রিয়ম ভেঙ্গে পড়লে তুয়া কিছুতেই প্রত্যয়ের সাথে স্বাভাবিক হবেনা। প্রত্যয় মুখে যত কথায় বলুক, ওর ভেতরে যে কি ঝড় উঠেছে। সেটা প্রিয়ম খুব সহজেই ধরতে পেরেছে।একই পথের পথিক বলে হয়তো। তবে প্রিয়ম আজকে অনেক কথা প্রত্যয়কে বলেছে। আর প্রিয়মের যুক্তি দিয়ে বলা কথাগুলো প্রত্যয়ও মেনে নিয়েছে।

পরদিন বিকালে ____!!

প্রত্যয়, প্রিয়ম আর রিমন এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে আছে।যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। তাই প্রিয়ম প্রত্যয়কে জড়িয়ে ধরে বললো,

–“তুয়াকে স্বাভাবিক করতে যা করা লাগে। আপনি তাই করবেন। ওর প্রতি এখন শুধু আপনার অধিকার। আর হ্যা আমি কিন্তু খুব শীঘ্রই গুড নিউজ চাই। এটা আমার আবদার অথবা দাবি যাই বলেন। আচ্ছা ভাই ভালো থাকবেন, ফোনে কথা হবে।আজকে আসি।” (প্রিয়ম)
–“হুম সাবধানে যেও,নিজের খেয়াল রেখো।” (প্রত্যয়)

প্রিয়ম প্রত্যয়কে জড়িয়ে ধরে মুচকি হেসে প্রত্যয়ের থেকে বিদায় নেয়। প্রিয়ম আর রিমন সামনে এগিয়ে গেল। আর প্রত্যয় ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকলো। প্রিয়ম সুইজারল্যান্ড চলে গেল,সাথে রিমনও গেল। তুয়ার সব দায়িত্ব প্রত্যয়কে দিয়ে, প্রিয়ম এদেশ থেকে অন্যদেশে পাড়ি দিলো। প্রত্যয় এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে বাসায় চলে এলো। তুয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো। প্রত্যয় এসে তুয়াকে প্রিয়মের দেওয়া চিঠিটা দিলো। তুয়া কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা খুললো,

“এই টুপারাণী”

শোন একদম আর কাদবি না। কাঁদলে তোর নাক দিয়ে সর্দি বের হয়,ছিঃ ইয়াক। আমি বাবা বেঁচে গেছি তোর মতো সর্দিওয়ালীকে আমার বিয়ে করতে হয়নি। কিন্তু আহারে বেচারা প্রত্যয় ভাই। আচ্ছা শোন, তোর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। তোকে এই রহস্য গুলো যেভাবে অক্টোপাসের মত চারদিকে থেকে চেপে ধরেছিলো। তোর জায়গায় আমি থাকলে আমিও এমনটাই করতাম। তোর উপরে কোনো রাগ, বা অভিমান আমার নেই। তবে একটা চাওয়া আছে, আর আমার চাওয়াটা তোকে পূরণ করতেই হবে। তোর সব সিদ্ধান্ত যেমন আমি মেনে নিয়েছি। তেমনি আমিও আজকে তোকে অর্ডার বা আবদার করছি। তুয়া আমাকে যদি বিন্দু পরিমান ভালবেসে থাকিস। তাহলে আমার কথা রাখিস। প্রত্যয় ভাইকে কোনদিন কষ্ট দিস না।ভাই তোকে পাগলের মতো ভালবাসে। ভাইয়ের সাথে স্বাভাবিক হয়ে একে অপরের পরিপূরক হয়ে থাক। ভাই তোকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসে। এজন্যই তোর সব বোকামি গুলো মুখ বুজে সহ্য করেছে। প্রত্যয়ের ভাইয়ের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে, এসব রহস্যের মোড় আর ভয়ংকর রুপ ধারন করতো। আর টেনশন করিস না। আমি আমার মতো করে সব গুছিয়ে নিবো। তবে এটাই মনে রাখিস, তোর কাছে চাওয়া আমার শেষ আবদারটার কথা। আর আমি খুব তারাতারি একটা গুড নিউজ চাই। কি রে দিবি তো? অনেক কথা বলে ফেললাম। এবার শোন এখন নিজেকে সামলে নে।আমাদের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেগুলো মনে গেঁথে রাখলে হয় না। সব কিছু ভুলে নতুন করে শুরু কর, কি রে আমার আমার চাওয়াটুকু পূরণ করবি তো? এবার প্রত্যয়ের ভাইয়ের লক্ষী বউ হয়ে দেখা। তোর স্বাভাবিক হওয়া কথা শুনলেই আমি আমার উত্তর পেয়ে যাবো। তোকে আলাদা করে কিছু বলতে হবে না। আমিও আশায় থাকলাম, এর উত্তর কবে পাবো সেই দিনের। ভাল থাকিস,আর সবাইকে ভাল রাখিস…!!

প্রিয়ম

তুয়া চিঠিটা পড়ে কয়েকবার শুকনো ঢোক গিললো। প্রত্যয় তুয়ার মুখপানে চেয়ে আছে। তুয়া চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে কয়েকবার নিঃশ্বাস নিলো। প্রত্যয় তুয়ার মুখের দিকেই চেয়ে আছে। তুয়া চোখ খুলে প্রত্যয়ের দিকে তাকায় আর ভুবন ভুলানো একটা হাসি দেয়। প্রত্যয় এখনো ভ্রু কুচকে তুয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। তুয়া খিলখিল করে হেসে প্রত্যয়ের নাক টেনে দিয়ে চলে গেল। আর প্রত্যয় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। তুয়া প্রত্যয়ের জন্য কফি করে আনলো। প্রত্যয় হাত বাড়িয়ে কফির মগটা নিতে যাবে, তখন তুয়া দিলো না। বরং প্রত্যয়কে মুখ ভেংচি দিলো। তুয়া কফির মগে দুইবার চুমুক দিয়ে প্রত্যয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,

–“ডক্টর সাহেব এবার থেকে আমার এটো খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। এই নিন কফি খান,এবার খান।”
–(প্রত্যয় কিছু বললো না)
–“আচ্ছা শোনো, আমি একটু আমাদের বাসায় যাচ্ছি। তুমি কি এখন বাসায় থাকবে, নাকি বের হবে?” (তুয়া)
–“আমি বাসাতেই থাকবো, তুই যা। আর বেশী দেরি করবি না।” (প্রত্যয়)
–“আচ্ছা।”

তুয়া গুনগুন করতে করতে চলে গেল। আর প্রত্যয় তুয়ার যাওয়া দিকে তাকিয়ে থাকলো। তুয়া যে নিজেকে স্বাভাবিক করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। প্রত্যয় যে বোকা তুয়ার অভিনয়টাও ধরে ফেলেছে। ওইদিকে তুয়া সিঁড়ি উপর থেকে গলা ফাটিয়ে ওর আম্মু ডাকতে ডাকতে বাসায় যাচ্ছে। এতদিন পর তুয়ার আম্মু আবার আগের সেই তুয়াকে দেখছে। তুরাগের বাসায় এখনো মেহমান আছে। তুয়ার আম্মু তুয়াকে স্বাভাবিক দেখে স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।তুয়া গিয়ে তিন্নিকে খোঁচাতে শুরু করলো।

–“এই তিন্নি কালকে রাতে কি কি করলি রে?”
–“কালকে থেকে তোর দেখা নেই। আর তুই এখন এসে এসব জিজ্ঞাসা করছিস। কুত্তি তুই আসলেই খুব খারাপ।” (তিন্নি)
–“ভাই তোমার বউ রাগ করেছে। একটা পাপ্পি দিয়ে যাও। “(তুয়া খিলখিল করে হেসে)
–“অসভ্য একটা ফাজিল মেয়ে।” (তিন্নি)
–“তারপর বল বল কালকে রাতে কি কি হলো?” (তুয়া)
–“তুই কি ভুলে যাচ্ছিস আমি তোর ভাবি? এসব কথা কেউ জিজ্ঞাসা করে?”
–“এখন তুই আমার বেস্টু। তাই আমাকে বলতেই পারিস।” (তুয়া)
–“তাই না, ফাজিল মেয়ে।” (তুরাগ তুয়ার কান টেনে)
–“উহু সরি সরি ভাইয়া আর বলবো না। এবার কান ছাড়ো ভাইয়া, প্লিজ প্লিজ।” (তুয়া)

একটুপরে, ড্রয়িংরুমে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে। আজকে অনেকদিন পর এমন আড্ডার আসর বসেছে। তুয়া আর তুরাগের দুষ্টুমি ফিরে এসেছে। তুয়ার হাসির খিলখিল করে হাসিতে বাসাটাও যেন প্রান ফিরে পেয়েছে। তুরাগের ফোন থেকে তুয়া প্রত্যয়কে ফোন করে ওদের বাসায় আসতে বলে।প্রত্যয় তুয়াদের বাসায় যায় আর আড্ডাতে মেতে উঠে।মিথিরা কালকে রাতেই চলে গেছে। কাল রাতের ঘটনা কেউই জানেনা। এমনকি তুরাগ আর তিন্নিও না। তুয়া কাবাবে একটা কামড় বসিয়ে,

—“আহ উ উ কি গওম।” (মুখে নিয়ে)
–“আগে একটু ঠান্ডা হোক,তারপর খা।” (প্রত্যয়)
–“তাহলে তো হতোই। প্রত্যয় তুমি একটা রাক্ষসীকে বিয়ে করেছো। এটাও এখন হারে হারে টের পাবে। শুধু ওর খাওয়ার জন্যই, আমরা বিসনেসে এত এত লাভ করেও ওর খাওয়ার বিল মিটাতে গিয়ে গরীব হয়ে যাই। তাহলে চিন্তা করো।” (তুরাগ গালে হাত দিয়ে)
–“তাহলে এমন পেটুক কে আমাকে গলায় ঝুলিয়ে দিলেন কেন ভাইয়া?” (প্রত্যয় মুচকি হেসে)
–“তোমার গলায় না ঝুলালে আমরা এই হাতির হাত থেকে মুক্তি পেতাম কি করে?” (তুরাগ)
–“ভাইয়া!!!!!! ”

এর পর শুরু হয়ে গেল দুই ভাই বোনের যুদ্ধ। তুয়ার আব্বু আম্মু ড্রয়িরুমে এসে দেখে যুদ্ধ লেগে গেছে।তু য়া তুরাগের চুল ধরে টানছে, আর তুরাগ চিৎকার করছে। আর বাকিরা হো হো করে হাসছে। তুয়ার আব্বু এসে তুয়াকে থামালো। তুয়া ওর আব্বু দিকে তাকিয়ে বললো,
–“আব্বু তোমার ছেলেকে নিষেধ করো, আমাকে এসব বলতে?” (ঠোঁট ফুলিয়ে)
–“এই তুরাগ আব্বু তুমি আমার আম্মুকে কি বলেছো?”
–“আমি তেমন কিছু বলিনি আব্বু। আমি শুধু বলেছি তুয়া রাক্ষসী,হাতি, আর পেটুক এসবই বলেছি।” (তুরাগ)
–“দেখছো আব্বু আবার হাসছে গরুর মতো দাঁত বের করে।” (তুয়া দাঁত বের করে)
–“আম্মু ওর কথায় কান দিস না তুই ৷ যত পারিস খা।”
–“না না আংকেল এসব বলবেন না। তখন খেয়ে খেয়ে কুমড়ো পটাশ হয়ে যাবে। তখন আমি এমন কুমড়ো পটাশকে নিয়ে বের হতে পারবো না। আমার তখন লজ্জা লাগবে।” (প্রত্যয়)

তুয়া অসহায় দৃষ্টিতে ওর আব্বু দিকে তাকালো। তুয়ার আব্বু তুয়ার ফেস দেখে হেসে দিলো। বাকিরাও মুখ টিপে টিপে হাসছে। প্রত্যয় বসে বসে তুয়ার কর্ম কান্ড গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। প্রত্যয় ওর নিজের খারাপ লাগাকে পাশে রেখে, দিব্যি মুখে হাসি ফুটিয়ে সবার সাথে কথা বলছে। এখন এমন একটা পরিস্থিতি চাইলোও আপাতত কিছু বলার ভাষা নেই।এদিকে তুয়া ঠোঁট উল্টে হনহন করতে করতে ওর আম্মুর কাছে চলে গেল। আর বাকিরা হো হো করে হেসে দিলো।তুয়ার আম্মু রান্না ঘরে রান্না করছিলো। তুয়া গিয়ে ওর আম্মু কে জড়িয়ে ধরলো। তুয়ার আম্মু পেছন ফিরে, তুয়ার কপালে একটা আদর দিয়ে ধরা গলায় বললো,

–“আম্মু রে তুই আমার মেয়ে। আর আমি তোর মা। আমার কলিজার টুকরো তুই, আমার কাছে নাই বা অভিনয় করলি।”(তুয়ার আম্মু)

To be continue…!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here